৭ কেজি স্বর্ণ ফেরত দিয়ে সততার পুরস্কার পেলেন পরিচ্ছন্নকর্মী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৭ কেজি স্বর্ণ ফেরত দিয়ে সততার পুরস্কার পেলেন পরিচ্ছন্নকর্মী

দুইজন নিম্ন বেতনভুক্ত বিমান কর্মচারী। পেটের দায়ে বিমানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। বিমান পরিষ্কার করতে গিয়েই পেলেন প্যাকেট ভর্তি স্বর্ণ। মুহূর্তেই যেতে পারতেন কোটিপতি বনে।

কিন্তু না, কোটি টাকার লোভ সামলে ফিরিয়ে দিলেন প্যাকেট ভর্তি স্বর্ণ। দেশপ্রেম, চারিত্রিক দৃঢ়তা আর সততার পরিচয় দিয়ে নাম লেখালেন ‘রাজস্ব যোদ্ধার’র খাতায়।

এ দুই কর্মচারী হলেন, বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আলমাস হোসাইন ও আবদুল কাদের। চোরাচালান প্রতিরোধে সহায়তা করায় এনবিআর দুইজনকে রাজস্ব যোদ্ধা উপাধি দিয়েছে।

বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে স্বর্ণের প্যাকেট পাওয়া দুই কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান

‘রাজস্ব যোদ্ধা’ উপাধি দিয়ে আজ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে তাদের সম্মাননা প্রদান করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, এনবিআর সুশাসন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় এগিয়ে যাচ্ছে। এতে অংশীজনরা এনবিআরকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছে। এরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিমান পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইন।

তিনি বলেন, ১ মে সোমবার দুপুর ২টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২০২ কোলকাতা হতে ঢাকায় অবতরণ করে। অবতরণের পরে বিমানটি বিমানবন্দরের ৮নং বে-তে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য ডিপ ক্লিন করতে পার্ক করা হয়।

ডিপ ক্লিন বিমানের দৈনন্দিন রুটিন ক্লিনিং কার্যক্রম হতে আলাদা। ডিপ-ক্লিনের দায়িত্ব পড়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আবদুল কাদের ও আলমাস হোসাইনের ওপর। পরিষ্কার করতে গিয়ে বিমানের ১বি নং সিটের নিচের অংশে তারা একটি প্যাকেট দেখতে পান। দু’জন বুঝতে পারেন এতে কোটি টাকার স্বর্ণ রয়েছে। কোনো চোরাকারবারি সরাতে না পেরে ফেলে গেছেন।

দু’জনের কাছে সিকিউরিটি পাস রয়েছে। আশপাশে নেই কোনো সিকিউরিটি। ইচ্ছে করলে দুইজনই সেই প্যাকেট সরিয়ে কোটি টাকার মালিক বনে যেতে পারতেন। কিন্তু দু’জনের মনের মধ্যে মানুষ নামক অস্তিত্ব নাড়া দেয়।

তিনি জানান, দু’জনই সেই প্যাকেট স্পর্শ না করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি শাহজালাল বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানান। বিমান কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের কাছে প্যাকেট হস্তান্তর করেন। পরে সকলের সম্মূখে খুলে হস্তান্তরকৃত প্যাকেটের ভিতর হতে প্রতিটি ১০ তোলা (১১৬ গ্রাম) ওজনের ৬০টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। যার মোট ওজন প্রায় ৭ কেজি ও বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদ্বয় ইচ্ছে করলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করতে পারতেন। যা অহরহ হয়ে আসছে। তাদের ব্যক্তিগত সততা ও দায়বদ্ধতা থেকে তারা এ স্বর্ণ রাষ্ট্রের হেফাজতে জমা প্রদান করেন। নিম্ন বেতনভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সততার এ বিরল দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য অনুসরণীয়। চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের এ সততার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজস্ব যোদ্ধা উপাধি দেয়া হচ্ছে।

ড. মইনুল খান বলেন, বিমানের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত স্বর্ণ নিজ উদ্যোগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর বা সংবাদ প্রদান একটি বিরল ঘটনা। এটি বিমানবন্দরে কর্মরত সকল এজেন্সির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।

সততার সম্মাননা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী আলমাস হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে করলে আমরা কোটি টাকার স্বর্ণ সরিয়ে ফেলতে পারতাম। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় করিনি। প্রতিদিনই বিমানে কিছু না কিছু আমরা পাই। না নিয়ে তা আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। আত্মসাৎ করার শিক্ষা আমাদের ম্যানেজমেন্ট আমাদের দেয়নি।’

অর্থসূচক/রহমত/এস

এই বিভাগের আরো সংবাদ