পুঁজিবাজার: ধস থেকে বিকাশের শক্তি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুঁজিবাজার: ধস থেকে বিকাশের শক্তি

‘মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে’।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই অমর পংক্তি পুঁজিবাজারেও এক দারুণ সত্য ও শক্তি হয়ে দেখা দিয়েছে যুগে যুগে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও শেয়ারবাজারের বিপর্যয়ের কালো মেঘ থেকে বের হয়ে এসেছে নতুন এক সোনালী বাজার।

আমাদের পুঁজিবাজারে বড় দুইটি বিপর্যয় হয়েছে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে। দুটি পর্বেই বাজারের টানা প্রবল উর্ধগতির পর হঠাৎ বাবল ফেটে গিয়ে ধস নেমেছে। অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন মহলের ব্যাপক সমালোচনায় নাকাল হয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা। সব দেখেশুনে মনে হয়েছে, বাজার বোধহয় আর কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু একটু সময় নিলেও ব্যাপক পরাক্রমের সঙ্গে বাজার আবার নিজ গতিতে ফিরে এসেছে।

siddikur

এস.আর. ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান।

৯৬’ এর ধসের পর বাজারে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন পদ্ধতি (Automated Trading)  চালু হয়; যেখানে কম্পিউটারবেজড পদ্ধতিতে শেয়ার কেনা-বেচা হয়। এর আগে বাজারে ক্রাই-আউট (Cry-Out) পদ্ধতিতে লেনদেন হতো। অটোমেশনের কিছুদিন পর বাজারে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি সিস্টেম (সিডিএস) চালু হয়। ছিয়ানব্বুইয়ে সৃষ্ট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারে সংস্কারের অংশ হিসেবেই এসব আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়।

অন্যদিকে ২০১০ সালের ধসের পর আমাদের বাজারে ডি-মিউচুয়ালাইজেশন নামের বড় কাঠামোগত সংস্কার হয়। এর মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আইন-কানুনে সংস্কার ও নতুন কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। ভিত্তি সৃষ্টি হয় নতুন নতুন পণ্য চালুর।

তাই বর্তমান বাজারের ধীর গতিতে হতাশ না হয়ে নতুন আশায় বুক বাধা উচিত। কারণ বাজারের এই ধীর গতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজার শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি এক সময় দুর্দান্ত গতিতে ছুটবে। এই ছোটা শুধু শেয়ারের দর বৃদ্ধিতে নয়, বরং নতুন নতুন পণ্যের হাত ধরে লেনদেনের এক উচ্চতর ধাপের দিকে যাবে বাজার।

আমাদের দেশে ২টি স্টক এক্সচেঞ্জ আছে। এই দুটি স্টক এক্সচেঞ্জই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৫২ সালের প্রথম দিকে। প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ ১৯৫৬ সালে , চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৯৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ২০০৪ সালে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি লিমিটেড (সিডিএল) গঠিত হয়। জাতীয় সংসদে অনুমোদিত বিভিন্ন আইন ও বিএসইসি প্রণীত বিভিন্ন বিধিমালার আওতায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালিত হয়।

ডিএসইর সামনে থেকে তোলা। ফাইল ছবি

প্রথম দিকে ডিএসইতে কয়েকজন সদস্যের মাধ্যমে সামান্য কজন বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে বাজারে শেয়ার কেনাবেচা হত। তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ছিল আঙুলে গোনা। লেনদেনের পরিমাণ ছিল নগন্য। এমতাবস্থায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য সংখ্যা ও বিনিয়োগকারী ছিল খুবই নগন্য এবং উভয় স্টক এক্সচেঞ্জই ক্রাই আউট সিস্টেমে ট্রেডিং হত। ১৯৯৬ সালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, ডাক্তার, আইনজীবি, ব্যাংকার, ছাত্র, যুবক-যুবতী, গৃহীনি-কারো কাছেই শেয়ারবাজার তেমন পরিচিত ছিল না। এটি যে বিনিয়োগের একটি চমৎকার জায়গা, শিল্পের অর্থায়নের একটি সাশ্রয়ী উৎস সে সম্পর্কে ধারণা ছিল না। ছিয়ানব্বুই এর অস্বাভাবিক উর্ধগতি এবং ধস পরবর্তী ঘটনা প্রবাহে শেয়ারবাজার সবার নজরে আসে। আর এর মধ্য দিয়েই বাজার বিকাশের ক্ষেত্র তৈরি হয়।

২০০৪ সালে সিডিবিএল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম বছর শেষে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৬৩৪৭ জন। প্রায় ১০ বৎসর পর শেয়ার বাজারে গতি ফিরে আসে ২০০৬ সালের শেষের দিকে এবং ধীরে ধীরে বাজার ভালর দিকে যাচ্ছে বিধায় বাজারে বিনিয়োগকারী আসা শুরু করে। আবারো বাজারে বড় ধরনের ধ্বস নামে  ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে। বর্তমানের সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বড় ধরনের ধ্বসের ফসল। গ্রামে গঞ্জে মুরুব্বীরা বলে থাকেন যে বছর খুব বেশী বন্যা হয় তার পরের বছর ফসল হয় খুব বেশি। বিজ্ঞানীদের মতে প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ বড় ভূমিকম্পের কথা এখনও ভুলে নাই। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বিনিয়োগকারী ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বাজারের ধ্বস ভুলে নাই, ভূলবেও না। প্রচারেই প্রসার ইহা যে প্রকারেরই হোক শেয়ারবাজারে ধ্বসের কারণে প্রসার অথবা ডাকাতি করে আউলিয়া হওয়ার সুনাম। এটি আজ প্রমাণিত ধ্বসের প্রচারের কারণেই আজকের সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার।

অর্থসূচক আয়োজিত পুঁজিবাজার মেলার একটি স্টলের সামনে ছিড়। ফাইল ছবি

১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজার পতনের সময় বাজারের অবস্থান-

 বাজার পতনের সময় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।

 ১৯৯৬ সালে নভেম্বর মাসে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ছিল- ২১৮৩৭,৫৮,২৩,৮৩৩ কোটি টাকা। (২০১৬ সালে  নভেম্বর মাসে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ছিল- ৩৩২৮৮১,৪০,২৫,৯৮৪ কোটি টাকা।)

 ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ছিল- ১৩৯টি

 সূচক ছিল ৩৬৪৯ পয়েন্ট

 

১৯৯৬ এর পতনের কারণ:

 গুজব আক্রান্ত ও মুনাফালোভীদের চক্রান্তের জালে বিদ্ধ ছিল পুঁজিবাজার।

 অমনিবাস হিসাব

 অভিনব কৌশল, নতুন উদ্ভাবনী ও লোভের ফাঁদ তৈরি করে ঘটানো হয়েছে শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারী।

 বিদেশি পোর্টফোলিও এর শেয়ার বিক্রয় করে পুঁজি ও মুনাফা উত্তোলন।

 অনুমোদনবিহীন কার্ব মার্কেট সৃষ্টি করে ট্রেডিং।

 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা।

 সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যেও লেনদেন।

 অনিয়ন্ত্রিত লাখো জাল কাগজে শেয়ার বাজারে প্রবেশ।

 দৈনন্দিন কমিশন ভিত্তিতে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েকে কার্ব মার্কেটে ট্রেডিং এ নিয়োজিত করা।

 

২০১০ সালের পতনের কারণঃ

 বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আর্থিক ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।

 শেয়ার বাজারের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতির ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নগণ্য ছিল।

 IPO তে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পুজিঁবাজার পতনের অন্যতম কারণ।

 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন ছাড়া দেশ প্রেমিক, রাজনীতিবিদ, অতিলোভী সরকারি কর্মকর্তা, নিস্ক্রিয় নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় টোকেনের মাধ্যমে IPO প্লেসমেন্ট।

 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া জি এম জি এয়ারলাইন্স, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজসহ  আরও বিভিন্ন কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের নামে শেয়ারে বিনিয়োগ।

 

উভয় পতনের কারণে আজকের সম্প্রসারিত শেয়ার বাজার:

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের সদস্য সংখ্যা: ২৫০টি

চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের সদস্য সংখ্যা: ১৪৮টি

মার্চেন্ট ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা: ৩৩টি

বর্তমান বি.ও. অ্যাকাউন্ট: ২৯ লাখ ৬০ হাজার ২৫২টি

মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন: ৩৭৭৯৬৫,৫৮,৫৯,৮২৮ টাকা

প্রতিদিনের গড় ট্রেড ভলিউম: প্রায় ১০০০ কোটি টাকা

index Upgrade (2)

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক সময়ে সময়ে বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন, ওই সব ঐতিহাসিক কার্যক্রমের ফলেই বর্তমান পুঁজিবাজার। ১৯৯৬ এর পতনের পর নতুন করে জনৈক মইনুল ইসলাম বাজারের বিনিয়োগ করা শুরু করেন। প্রথম বিনিয়োগকৃত ২ লাখ টাকার মধ্যে ২ মাসের মধ্যে ২০/২৫ হাজার টাকা ক্ষতির পর আরেক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিল মইনুল বিনিয়োগের কি খবর? ২০/২৫ হাজার ক্ষতির খবর শুনে বন্ধু আতঙ্কিত। কিন্তু বিনিয়োগকারী মইনুলের উত্তর ইহা কিছুই না। নতুন ব্যবসার জন্য ডেকোরেশন করতেও এর চেয়ে বেশি টাকা প্রয়োজন। আমি মনে করি এই ২০/২৫ হাজার টাকা আমার নতুন ব্যবসার ডেকোরেশন। আরেক বিনিয়োগকারী এম.এ. গনি ২০০৬ সালের মাঝামাঝি বাজারে বিনিয়োগ করেন। পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞের পরামর্শে স্কয়ার ফার্মা শেয়ার ক্রয় করে টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের পর তিনি ২০১০ সালে ভালো টাকা লাভ করেন। নতুন বাড়ির কাজ শুরু করে আমার সঙ্গে আলোচনা করে বাড়ির নামকরণ করা হয় স্কয়ার নিবাস। ওই ধরনের আরও উদাহরন আছে।

প্রকৃত অর্থে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের বাজার সম্পর্কে পেপার পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রচার ও প্রসারের ফলে ওই সব বিনিয়োকারী বাজারে আসেন; বিনিয়োগ করেন ও লাভবান হন। বর্তমানে বাজারের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন সমন্বয় এবং অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। উদাহরন স্বরুপ: সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন,  ঢাকা স্টক একচেঞ্জ লি., চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি., মার্চেন্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্রোকার এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম ব্রোকার এসোসিয়েশন সবার মধ্যেও সমন্বয় থাকা বাঞ্চনীয়। বিশেষ করে ওই সমস্ত নীতি নিধারনী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি মার্কেট এডভাইজারি কমিটি গঠন, সময় সময় বাজার বিশ্লেষণ, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজার সম্পর্কে প্রতিবেদন ও তথ্য দেওয়া খুবই জরুরি।

ছবি সংগৃহীত

আমরা যদি বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকারীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই- তবে অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুঁজিবাজারের উন্নয়নেরও বিকল্প নাই। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য টাকা সংগ্রহের বিকল্প উৎস পুঁজিবাজার। আসুন সবাই মিলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে সহযোগিতা করে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করি বেকারত্ব দূর করে, শিক্ষার সম্প্রসারণ করে,আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখি। আমরা যদি বিনিয়োগ করে শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে পারি তাহলেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আলোকিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারবো ইনশাল্লাহ।

১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর সোমবার নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রেকর্ড পরিমাণ সূচকের পতন হয়; যা Black Monday হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে পুঁজিবাজারের ধস নেমেছে।

৪ এপ্রিল ২০০৭ : নিউসেঞ্চুরি নামের মার্কিন সাব-প্রাইম মর্গেজ ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণা।

মে ২০০৭: এক মাসের মধ্যে প্রায় ২৫টি সাব-প্রাইম মর্গেজ ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়ে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে আর্থিক বাজারের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

জুন ২০০৭: তারল্য সংকট শুরু হয় এবং ঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেয় অনেক ব্যাংক। একেই বলা হয় Credit Crunch।

ফেব্রুয়ারি ২০০৮: Citi Group Credit মার্কেটে loss করে প্রায় ৪ হাজার ৭০ কোটি ডলার , HSBC ব্যাংক এর ক্ষতির পরিমান ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার, Merrill Lynch  এর ক্ষতির পরিমাণ দাড়ায় ৩ হাজার ১৭০ কোটি ডলার।

মার্চ ২০০৮: বৃটেনের পঞ্চম বৃহত্তম ব্যাংক Northern rock দেউলিয়া ঘোষিত হয়।

সেপ্টেম্বর ২০০৮ : ১৮৪ বছরের পুরানো পঞ্চম বৃহত্তম মার্কিন ব্যাংক Lehman Brothers দেউলিয়া ঘোষিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান AIG Group দেউলিয়ার কবলে পড়ে সে সময়ে। ৮০ শতাংশ মালিকানা গ্রহনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করে নেয় মার্কিন সরকার।

সেপ্টেম্বর ২০০৮: আইসল্যান্ডের/আয়ারল্যান্ডের প্রায় সমস্ত ব্যাংক জাতীয়করণ করা হয়। সে সময়ে ৭৪ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন এবং ৫০ হাজার কোটি পাউন্ডের বৃটিশ rescue plan অনুমোদন হয়।

সেপ্টেম্বর ২০০৮: শেয়ার বাজারের দরপতন অব্যাহত থাকে। ইউরোপ, এশিয়া ও মার্কিন শেয়ার বাজারগুলো এক বছরে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ সম্পত্তি হারিয়ে ফেলে। একই সময়ে সারা বিশ্বে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মহামন্দার সূচনা হয়।

 

লেখক:

মো. সিদ্দিকুর রহমান

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

এস.আর. ক্যাপিটাল লিমিটেড

এই বিভাগের আরো সংবাদ