ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি হতাশাগ্রস্ত থাকে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি হতাশাগ্রস্ত থাকে

অষ্ট্রেলিয়ার প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় ভোগেন; যা বর্তমান বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া বিশ্বের মোট পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে ১৬ শতাংশ মানুষ মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত থাকেন। বিশ্বব্যাপী ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি হতাশাগ্রস্ত থাকেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের মানুষদের নিয়ে পরিচালিত জরিপভিত্তিক গবেষণা শেষে এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার দাতব্য ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক দল এ জরিপ পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের উপর এ জরিপ চালানো হয়।

psychological distressডব্লিউএইচও এর মতে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে মানসিক সমস্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।গবেষণার ফলাফলে দেখানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার তরুণদের মধ্যে প্রতি ৪ জনে একজন মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা জন্মসূত্রে গুরুতর মানসিক অবসাদে ভোগেন বলে এতে জানানো হয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়ার পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি অবসাদে ভোগেন।

মিশন অস্ট্রেলিয়া ইয়ুথ সার্ভের হিসাব অনুযায়ী, মানসিক অবসাদে ভোগেন- এমন অস্ট্রেলিয়ান তরুণ-তরুণীর সংখ্যার পার্থক্য দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ২৯ শতাংশ তরুণী মানসিক অবসাদে ভোগেন। আর ১৪ শতাংশ তরুণ মানসিক অবসাদে ভোগেন; যা তরুণীর সংখ্যার চেয়ে অর্ধেকেরও কম।

এতে আরও দেখানো হয়েছে, ২০১২ সালে ১৩ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান তরুণ মানসিক অবসাদে ভুগতো। ২০১৩ সালে সে হার ১৪ শতাংশ হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান তরুণদের মানসিক অবসাদ ভোগার ১৪ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকে।

psychological distress2অন্যদিকে ২০১২ সালে ২৩ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান তরুণী মানসিক অবসাদে ভুগলেও ২০১৩ সালে সে হার বেড়ে ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়। এরপর ২০১৪ সালে সে হার পরিবর্তন না হলেও ২০১৫ সালে তা আরও বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়। আর ২০১৬ সালে ২৯ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান তরুণী মানসিক অবসাদে ভোগে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশন অস্ট্রেলিয়া এবং ব্ল্যাক ডুড ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অল্পবয়সীদের জন্য উদ্বেগের মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুল ও অধ্যয়ন সমস্যা, বিষণ্নতা ইত্যাদি।

এ ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে স্বাস্থ্য বিষয়ক টুলস অনুসরণের সুপারিশ করেছেন গবেষকদলের সদস্যরা।

মিশন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ক্যাথরিন ইওমেন্স জানান, তরুণদের জন্য এই সমস্যা মোকাবেলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্ল্যাক ডুড ইনস্টিটিউটের পরিচালক হেলেন ক্রেনসেনসেন বলেন, একুশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, মানসিক অসুস্থতা। মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকা মানুষদের সুস্থ করতে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ