বিনিয়োগে সব সহযোগিতা দেওয়া হবে- সিঙ্গাপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিনিয়োগে সব সহযোগিতা দেওয়া হবে- সিঙ্গাপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী

সিঙ্গাপুরে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য এখন বিশ্বের মধ্যে আকর্ষণীয় স্থান। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে শতভাগ বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে, প্রয়োজনে বিনিয়োগকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত নেওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনদ্বারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে বেশি লাভবান হবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ফাইল ছবি

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দেওয়া আকর্ষণীয় সুযোগ গ্রহণ করতে পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে এ সব বিনিয়োগ আসছে। সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা চাইলে এখান থেকে এক বা একাধিক ইকোনমিক জোন বরাদ্দ করা হবে। সরকার ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্টকে (এফডিআই) বিশেষ গুরুত্ব ও সহযোগিতা দিচ্ছে।

আজ সোমবার সিঙ্গাপুরের এসবিএফ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর যৌথ ভাবে আয়োজিত “সাউথ এশিয়া মার্কেট ইনসাইটস সিরিজ: বিজনেস অপরচুনিটি ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ ৩৪.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, ২০২১ সালে দেশের রপ্তানির পরিমাণ হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর ৭.১১ ভাগ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।

“জিডিপিতে রপ্তানির অবদান এখন ১৬ শতাংশের বেশি। কৃষিতে ১৫.৯৬, শিল্পে ৩০.৪২ এবং সেবা খাতে ৫৩.৬২ শতাংশ। দেশে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এখন ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, রেমিটেন্স ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ এখন মেগা প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল।

এ সময় সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর একটি এমওইউ সই করে। সেমিনারে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ অনেক পণ্য সিঙ্গাপুরে রপ্তানি করে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সিঙ্গাপুরে কাজ করছে। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর সিঙ্গাপুরে ১৬৪.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পন্য রপ্তানি করা হয়েছে, একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ১৯৬৫.৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব।

সেমিনারে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ভাই চেয়ারম্যান এবং সাউথ এশিয়া বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম ব্যানার্জী, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট মির্জা গোলাম সবুর বক্তব্য রাখেন।

অর্থসূচক/আজম/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ