'আরও বেশি জনবান্ধব হবে নার্স'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘আরও বেশি জনবান্ধব হবে নার্স’

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে সদ্য নিযুক্ত হয়েছেন তন্দ্রা শিকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর বাংলাদেশ স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন তিনি।

কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে যেমন সহকারী কমিশনার, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হিসাবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে ও জাতীয় রাজস্ববোর্ডে মেম্বার (বোর্ড প্রশাসন) হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

মানিকগঞ্জে জন্ম নেওয়া তন্দ্রা শিকদার সম্প্রতি সম্ভাবনাময় এই অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অর্থসূচকের সঙ্গে কথা বলেছেন। মুন্নাফ রশীদের সঙ্গে তার আলাপচারিতার কিছু অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদার।

অর্থসূচক: নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তির প্রক্রিয়া কী এবং এই অধিদপ্তরের আওতায় কী কী কোর্স রয়েছে?

তন্দ্রা শিকদার: দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফ ও গ্র্যাজুয়েট নার্স তৈরীর জন্য নার্সিং ইনস্টিটিউট ও নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে সেবা পরিদপ্তর হিসেবে যাত্রা শুরু করে যা পরবর্তীতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করা হয়।

এই অধিদপ্তরের আওতায় ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং, বিএসসি-ইন-নার্সিং (বেসিক), পোস্ট বেসিক বিএনএসসি ইন নার্সিং এবং পাবলিক হেলথ নার্সিং কোর্স পরিচালনা করা হয়। এছাড়া এখান থেকে দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা অর্থাৎ নার্সিংয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি গ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হয়।

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ডিপ্লোমাতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারে।

অর্থসূচক: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে আগামীতে আপনি কোন পর্যায়ে দেখতে চান?

তন্দ্রা শিকদার: সেবা পরিদপ্তরকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে উন্নীত করায় প্রথমেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ এ খাতের সবই তার অবদান। এই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে আমার লক্ষ্য থাকবে এটাকে টেকসই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বর্তমান অবস্থা থেকে এই অধিদপ্তরকে কিভাবে উন্নয়নের পথে উন্নীত করা যায় সেটাই লক্ষ্য থাকবে। সেই সঙ্গে আমি নিজেকে নার্সবান্ধব হিসেবে ঘোষণা করছি। নার্সদের উন্নয়নের জন্য যা করা প্রয়োজন আমি তার জন্য সর্বদা সজাগ থাকবো।

ডিপ্লোমা নার্সিং থেকে শুরু করে বিএসসি, মাস্টার্সসহ বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য থাকবে। এছাড়া তাদের সেবাকে আরও বেশি জনবান্ধব করে গড়ে তুলে সেবার পরিসর বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাবো।

অর্থসূচক: ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং ল্যাবগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের ব্যাপারে একটু বলুন।

তন্দ্রা শিকদার: নার্সিং অধিদপ্তর ও ইনস্টিটিউটগুলোকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে এই অধিদপ্তরের আওতায় মোট ৫৬টি নার্সিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। ইনস্টিটিউটগুলোর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ডাটা সরাসরি আমাদের অধিদপ্তরে সংযুক্ত করার পাশাপাশি নার্সদের ডাটাও এখানে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এর জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলও রয়েছে। যারা সব সময় এগুলো তদারকি করছেন।

নার্সদের সেবাকে আরও বেশি জনবান্ধব করে গড়ে তুলে সেবার পরিসর বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানালেন তিনি।

এছাড়া প্রত্যেকটা ইনস্টিটিউশনের সাথে এবং নার্সিং সুপারিনডেন্ট, ডেপুটি নার্সিং সুপারিনডেন্ট, সিভিল সার্জন অফিসসহ বিভাগীয় পর্যায়ে যে সকল নার্স কর্মরত রয়েছেন তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অধিদপ্তর থেকে সরাসরি যোগাযোগ করার কার্যক্রম চলছে।

নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রফেশনাল ল্যাবগুলোকে ডিজিটালাইজেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কানাডিয়ান সিডার অর্থায়নে বর্তমানে আমদের ‘ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব’ বা ‘ভাষা ল্যাব’ রয়েছে। তবে টেকনিক্যাল সংকটের কারণে আমরা সব ইনস্টিটিউটে আমরা এটি চালু করতে পারিনি।

অর্থসূচক: মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য আপনাদের কি কোনো ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে?

তন্দ্রা শিকদার: রাজধানীর মুগদায় নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতায় ইতোমধ্যে সেখানে ৪টি বিষয়ের উপর মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। এছাড়া আরও ২টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর জন্য আবেদন করেছি। আগামী ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে আশা করছি। এখন আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দরকার। এরমধ্যে প্রেডিটিক নার্সিং, অ্যাডাল্ট নার্সিং, ফান্ডামেন্টাল নার্সিং, নার্সিং এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের জন্য শিক্ষক রয়েছে।

অর্থসূচক: বিদেশে শিক্ষার জন্য আপনাদের কেমন সুবিধা রয়েছে?

তন্দ্রা শিকদার: বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য আমাদের ইনস্টিটিউশনের বাইরে মাস্টার্স এবং পিএইচডির জন্য সুযোগ তৈরি করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে কোরিয়াতে পিইএইচডি সুবিধা রয়েছে। মাস্টার্সের জন্য থাইল্যান্ডের সাথে চুক্তি ছিল তবে এখন সেটি বন্ধ রয়েছে।

সাধারণত বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ অপারেশন প্লানের (ওপি) আওতায় হয়। যা প্রতি ৫ বছর পর নতুনভাবে চুক্তি করা হয়। গত ৫ বছরের ওপি ২০১৬ সালে শেষ হয়েছে। বর্তমানে নতুন ওপির অপেক্ষায় রয়েছি। ওপারেশন প্লানিং বাজেট থেকে এ খাতে আর্থিক সহযোগীতা করা হয়।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার পদ্ধতি হচ্ছে ওপি পাশ হওয়ার পর আমাদের অধিদপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়।

অর্থসূচক: সিসিইউ, আসিইউসহ সকল বিশেষায়িত কোর্সের জন্য বিশেষ পদ এবং এর আলাদা কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে?

তন্দ্রা শিকদার: আমাদের দেশে এখনো বিষয়ভিত্তিক বা বিশেষ রোগের জন্য আলাদা কোনো পোস্ট বা বিশেষ পদ সৃষ্টি হয়নি। সিসিইউ এবং আসিইউর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিছু নার্স রয়েছে। যাদের দিয়ে হাসপাতালগুলোতে সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। এছাড়া এ ধরনের পদ সৃষ্টি করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরী। সবমিলিয়ে আশা করছি খুব শিগগির এর জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও বিষয়ভিত্তিক পদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।

অর্থসূচক: নার্সদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ট্রান্সপোর্টেশন ও আবাসন সুবিধার ব্যাপারে কিছু বলুন।

তন্দ্রা শিকদার: বর্তমানে নার্সদের জন্য ট্রান্সপোর্টেশন সুবিধা না থাকলেও; তাদের জন্য কিন্তু আবাসন সুবিধা রয়েছে। তবে আগামীতে যদি ট্রান্সপোর্টের প্রয়োজন হয় এবং আবাসনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে তাহলে তাহলে অবশ্যই তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অর্থসূচক: ইউনিয়ন সাব সেন্টারে সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন ওঠে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব সাব সেন্টারে সেবার ব্যাপারে যদি একটু বলতেন।

তন্দ্রা শিকদার: ইউনিয়ন সাব সেন্টারে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি নার্সদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর আদেশে এই পদ সৃজন করা হয়। গ্রামে চিকিৎসা সেবা সংকটের কথা বিবেচনা করে সারাদেশে সাব সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টাফ নার্সদেরকে ওই পদে পদায়ন করা হয়েছে। কারণ নতুন মিডওয়াইফারি নার্স নিযোগ পেতে কমপক্ষে ৪ বছর সময় লাগবে।

তবে বর্তমানে এই পদে মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ নার্সকে পদায়ন করা হয়েছে। সুতরাং এসব সাব সেন্টারে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। কারণ এখানে যারা রয়েছেন তারা সবাই অধিদপ্তর থেকে সনদ প্রাপ্ত।

অর্থসূচক: বিভিন্ন খাতে নারীদের অবদান ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছু বলুন

তন্দ্রা শিকদার: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এর জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ ও সঠিক সেবা প্রয়োজন। সুন্দর পরিবেশ পেলে তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরে আজ নারীরা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নিতে পারছে। আমি আশা করি নারীর জন্য সঠিক সুযোগ তৈরি করে দিলে তারা দেশের অর্থনৈতিক ও সেবা পর্যায়ে আরও অবদান রাখতে পারবে।

অর্থসূচক: সময় দেওয়ার জন্য অর্থসূচক পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

তন্দ্রা শিকদার: আপনাকে ও অর্থসূচক পরিবারকে ধন্যবাদ।

অর্থসূচক/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ