চা সুগন্ধের জিনোম কোড আবিষ্কার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চা সুগন্ধের জিনোম কোড আবিষ্কার

রূপ, রস, গন্ধ এই তিন মিলে নাকি চায়ের স্বাদ। এর কোনোটাতে একটু কম পড়ে গেলে চায়ের একেক নাম হয়ে যায়। শুধু লিকারের এর সাথে মধু, লেবু, চিনি বা দুধ যাই মেশানো হোক না কেনো; চায়ের নিজস্ব একটা সুগন্ধ থেকেই যায়। যার কারণেও একেকজন হয়ে ওঠেন চা-প্রেমী।

এবার এই চা-প্রেমীদের জন্য একটি ভালো সংবাদ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তারা এমন একটি জিনোম কোড আবিষ্কার করেছেন যা মূলত চায়ের সুগন্ধের কারণ। বিবিসির এক গবেষণা প্রতিবেদনে তা জানা গেছে।

সারা বিশ্বে যে চা পাওয়া তা ক্যামেলিয়া গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যামেলিয়া গণ ও গোত্রের প্রায় শতাধিক চা গাছ থাকলেও তারা কাজ করেছেন ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের চা গাছ নিয়ে; এই প্রজাতির চা’টিই সাধারণত বাগানে চাষ করা হয়ে থাকে। এর পাতাই ব্ল্যাক টি, গ্রিনটির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়।

ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের এই চা গাছকেই বাছাই করা হয়েছিল।

গবেষকরা বের করেছেন এই চা গাছের পাতা এবং গাছে উচ্চ মাত্রার সুগন্ধি রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা চা গাছকে স্বতন্ত্র গন্ধ দিয়ে থাকে। এতে ফ্ল্যাভোনয়েড ও সামান্য পরিমাণ ক্যাফেইনও রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তারা। মলিক্যুলার প্ল্যান্ট নামের একটি জার্নালে এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

এই গবেষণা দলটির প্রধান চীনের কুনমিং ইনস্টিটিউট অফ বোটানি’র উদ্ভিদের জিন বিশেষজ্ঞ লিঝি গাও বলেন, অনেক রকমের গন্ধ সম্পন্ন চা রয়েছে। কিন্তু চায়ের কোন জিনের কারণে এর এর গন্ধের রকমফের হয় তাই ছিল আমাদের গবেষণার বিষয়। এই জিনের গাঠনিক কাঠামো আধুনিক প্রজন্মের প্রযুক্তির মিশেলে আমরা কিছু অন্যরকম গন্ধের চায়ের কাজ করতে পারবো আশা করি।

চা সুগন্ধের জিনোম আবিষ্কারে নমুনা সংগ্রহ করছেন গবেষক দলের সদস্যরা।

৫ বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডিএনএ’ নিয়ে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ল্যাবটি সম্পূর্ণভাবেই এ গবেষণার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। এখানে প্রায় ২০টি চা গাছের জিনোম নিয়ে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এই চা গাছের জিনোম কোড নিয়ে কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল। এটি কফির জিন থেকে প্রায় চারগুণ বড়।

তবে এই আবিষ্কার চায়ের স্বাদ গন্ধ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি এর মূল্য বৃদ্ধি ও বাজারের চাহিদার বেশ পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

অর্থসূচক/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ