ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে; বেড়েছে দামও; নেই মনিটরিং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে; বেড়েছে দামও; নেই মনিটরিং

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী রমজান মাস শুরু হতে আরও দুই মাস বাকি। প্রতিবছরের মতো এবারও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের এ পবিত্র মাস শুরুর আগেই সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। আর প্রশাসনের মনিটরিং নেই বলেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী বলে দাবি করছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দারা।

বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ২৩ টাকা। গত সপ্তাহে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল এ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। আজ শনিবারের বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়। একইভাবে বাড়ানো হয়েছে রমজান মাসে ব্যবহারযোগ্য ছোলা, চিনি, গম, তেল ইত্যাদি পণ্যের দাম।

Ramadan Bazar

রমজান মাস শুরুর আগেই রমজানে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

প্রসাশনের নজর এড়াতে রমজান মাস শুরুর আগেই ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রমান্বয়ে দাম বাড়লেও সেদিকে নজর নেই প্রশাসনের। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি রমজানের আগেই ব্যবসায়ীরা সব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ান। আর প্রতিবারই দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার পর প্রশাসনের হুঁশ হয়।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি ও আমদানি কম হওয়ার কারণেই দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, রমজান মাসে নজরদারি বাড়ানো হয়। তাই এখন বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে মজুত বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর বাজারে পণ্য সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দরের তথ্য মতে, ২১টি বড় জাহাজ থেকে রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য খালাস হচ্ছে। এসব জাহাজে প্রায় ১০ লাখ টন ডালজাতীয় পণ্য, অপরিশোধিত চিনি, ভোজ্যতেল ও লবণ রয়েছে; এক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো খালাস হবে।

কাস্টমসের আমদানি বিবরণী থেকে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টন ছোলা আমদানি করা হয়। তবে গত জানুয়ারি মাসে ২৭ হাজার টন ছোলা আমদানি করা হয়েছে। সাধারণত মাসে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন চিনি আমদানি করা হলেও এখন বন্দরে আসা চারটি জাহাজে ২ লাখ ১৯ হাজার টন চিনি রয়েছে। অর্থাৎ চিনির আমদানিও বাড়ানো হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাস ২১ দিনে গম আমদানি হয়েছে ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার টন। এই সময়ের গত অর্থবছরে গম আমদানি হয়েছিল ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার টন। বন্দরে গত বৃহস্পতিবার পযর্ন্ত ১২ জাহাজে ১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল। সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে দেড় লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়।

ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, এখন বিশ্ববাজারে দাম সহনীয় থাকায় গত বছরের তুলনায় ভোগ্যপণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যবোঝাই জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় আছে। মে মাস পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

খাতুনগঞ্জে পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি মণ ভালো মানের অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়; যা গত বছর সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে মাঝারি মানের প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা। আর সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলার দাম সাড়ে ৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এবারে ৬ লাখ ২০ হাজার টন বেশি গম আমদানি হলেও প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪ টাকা। গত মাসে প্রতি কেজি ২২ টাকায় খোলা আটা বিক্রি হলেও এখন তা ২৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল থাকলেও দেশে তেলের বাজার ক্রমশ অস্থির হচ্ছে। মাসের ব্যবধানে লিটার প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৮ টাকা। প্রতি লিটার তেল বিক্রয় হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৭ টাকা দরে।

চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, একটা সময় রমজানের এক মাস আগে থেকে পণ্যের মজুদ ও দাম বাড়াতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত কয়েক বছরে রমজানের আগ মুহূর্তে প্রশাসনের নজরদারি চলার কারণে কয়েক মাস আগেই পণ্যের মজুদ ও দাম বাড়ানো হচ্ছে। ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও মজুদ প্রক্রিয়া এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাইকারি ব্যবসায়ী পর্যায়েও বেচা-কেনা চলছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ সভাপতি এস.এম. নাজের হোছাইন জানান, রমজান আসার দুই-তিন মাস আগেই ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ান। প্রশাসনের চাপে দাম কিছুটা কমানো হয়। এটা তাদের একটা কৌশল। দাম বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। বাজার অস্থিরতার দিকে যাওয়ার আগেই প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, কিছু ব্যবসায়ী পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজার অস্থির করে তোলে। আর্ন্তজাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ