‘পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাবে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘পরিবেশবান্ধব পণ্য প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাবে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ’

পরিবেশবান্ধব পেপার কাপ ও প্লেট উৎপাদনের পর এবার খাবার বাটি উৎপাদন করছে কেপিসি ইন্ডাষ্ট্রিজ। পরিবেশবান্ধব এসব পণ্যকে প্রন্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান জাতীয় এসএমই মেলায় অংশগ্রহণ করেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের এই প্রতিষ্ঠানটি।

মেলা প্রাঙ্গণে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজের স্টল ঘুরে দেখা যায়, নানা রং আর ডিজাইনের পেপার কাপ ও পেপার প্লেট প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে দেখছেন এবং বিভিন্ন তথ্য জানছেন।

এসএমই মেলায় কেপিসির স্টল

স্টলটিতে বসে কথা প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী কাজী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতি ও পরিবেশবান্ধব কাগজের পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে অর্থসূচকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

“পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদানের জন্য সম্প্রতি জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৬ অর্জন করেছেন এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান।”

অর্থসূচক: কেপিসি ইন্ডাষ্ট্রিজ এবং আপনাদের পণ্য সম্পর্কে কিছু বলুন।

কাজী সাজেদুর রহমান: আমরা সাধারণত পেপার কাপ এবং পেপার প্লেট উৎপাদন করে থাকি। তবে আগামী আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে পারিবেশ বান্ধব পেপার বল বা খাবারের বাটি আসছে। এটি শতভাগ পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশের বাজারে এটাই প্রথম পরিবেশবান্ধব কাগজের খাবার বাটি। যার আকার ১৭৫ মিলিমিটার। এছাড়া পেপার ব্যাগ তৈরি করার পরিকল্পনা আছে।

অর্থসূচক: পরিবেশবান্ধব কাগজের পণ্য নিয়ে কিছু বলুন।

কাজী সাজেদুর রহমান: আমাদের পণ্যগুলো ১০০ ভাগ পরিবেশবান্ধব। এগুলো প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ায় সহজেই পঁচনশীল। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবানুমুক্ত। ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে মুক্ত।

অর্থসূচক: প্রান্তিক পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব এই কাগজের পণ্য পৌঁছাতে কি করছেন?

কাজী সাজেদুর রহমান: পরিবেশবান্ধব এই পণ্য প্রন্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে কাজ করছি। তবে এই পণ্য প্রন্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে এই সেক্টরে সম্ভাবনার পাশাপাশি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে ৬১ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। দেশের স্বার্থে এসব কাঁচামাল শুল্কমুক্ত করা উচিত। যা দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখবে।

অর্থসূচক: বর্তমানে আপনার প্রতিষ্ঠানে কত ধরণের পণ্য আছে?

কাজী সাজেদুর রহমান: বর্তমানে আমাদের ৯ ধরনের পেপার কাপ এবং ৩ ধরনের পেপার প্লেট রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহ থেকে বাজারে পারিবেশ বান্ধব পেপার বল বা খাবারের বাটি আসছে। এটিতে যেকোনো তাপমাত্রার তরল খাবার রাখা যাবে। পেপার বল তৈরির জন্য চীনসহ কয়েকটি দেশে খুঁজে না পাওয়ার পর আমরা নিজেরাই আবিষ্কার করেছি।

অর্থসূচক: ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব এই কাগজ পণ্যের কেমন সম্ভাবনা রয়েছে?

কাজী সাজেদুর রহমান: যেহেতু এটা আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন একটি পণ্য; বিশ্বব্যাপী এর বড় বাজার রয়েছে। তাই গার্মেন্টস সেক্টরের মতো এ খাতও একটি সম্ভাবনাময় খাত হবে। তবে এখন প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও এর বিস্তৃতির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা দরকার।

অর্থসূচক: নতুন কি কি পণ্য আনছেন?

কাজী সাজেদুর রহমান: বাচ্চাদের জন্য খাবার পরিবহন এবং অফিসগামী মানুষের খাবার পরিবহনের কথা চিন্তা করে আমরা টিফিন বক্সের মতো পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির কাজ করছি। যা খাবার সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর তিনটি পার্ট থাকবে; ভাত এবং দুইটা সবজি রাখার। ফলে এর মাধ্যমে খাবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব সহজেই পরিবহন করা যাবে। এছাড়া এর মাধ্যমে হোটেল থেকে খাবার সরবরাহ এবং হোম ডেলিভারি করা যাবে। এর ধারণ ক্ষমতা হবে ৪৫০ মিলিমিটার। এছাড়া পেপার ব্যাগ তৈরি করার পরিকল্পনা আছে।

অর্থসূচক: আপনার প্রতিষ্ঠানের জনবল সম্পর্কে কিছু বলুন।

কাজী সাজেদুর রহমান: বর্তমানে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির আয়তন ৪ হাজার স্কয়ার ফুট। মোট ৪২ জন শ্রমিক কর্মরত আছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। তখন এর আয়তন হবে ১৫ হাজার স্কয়ার ফিট। ফলে তখন এর জনবল আরও বৃদ্ধি করা হবে।

অর্থসূচক: আপনাদের পণ্য কোন কোন দেশে রপ্তানি করছেন?

কাজী সাজেদুর রহমান: গত বছর থেকে আমরা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। জানুয়ারিতে নেপালে রপ্তানি হয়েছে। দুবাই, ইউরোপ, বাহরাইনেও রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া জার্মানিতে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থসূচক: আগামী কয়েক বছরে আপনার প্রতিষ্ঠানকে কোথায় দেখতে চান?

কাজী সাজেদুর রহমান: বর্তমানে বিশ্ববাজারে যেহারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে তাতে শিগগিরই আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো। আমি চাই আমার প্রতিষ্ঠান অনেক বড় হোক। এখানে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হোক। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।

অর্থসূচক: নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

কাজী সাজেদুর রহমান: যে কোনো ব্যবসা শুরুর আগে তিনটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। সততা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রম। তাহলেই ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব। নতুন উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন কিছু তৈরি করতে হবে। সমাজ ও দেশের কথা চিন্তা করে কাজ করতে হবে।

অর্থসূচক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

কাজী সাজেদুর রহমান: আপনাকে ও অর্থসূচক পরিবারকে ধন্যবাদ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ