১১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাইবে ট্যানারি মালিকরা
বৃহস্পতিবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

১১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাইবে ট্যানারি মালিকরা

হাজারীবাগের ট্যানারিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা চাইবে ট্যানারি মালিকরা।  শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) কাছে এই টাকা দাবি করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ।

তিনি অর্থসূচককে বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে গ্যাসের লাইন দেওয়া হয়নি। কিছু ট্যানারি আছে যারা সাভারে এখনও প্লট পাইনি। এছাড়া সেখানে আমাদেরকে এখনও জমির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম, চলতি মাসের ৬ তারিখের আগে যাতে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে গ্যাস লাইন এবং জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। গ্যাস ছাড়া আমরা সেখানে গিয়ে কি করবো। আমরা তো উৎপাদনে যেতে পারবো না।

হাজারীবাগে বিদ্যুুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম। ছবি মহুবার রহমান

তিনি বলেন, আমাদের জমির রেজিস্ট্রেশন না দিলে হাজারীবাগ থেকে আমাদের মেশিনারিজগুলো স্থানান্তর করতে পারবো না। কেননা, আমাদের প্রত্যেকটা মেশিনারিজ ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া রয়েছে। তাই সাভারে গিয়ে যদি আমরা নতুন করে বন্ধক না দিতে পারি, তাহলে হাজারীবাগ থেকে মেশিনারিজ নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সে বিষয়ে বিসিক আমাদের কোনো কথাই শুনছে না।  তাই সুযোগ থাকলে আমরা এখন বিসিকের বিরুদ্ধে মামলা করবো। এছাড়া সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই টাকা চাইবো।

সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় উৎপাদন বন্ধ হ্ওয়ার কারণে আমাদের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) সংক্রান্ত ক্ষতি হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া সবকিছু মিলিয়ে আমরা ১১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করেছি।

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের যে অর্ডারগুলো আছে, তার উৎপাদন আংশিক হয়েছে এবং আংশিক হয়নি। এখন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে তা স্টক হয়ে যাবে। এছাড়া যেটা হয়নি সেটা আমরা সিফটিং করতে পারবো না। ফলে বায়াররা তাদের অর্ডার বাতিল করবেন। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদ, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন এবং কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ১১শ কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে আমাদেরকে কোনো ধরণের নোটিশ করা হয়নি। আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। কিন্তু আমাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি। আমাদের এখানে কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। যা এখন চুরি হয়ে যেতে পারে। একটা বাড়তি লাইন পর্যন্ত রাখা হয়নি। আমাদের টাকায় কেনা এখানকার ইলেকট্রিক মিটারটা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। এভাবে সবকিছু বন্ধ করে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

হাজারীবাগে গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম। ছবি মহুবার রহমান

সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে আগামী ১০ এপ্রিল হাজারীবাগে মানববন্ধন করবে ট্যানারি মালিকরা।

প্রসঙ্গত, আজ শনিবার সকাল ৯ টার দিকে হাজারীবাগের ট্যানারিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ঢাকা ওয়াসা, গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডেসকো ও ডেসার কর্মকর্তারা নিজ নিজ সংস্থার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু করেছে।

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে কারখানা সরিয়ে নিতে বারবার সময় দেয়া হলেও মালিকদের অনাগ্রহের পর সংযোগ বিচ্ছিন্নের এই নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত।

গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট হাজারীবাগ ছাড়তে ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অর্থসূচক/মেহেদী/কে এম

এই বিভাগের আরো সংবাদ