বড় রাজস্ব সম্ভাবনায় নাকুগাঁও স্থল বন্দর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বড় রাজস্ব সম্ভাবনায় নাকুগাঁও স্থল বন্দর

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কাছাকাছি ও সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশন আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব সম্ভাবনাময় উঠছে। ভারতের মেঘালয়সহ কয়েকটি রাজ্য থেকে কয়লা, পাথর, গবাদিপশু, ফলমূল, রাসায়নিক সার, চায়না ক্লে, টিম্বার, চুনাপাথর, পেয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, বল ক্লেসহ ১৭টি পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়।

এরমধ্যে কয়লা ও পাথর বেশি পরিমাণে আমদানি হয়। এছাড়া সিমেন্ট, শাড়ি, গার্মেন্টস পণ্য, মশারিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানিও হয়।

নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশনের ভারতীয় ডলুর অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, শুল্ক স্টেশন স্থাপন ও আমদানি-রপ্তানি যোগ্য পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে রাজস্ব আহরণ অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশন প্রাঙ্গণে এনবিআর অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় নাকুগাঁও স্থল বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে সরকার সব ধরণের সুবিধা দেবে। এ স্টেশনের মাধ্যমে রপ্তানির অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতেও ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কর না দিলে কিভাবে উন্নয়ন হবে। সরকার তো বিদেশ থেকে টাকা এনে উন্নয়ন করবে না। বিদেশ থেকে টাকা আনতে হলে নাকে খর দিয়ে আনতে হয়। যত বেশি আমদানি-রপ্তানি হবে, রাজস্ব বাড়বে তত বেশি উন্নয়ন হবে। সোনার বাংলা গড়তে কর দিতে হবে।

শেরপুরের পর্যশটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সরকার শেরপুরে ইকোনমিক জোন করে দেবে। এতে ইন্ডাস্ট্রি করতে যে কাঁচামাল এ স্টেশন দিয়ে নিয়ে আসলে সরকার ইন্ডাস্ট্রি করতে সহায়তা করবে।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় সারাদেশে ‘রাজস্ব যাত্রার’ অংশ হিসেবে মুখ্য সমন্বয়ক ও এনবিআর চেয়ারম্যান নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশন পরিদর্শন ও বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, নাকুগাঁও স্টেশনের রাজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এনবিআর কাজ করবে। ব্যবসায়ীদের মতামত ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিয়ে কাজ করবে। আগামী মাসে ভারত থেকে কাস্টমস এর উচ্চ পর্যাহয়ে একটি প্রতিনিধিদল আসবে। নাকুগাঁও এর সাথে ডালু স্টেশনের সম্পর্ক কিভাবে ঘনিষ্ঠ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

নজিবুর রহমান বলেন, সারাদেশে একটি রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি চালু হয়েছে। রাজস্ব আহরণকে আরো গণমুখী, করদাতাবান্ধব ও অধিকতর ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব করছে এনবিআর। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে এ স্টেশনে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে, রাজস্ব বাড়বে।

সভায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) এর কমিশনার মাসুদ সাদিক বলেন,  ১৯৯৭ সালে নাকুগাঁও শুল্ক স্টেশন হিসেবে কাজ শুরু। কৌশলগত কারণে এ স্টেশনের সম্ভাবনা খুবই বেশি। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালে অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে এ স্টেশনে ৩০০ ট্রাক পার্কিং সুবিধা, ১০০ টন ক্ষমতার একটি ওয়েট স্কেল স্থাপন করা হয়েছে। ১

তিনি জানান, ৭টি পণ্যের আমদানি ও সব পণ্যের রপ্তানি সুবিধা থাকলেও বেশ কয়েক বছর ধরে কয়লা ও পাথর আমদানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সিমেন্ট, তাঁতের শাড়ি ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ স্টেশন থেকে গত অর্থবছর ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার রাজস্ব আহরিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার রাজস্ব আহরিত হয়েছে। সরকারের নেয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

আমদানিকারকের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ১৭টি পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও মাত্র ২টি পণ্য আমদানি হয়। ১৭ এপ্রিলের পর ভারতের নিষেধাজ্ঞার ফলের তাও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। বৈধভাবে সকল পণ্য এ স্টেশন দিয়ে আমদানি করা হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব। পাথর অগ্রিম কর দিয়ে আমদানির পরও লোড-আনলোডিং চার্জ যেন দিতে না হয় তা বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার বলেন,  ট্রানজিট হলে ভুটান থেকে এ স্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি করা যাবে। এছাড়া শেরপুর-জামালপুর রেল সংযোগ হলেও এ স্টেশনে আমদানি-রপ্তানি বেড়ে যাবে। এ স্টেশনের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়েছে। শেরপুরে আরো বেশি শিল্প স্থাপন হলে এখান থেকে পণ্য এ স্টেশন দিয়ে রপ্তানি হবে, রাজস্ব বাড়বে।

এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিন (শুল্কনীতি) বলেন, এ স্টেশনে ১৭টি পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। যদি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা প্রস্তাব দেন তাহলে সরকার বিবেচনা করবে যাতে সেসব পণ্য এ স্টেশন দিয়ে আমদানি করা যায়। এ স্টেশনের ভারতীয় অংশে শুল্কস্টেশনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে। ফলে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব। এ স্টেশনকে আরো গতিশীল করার জন্য অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডসহ অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

অর্থসূচক/রহমত

এই বিভাগের আরো সংবাদ