পুলিশের হেল্পলাইনে ১০ হাজার ভুয়া কল!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুলিশের হেল্পলাইনে ১০ হাজার ভুয়া কল!

ছোট বেলায় বইতে পড়া সেই  দুষ্ট রাখালের গল্পটা অনেকেরই মনে আছে। রাখালটি যখন ক্ষেতে কাজ করতে যেত আর চিৎকার করে বলত ‘বাঁচাও বাঁচাও, বাঘ আমাকে খেয়ে ফেললো’। আর তখন গ্রামের মানুষ লাঠি-সোটা নিয়ে রাখালটির কাছে আসতেই দুষ্ট রাখাল ফিকফিক করে হাসত। এভাবে সে প্রায়ই মিথ্যে বলে মানুষদের ঠকাত। একদিন সত্যি সত্যি বাঘ আসল আর বরাবরের মত রাখালটি চিৎকার করলেও গ্রামের লোকজন ওইদিন আর কেউ তাকে উদ্ধার করতে আসল না…অতপর সে বাঘের পেটেই গেলো।

পুলিশ হেল্প লাইন।

ঠিক এমনই ঘটনা ঘটল কলকাতায়। প্রতিনিয়ত কত রকম বিপদ আপদই না ঘটে থাকে। পুলিশের হেল্প লাইন নাম্বার জরুরি ভাবে সাহায্যের জন্য দেওয়া হলেও বেশির ভাগ সময়ই কিছু সংখ্যক তরুণ ব্যক্তিদের মিথ্যে কলের মাধ্যমে ব্যস্ত থাকে বলে জানা গেছে।কখনও কখনও, মাতাল পুরুষ বা ছোট ছোট তরুণ ছেলে-মেয়েরা রাতের বেলায় মজা করতেও হেল্পলাইনে ফোন করে থাকে। বিশেষ করে ছুটির পর এবং রাত ৯ টায় নিয়মিত কাজের পর পুলিশ যখন তাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকে তখন এ ধরনের জাল ফোনের শিকার বেশি হয়। তবে এর মধ্যে কিছু প্রকৃত কল থাকে যা সনাক্ত করা সম্ভব হয় না বলে জানালেন সল্ট লেক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন অপারেটর।টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

আরো জানালেন অনেক সময় শহরের কোথাও আগুন লাগা বা বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও এধরনের ফোন আসে; কিন্তু যথাস্থানে গিয়ে দেখা যায় এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি তখন পুলিশকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এ ধরনের মিথ্যে ফোনের কারণে সত্যি সত্যি যারা বিপদগ্রস্ত হচ্ছে তারা প্রকৃত সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে কলকাতা পুলিশ জানায়, প্রতিদিন এই হেল্পলাইন নম্বরে গড়ে প্রায় ১০ হাজার ফোন রিসিভ করা হয় তার মধ্যে ৭০ শতাংশই ভুয়া কল। আর এ ধরনের কল সাধারণত ছোট ছেলে-মেয়েরাই করে থাকে।

কলকাতা পুলিশ আরও জানায়, এ মাসের শুরুর দিকে সল্ট লেক থেকে এক ব্যক্তি কল করে জানান যে তার বাসার গাড়ি পার্কিং এর স্থান থেকে তার গাড়িটি চুরি হয়ে গেছে। তবে গাড়িতে জিপিএস সিস্টেম চালু থাকায় আমরা গাড়িটির সন্ধান করতে পারি। এটা তখন এয়ারপোর্ট রোডে ছিল। পরে কর্মকর্তাদের অবগত করে এটি বারাসতের কাছাকাছি থেকে আটক করা হয়।

গত সপ্তাহে কলকাতায় ১৬ বছরের একটি ছেলে রাস্তায় বিপদে পড়ে পুলিশের হেল্প লাইনে ফোন করেও কোন সাহায্য পায়নি। পরে অবশ্য বিধাননগর সিটি পুলিশ, কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়েছিল ছেলেটি।তবে এরকম ভুয়া সাহায্য প্রার্থীদের ভিড়ে প্রকৃত সাহায্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ