জিল্লুর রহমানের স্মরণসভায় ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের আহ্বান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

জিল্লুর রহমানের স্মরণসভায় ভৈরব জেলা বাস্তবায়নের আহ্বান

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় ভৈরবকে দেশের ৬৫তম জেলা হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

আজ সোমবার আওয়ামী যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ভূমি অফিস চত্বরে আয়োজিত ওই স্মরণ সভায় এই আহ্বান জানান তারা।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতির এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারের আরো তৎপর হওয়া উচিত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই স্বপ্নকে লালন করে গেছেন। তার নির্বাচনী এলাকা ভৈরব ও কুলিয়ারচরবাসীর মাঝে সেই স্বপ্নের বীজ বুনে গেছেন। তাই তার শেষ ইচ্ছা এবং এই অঞ্চলের মানুষের একান্ত বাসনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

এ সময় বক্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যের সুনজর কামনা করেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় ভৈরবকে জেলা করার আহ্বান জানান।

২০০৯ সালে দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিল্লুর রহমান ১৩ জুলাই ভৈরবের হাজী আসমত কলেজ মাঠে দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার নির্বাচনী ওয়াদা হিসেবে ভৈরবকে জেলা করার ঘোষণা দেন। ওই বছরের ১২ অক্টোবর সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় ভৈরবকে জেলা করার। সেদিন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জেলা করার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। এ কমিটির সভাপতি করা হয় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) কে কমিটির সদস্য হিসেবে প্রতিনিধি করা হয় ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের একজন উপ-সচিবকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়।

কিন্তু “অখন্ড কিশোরগঞ্জের” নামে একটি মহল বিরোধিতায় নামলে জেলার কার্যক্রম থেমে যায়।

২০১৩ সালের ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তিনি দেহত্যাগ করেন।

ভৈরব পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহনোয়াজ গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌর সভার মেয়র, বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ। প্রধান বক্তা ছিলেন জিল্লুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সায়দুল্লাহ মিয়া। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মির্জা মো. সুলায়মান, আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মো. সিরাজ উদ্দিন, এসএম বাকী বিল্লাহ, পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন কাজল, সদস্য সচিব মো. এনামূল হক জাহাঙ্গির, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুর, প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সাবেক একান্ত সচিব মো. শাখাওয়াত উল্লাহ মোল্লা, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আতিক আহমেদ সৌরভ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব আব্দুল হেকিম রায়হান, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অরুণ আল আজাদ প্রমুখ।

স্মরণসভা শেষে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকালে ভৈরব বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা কালোব্যাজ ধারণসহ মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। ছাড়াও দলীয় কার্যালয়সহ মরহুমের নিজ বাসভবন আইভি ভবনে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থসূচক/মোস্তাফিজ/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ