‘ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে’

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ মিটার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মিসেস আমিনা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, সুপেয় পানি ও কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর অধিকহারে নির্ভরশীলতার কারণে ইতোমধ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ মিটার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে।

তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নলকূপে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পাওয়া যায় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে জেলা পরিষদের পুকুর, দীঘি,জলাশয়সমূহ পুনঃখনন,সংস্কার’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৮০৯টি পুকুর পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় জেলা পরিষদের ১৪৩টি পুকুর পুনঃখনন করা হবে।

তিনি বলেন, এ সব পুকুর পুনঃখনন করে পানি ‘পন্ড স্যান্ড ফিল্টার’ পদ্ধতিতে সরবরাহের মাধ্যমে দেশের সকল জেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভূ-উপরস্থ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, এ জলাধারসমূহের পানি ভূ-স্তরে প্রবেশ করে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর উন্নতিতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় পানির সংকট দূর করার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার ও পাতকুয়া ব্যবহারে জনসাধারণকে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ রাজধানী ঢাকায় শতকরা ৭০ ভাগ পানি ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসা এ লক্ষ্যে তিনটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ নামে একটি পানি শোধনাগার চালু করেছে। ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎসের নির্ভরতা কমে শতকরা ৫৫ ভাগ থেকে শতকরা ২০ ভাগ হয়েছে। বর্তমানে আরও ৩টি ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দৈনিক ২শ’ মিলিয়ন লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রাজশাহী ওয়াসার ‘ভূ-উপরস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহী ওয়াসায় ১শ’ ভাগ ভূ-উপরস্থ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘খুলনা পানি সরবরাহ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ