এফবিসিসিআইকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চান শফিউল ইসলাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

এফবিসিসিআইকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চান শফিউল ইসলাম

আগামী ১৪ মে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স  অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর ২০১৭-১৯ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  ব্যবসায়ীদের শীর্ষ  এই সংগঠনটির সভাপতি পদে এরই মধ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এফবিসিসিআইর বর্তমান সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

সম্প্রতি এফবিসিসিআই নির্বাচন, দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান এবং পোশাক শিল্পখাতসহ নানা বিষয় নিয়ে অর্থসূচকের সঙ্গে কথা বলেছেন পোশাক খাতের এই ব্যবসায়ী। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদী হাসান।

অর্থসূচক: এফবিসিসিআই সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে কী করবেন?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: বাংলাদেশের সকল ছোট-বড় এবং মাঝারি সকল প্রতিষ্ঠানের প্যারেন্ট অব অর্গানাইজেশন বা অ্যাপেক্স বডি হলো এফবিসিসিআই। এখানে যে সকল বড় বড় চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে, পলিসি মেকিং, অ্যাডভোকেসি বা লবিংয়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদেরই সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যা এই সংগঠনকেই সমাধান করতে হয়। বাংলাদেশের এই অ্যাপেক্স বডিটাকে নিষ্ঠার সঙ্গে আরেকটা লেভেলে নিয়ে যেতে চাই। সর্বোপরি এফবিসিসিআইকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে আমি কাজ করবো।

অর্থসূচক: দেশের ব্যবসায়ী চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অধিকার আদায় ও সমস্যা সমাধানে এফবিসিসিআইকে কতটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করা উচিত?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: এফবিসিসিআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দেশের চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সুবিধা-অসুবিধাগুলো নজরে নিয়ে বাজেট প্রস্তুতের আগে বিষয়গুলোকে তুলে ধরা এবং একটা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ গড়তে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন রয়েছে ,তা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পের বিকাশ ছাড়া সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বর্তমানে আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) সেক্টর ভালো ভূমিকা পালন করছে। তাদের সক্ষমতা তৈরিতে এফবিসিসিআই যাতে আরও বেশি সহায়তা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। আমাদের ছোট এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন রকম পরামর্শের বিষয়ে আমাদের উন্নয়ন আরও বাড়াতে হবে।  লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, নির্মাণসহ অন্যান্য উদীয়মান সেক্টরগুলোর ব্যাপারে আরও গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে এফবিসিসিআইকে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণা, উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ আরও বেশি বাড়াতে হবে।

অর্থসূচক: ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। আপনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে ভ্যাট সমস্যা সমাধানে কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারবেন?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: ভ্যাট ইস্যুতে আমরা অর্থমন্ত্রী এবং এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কোর কমিটিতে লিখিতভাবে ৭ টি বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছিলাম। সেটি এখনও কার্যকর হয়নি।  সেখানে একটা আলোচনায় উঠে এসেছিল যে, বিজনেস কমিউনিটিকে আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য কর আদায় পদ্ধতি সহজীকরণ এবং হয়রানি কমিয়ে আনা দরকার। যাতে একে অন্যের প্রতি পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস  এবং শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। নতুন বাজেটে যে ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে, সেখানে বিজনেস কমিউনিটির অবজারভেশন আছে। বিজনেস কমিউনিটিকে উপেক্ষা করে এটাকে কার্যকর করা ঠিক হবে না। সরকার ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে আসছেন এবং আগামীতেও করবে। সুতারাং আমরা আশা করবো, এটাকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এই সমস্যার সমাধান করবেন। বিজনেস কমিউনিটি ট্যাক্স, ভ্যাট দিতে চায়, কিন্তু সেটি হয়রনিমুক্ত। আমাদের যে টার্নওভার ট্যাক্স, প্যাকেজ ভ্যাট এবং অন্যান্য যেসকল সমস্যা আছে, তা সমাধান করতে হবে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের আগে এখনই আলোচনা শুরু করা দরকার।

অর্থসূচক: বাজেটের আগে এফবিসিসিআই যেসব সুপারিশ দিয়ে থাকে তার কতটা বাস্তবায়ন হয়?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন:  আমরা মনে করি বাজেটের আগে সুপারিশগুলোকে আরও চুলছেড়া বিশ্লেষণ করা উচিত। এক্ষেত্রে আমাদের বিজনেস কমিউনিটিকে আগে থেকেই প্রস্তাবনাগুলোর সুবিধা-অসুবিধাগুলো তুলে ধরতে হবে। ফলে আমরা আরও সুচিন্তিত মতামত দিতে পারবো।  এবার আমরা চলতি মার্চের শেষেই আমাদের প্রস্তাবগুলো দিয়ে দিবো। আমাদের ব্যবসায়ীদের কেউ প্রস্তুতকারক কেউ আবার আমদানিকারক। সেক্ষেত্রে তাদের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট আছে। সেক্ষেত্রে যৌক্তিক যে প্রস্তাবনা হওয়া উচিত, সেটি আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করবো। আমরা চেষ্টা করবো যাতে একটি যৌক্তিক প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা বাজেটে অংশগ্রহণ করতে পারি।

অর্থসূচক: আপনি তো তৈরি পোশাক খাতের একজন ব্যবসায়ী। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে উৎপাদনে কি ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন: অবশ্যই আমাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। শুধু উৎপাদন বা রপ্তানির ক্ষেত্রে নয়, সকল ক্ষেত্রে। যেমন: বিদ্যুতের দাম বাড়েব।  এমনিতেই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমেছে, অর্থনৈতিক সূচকগুলো উঠা-নামা করছে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি আমাদের শিল্পে একটা বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে। গতবছর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক মাত্রায়। এই মুহূর্তে না বাড়ালেই ভালো হতো।

অর্থসূচক: স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের বর্তমান অবস্থা কি ?

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন:  আমাদের সার্বিক চেষ্টা রয়েছে। তবে এখানে অনেক অবকাঠামো ঘাটতি রয়েছে। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আসতেও ৪-৫ বছর সময় লাগবে। এর মধ্যে মধ্যেমেয়াদী যেসব পলিসি রয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের তৈরি করতে হবে। বড় জোনগুলো আসার আগেই এসব কাজ করতে হবে।

অর্থসূচক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন:  আপনাকে এবং অর্থসূচক পরিবারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

অর্থসূচক/মেহেদী

এই বিভাগের আরো সংবাদ