চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক পূজা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক পূজা

আজ চৈত্রের শেষ দিন। শেষ ঋতুরাজ বসন্তেরও। রাত পোহালেই বাংলা সন ১৪২৩ আজ বিদায় নেবে। পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুনকে বরণ করে নিতে ঢাকাসহ সারা দেশে আজ পালিত হবে চৈত্র সংক্রান্তির নানা আয়োজন। বৈশাখের আবহে  ‘চৈত্র সংক্রান্তি’তে বদলে যেতে থাকে রাজধানী ঢাকা। বর্ণিল ও বাহারি সাজে সেজে ওঠে এই মহানগরী।

চৈত্র সংক্রান্তিকে নাটোরে নীল পূজাও বলা হয়। ছবি সংগ্রহ।

এদিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় ‘চৈত্র সংক্রান্তি’র শোভাযাত্রা। এতে ওঝা সেজে ঝাড়– হাতে বিশেষ ভঙ্গিমায় ভূত তাড়ানোর খেলায় মেতে ওঠেন মানুষজন। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব, রেস্টুরেন্টসহ নানা জায়গায় বসে মেলা, পিঠে-পুলি ও আনন্দ আসর। চলতে থাকে নতুন বছরকে সাদরে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি। চৈত্র সংক্রান্তিতে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজন করা হয় চড়কপূজা। চড়কপূজা বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। প্রতিবছরই চৈত্রের শেষ দিনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

চড়ক পূজার মূলে রয়েছে ভূতপ্রেত ও পুনর্জন্মবাদের ওপর বিশ্বাস। পূজার উৎসবে বহু প্রকারের দৈহিক যন্ত্রণা ধর্মের অঙ্গ বলে বিবেচিত হয়। চড়কগাছের ভক্ত বা সন্ন্যাসীকে লোহার হুড়কা দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুতবেগে ঘোরানো হয়। তার পিঠে, হাতে, পায়ে, জিহ্বায় এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গে বাণ শলাকা বিদ্ধ করা হয়। কখনো কখনো জ্বলন্ত লোহার শলাকা তার গায়ে ফুঁড়ে দেয়া হয়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার আইন করে এ নিয়ম বন্ধ করলেও গ্রামের সাধারণ লোকের মধ্যে এখনো তা প্রচলিত আছে।

চড়ক গাছ। ছবি সংগ্রহ।

পূজার উদ্যোক্তারা কয়েকজনের একটি দল নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ায়। দলে থাকে একজন শিব ও দু’জন সখী। একজনকে সাজানো হয় লম্বা লেজ দিয়ে, তার মাথায় থাকে উজ্জ্বল লাল রঙের ফুল। সখীদের পায়ে থাকে ঘুঙুর। তাদের সঙ্গে থাকে ঢোল-কাঁসরসহ বাদকদল। সখীরা গান ও বাজনার তালে তালে নাচে। এদেরকে নীল পাগলের দলও বলা হয়। এরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাজনের গান গায় এবং নাচ-গান পরিবেশন করে। বিনিময়ে দান হিসেবে যা কিছু পাওয়া যায় তা দিয়ে হয় পূজা।

এ ছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসেছে মেলা। অতীতে চৈত্র সংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়ে জামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসত। গৃহস্থরা সবাইকে নতুন জামা-কাপড় দিত এবং উন্নত মানের খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করত। মেলার কয়েকদিন এভাবে সবাই আনন্দ উপভোগ করত। বর্তমানে শহুরে সভ্যতার ছোঁয়া লাগায় আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই।

চড়ক গাছে ঘূর্ণায়মান এক পূজারী। ছবি সংগ্রহ।

নানা আয়োজনে আজ যখন চৈত্র সংক্রান্তির পার্বণ, তখন একই সঙ্গে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পুরো বাংলাদেশ এখন উন্মুখ। পুরো দেশ যেন এখন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর দেশে। বৈশাখকে বরণ করার জন্য সবখানেই এখন চলছে সাজগোজ আর ধোয়া-মোছা। নববর্ষের নানা আয়োজনে ব্যস্ত এখন উৎসবপ্রেমীরা। আর সব প্রস্তুতিই এখন শেষ পর্যায়ে।

সবশেষে চৈত্র সংক্রান্তি শেষে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ