ফলতিতায় ২০ কোটি টাকার মাছবাজার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ফলতিতায় ২০ কোটি টাকার মাছবাজার

বাগেরহাটের ফকিরহাটের ফলতিতা মাছ বাজার। সকাল ১০টায় শুরু হয় হাক-ডাক। ভ্যান, পিকআপ, ট্রাকে ভরে আসে মাছ। দাম নির্ধারণের পর আবার ককসিট, প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও ড্র্যামে ভরে তোলা হয় মাছ। রাস্তায় দ্বিতীয় দফায় অপেক্ষায় থাকে ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক। দেশের বৃহৎ গলদা ও বাগদা চিংড়ি মাছের বাজার ফলতিতা হাটে এ চিত্র নতুন নয়।

চিংড়ি ছাড়া সব ধরনের সাদা মাছের জন্য খ্যাতি আছে খুলনা-বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়ক লাগোয়া এ বাজারের। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মাছ কেনা-বেচায় জমজমাট থাকে এ হাট। দিনের ৫ ঘণ্টায় ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

Bagerhat (1)

বাগেরহাটের ফকিরহাটের ফলতিতা বাজার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাগদা, গলদা, রুই, কাতলা, শিং, শোল, টাকি, মাগুরসহ প্রায় ৫০ ধরনের মাছ আসে এ হাটে। কথা বলার সময় নেই কারো। একদিকে ভ্যান-ট্রাক-পিকআপ ভরে আসছে চিংড়ি ও সাদা মাছ। আবার বিক্রি হওয়ার পর মাছ উঠছে অন্য গাড়িতে।

হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, এ হাটে প্রায় ২০০ মাছের আড়ত রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাদা মাছ। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গলদা আর বাগদা চিংড়ি বিক্রি হয়। হাজারো পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার হাক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখরিত থাকে হাট।

তারা আরও জানান, ডাকের মাধ্যমে চাষী থেকে আড়ৎদার হয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে যায় চিংড়ি। ফলতিতা বাজারের অধিকাংশ আড়ৎদার ও কর্মচারীদের বাড়ি মাটিয়ার গাতি, বানিয়া খালি, মায়ার খালি, রুদ্র গাতি, কলকলীয়া, গোয়াল বাড়ি, পুটিয়া, মূলঘর, খাজাডাঙ্গা। আবার খুলনা ও বাগেরহাট শহরের কেউ কেউ এ হাটে ব্যবসা করেন।

বাগেহাটের ফকিরহাট, মোল্লারহাট, কচুয়া, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, খুলনার রূপসা, তেরোখাদা, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, পাইকগাছা, কয়রা, গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর, পিরোজপুর জেলার চাষীরা ঘের বা পুকুরে চাষ করা মাছ নিয়ে আসেন ফলতিতা বাজারে। এ হাট থেকে মাছ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির জন্য নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। বিদেশে রপ্তানির জন্যও সেখান থেকে মাছ কেনে রপ্তানিকারকরা। আবার তাজা মাছ কেনেন অনেক সৌখিন মানুষ।

Bagerhat (2)

বাগেরহাটের ফকিরহাটের ফলতিতা বাজারে বিক্রির জন্য আনা বড় আকারের চিংড়ি।

এ বাজারের ব্যবসায়ী আবু মুসা জানান, মাছের দাম পরিবর্তনশীল। তবে প্রায় সময় রুই ও কাতলা ৩০০-৪০০ টাকা; তেলাপিয়া ৮০-১০০ টাকা; মৃগেল ১০০-১৫০ টাকা; কার্প জাতীয় মাছ ১০০-১৫০ টাকা; বাগদা ৪০০-৮০০ টাকা; গলদা ৭০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পাইকারি বিক্রির মধ্যে মণ হিসেবে বিক্রি হয় মাছ। আর বিক্রি হওয়া মাছের অধিকাংশই ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ফেনী, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালীর মাছ কোম্পানিতে চলে যায়।

তিনি জানান, ৫০০ পুরুষ এবং ৫০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেন এ হাটে। কাজের ধরণ অনুযায়ী, ৫ ঘণ্টায় ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে এদের প্রত্যেককে।

ফকিরহাটের কলকলিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষী ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এ বছর চিংড়ির দাম কিছুটা কম। গত বছরের ১২০০ টাকার বড় গ্রেডের চিংড়ি এবার ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি গ্রেডের চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ছোট গ্রেডের চিংড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফকিরহাট ফলতিতা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম পপলু বলেন, পাইকারি চিংড়ির সর্ব বৃহৎ বাজার এটি। তবে সব ধরনের সাদা মাছ এখানে বিক্রি হয়; সপ্তাহের ৭ দিনই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জমজমাট মাছ কেনা-বেচা হয় এখানে।

অর্থসূচক/শিউলী/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ