শুক্রবারেই বাড়ে ভোগ্যপণ্যের দাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

শুক্রবারেই বাড়ে ভোগ্যপণ্যের দাম

রাজধানীর নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে সপ্তাহের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে। আর এ সুযোগে বেশি লাভের আশায় সবজি, মাছ, মাংসসহ সব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। আর ভোগ্যপণ্যের জন্য বাড়তি দাম দিতে বাধ্য হন জিম্মি অবস্থায় থাকা রাজধানীবাসী।

ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে কাঁচাবাজারসহ সব পণ্যের দাম তুলনামুলক কম থাকে। তবে শুক্রবার এলেই সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ে বলে অভিযোগ করছেন রাজধানীবাসী। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি দামের উপরই চলমান বাজার মূল্য নির্ভর করে।

bazar

কারওয়ান বাজার।

গত বুধাবার রাজধানীর হাতিরপুল, পলাশী বাজারসহ কয়েকটি বাজার পর্যবেক্ষণ করে ক্রেতাদের এই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সময় দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৫৫ টাকায় আর লেয়ার মুরগির দাম রাখা হচ্ছিল ১৮০ টাকা দরে। সপ্তাহের আরও কয়েকদিন ওই দামে মুরগি বিক্রি হয়েছিল।

তবে আজ শুক্রবার একই বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিনের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ১৯০ টাকা দরে। গত শুক্রবারও ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া দেশি মুরগি ৪০০, পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় সবজির দামও কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে।

হাতিরপুল বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেনাকাটা করতে এসছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকে। তবে শুক্রবার এলেই সব কিছুর দাম আবার বেড়ে যায়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত কয়েকদিন আগেও আমি বাজারে এসেছিলাম; তখন আজকের দামের তুলনায় প্রায় সব সবজিতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ টাকা কমে কেনাকাটা করেছি।

তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ও পাইকারি দামের উপরই বাজারের দাম নির্ভর করে। মুরগি ব্যবসায়ী হারুন জানান, বিক্রির উপর মুরগির দামের কিছুটা তারতম্য হয়। তবে অধিকাংশ সময়ে দাম প্রায় একই থাকে।

আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের বাড়তি দামেই গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সবজির বাজারে টমেটো কেজি প্রতি ৫০ টাকা, সাদা বেগুন বিক্রি ৬০ টাকা, কালো বেগুন ৫০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, শশা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, পেঁয়াজ কলি ২০ টাকা, চাল কুমড়া ১৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম রাখা হচ্ছে ৮০ টাকা।

এছাড়া কেজি প্রতি আলু ১৮ টাকা, পেঁপে ১৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতিটি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা। পালং শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা কমেছে। লিটার প্রতি ১ টাকা করে কমে আজকের বাজারে ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৪৯৫ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ৯৮ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে অন্য সব মুদিপণ্য গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি মসুর ডাল ১৩০ টাকা ও ভারতীয় ১০০ টাকা, মুগ ডাল দেশি ১২০ টাকা ও ভারতীয় ১১০ টাকা, মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলার ডাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৮ টাকা ও ভারতীয় ২২ টাকা, দেশি রসুন ৯০ টাকা,  ভারতীয় রসুন ১৯০ টাকা ও চীনা রসুন ১৮০ টাকা, দেশি আদা ১৩০ টাকা, চীনের আদা ৭০ টাকা, ক্যারালার আদা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। কেজি প্রতি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা, পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা, মিনিকেট ৫০-৫৩ টাকা, মিনিকেট নরমাল ৪৮ টাকা, বিআর২৮ ৪২-৪৪ টাকা, নাজিরশাইল ৪২-৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৬ টাকা, কাটারিভোগ ৭৪-৭৬ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০-১৮০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ২২০০ টাকা।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ