পান্তা ইলিশের অজুহাতে ‘বৈধ’ জাটকা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পান্তা ইলিশের অজুহাতে ‘বৈধ’ জাটকা!

জাটকা বোঝাই ট্রাক ও পিকআপ ঢুকছে মাছের আড়তে। শ্রমিকেরা সেসব জাটকা স্তূপাকারে রাখছেন অকশন সেডের মেঝেতে। সেখানে ডাকে বিক্রি হচ্ছে এইসব জাটকা। তারপর আরও দুই এক দফা হাত ঘুরে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে।

খুলনা মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের এ দৃশ্য এখন প্রতিদিনের। ট্রাক ও  পিকআপ ভ্যানের পাশাপাশি ফিশিং ট্রলারেও জাটকা ইলিশ আসছে বাজারে।

সরকারের নিষেধ থাকার পরেও কেন বিক্রি হচ্ছে এতো জাটকা?

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, সামনে বৈশাখ মাস আসছে। নতুন বছর উপলক্ষ্যে এই সময় ইলিশের চাহিদা অনেক বাড়ে। কিন্তু এখন মৌসুম না হওয়ায় বাজারে ইলিশ আসা সম্ভব না। পান্তা ইলিশ ছাড়া আবার বাঙালি পয়লা বৈশাখ উদযাপন করতে পারে না। তাই ক্রেতারা ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ জেনেও কিনছেন জাটকা।

খুলনা মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের এ দৃশ্য এখন প্রতিদিনের

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, আসছে পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত ‘পান্তা ইলিশের’  অযুহাতে জাটকা বিক্রি তারা বৈধ বলেই ধরে নিচ্ছেন।

তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা বিক্রি করায় ইলিশের সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ জাটকা বিক্রি বন্ধে মাঝে মাঝে দায়সারা অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর।

খুলনার নূরনগর এলাকার বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মী সামসউদ্দীন আইয়ুব অভিযোগ করেন, জাটকা বিক্রি বন্ধে মাঝে মাঝে দায়সারা অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর। তারা অভিযান পরিচালনা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই বাজারে ফের জাটকা পাওয়া যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, জাটকা ধরা ও বিক্রি বন্ধে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করলেও কাউকে আটক বা জরিমানা করছে না তারা।

তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জাটকা যাতে বিক্রি না হয় সেদিকে নজর রাখছি। পহেলা বৈশাখের আগে আবারও অভিযান চালাবো।

সবশেষ ২৯ মার্চ বুধবার খুলনার রূপসা উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও কোস্টগার্ডের অভিযানে মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারী মৎস্য বাজার থেকে ৫০ মণ জাটকা জব্দ করা হয়। এর আগে ১৪ মার্চ খুলনায় র্যা ব ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে একই বাজার থেকে ১০ হাজার কেজি জাটকা জব্দ করা হয়।তবে এই সব ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড।

খুলনা মহানগরীর কেসিসি রূপসা পাইকারি মাছ বাজারের এ দৃশ্য এখন প্রতিদিনের

কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেলেরা এসব জাটকা কৌশলে সামুদ্রিক মাছের মধ্যে করে নিয়ে আসে। আর এ কারণে অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

সিজি ষ্টেশন রূপসার কন্টিনর্জেন্ট কমান্ডার সিনিয়র চিপ পেটি অফিসার আবু তালেব বলেন, আমরা সাধ্য অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করি। চলতি বছরে দুই-তিনটি অভিযান চালিয়েছি। চেকপোস্টগুলোতেও শক্ত নজরদারি রয়েছে। তবু কোনো কোনো ক্ষেত্রে  চোখ এড়িয়ে জাটকা বিক্রি করা হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী ২৫ সেন্টিমিটার বা ১০ ইঞ্চির ছোট ইলিশ ধরা কিংবা বেচাকেনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইন কিংবা শাস্তির কোনো তোয়াক্কাই করছেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেশি লাভের আশায় বিক্রেতারা আইন অমান্য করে বাজারে বিক্রি করছেন জাটকা। অন্যদিকে বড় ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ জাটকা দিয়ে বৈশাখে পান্তা ইলিশের স্বাদ নিতে চান।

জাটকা কেন কিনছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ ক্রেতাই বলেন, বিক্রেতারা যদি জাটকা ইলিশ বাজারে না আনেন তবে কেউই জাটকা পাবেন না, কিনতেও চাইবেন না। ফলে আগে বিক্রেতাদের সামলাতে হবে। নাহলে জাটকা নিধন বন্ধ হবে না। আর বিক্রেতাদের অভিযোগ, যারা নদী থেকে মাছ ধরে বাজারে নিয়ে আসছেন, তারাই মূলত অপরাধী।

অভিযোগ রয়েছে, জাটকা ধরা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত আছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের আবার রয়েছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। ফলে চাইলেও অনেক সময় নানামুখী চাপের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

অর্থসূচক/শিউলী

এই বিভাগের আরো সংবাদ