সংকট নেই; মনিটরিংহীন বাজারে গরুর মাংসে ৪ গুণ লাভ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সংকট নেই; মনিটরিংহীন বাজারে গরুর মাংসে ৪ গুণ লাভ

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রায় সব বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম রাখা হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। চলতি মাসের শুরুতেও ৪০০-৪৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল গরুর মাংস। আর গত কয়েকদিন ধরে প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; ১৫ দিন আগেও যা ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গরু, মহিষ, ছাগল কেনা এবং আনুষাঙ্গিক সব খরচ বাদ দিয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা লাভ করার কথা। কিন্তু প্রতি কেজি গরুর মাংসে সাধারণত ১২৮ টাকা লাভ করেন ব্যবসায়ী। এখন সংকটসহ নানা অযুহাত দেখিয়ে দাম আরও বাড়িয়ে প্রতি কেজিতে ২০০ টাকার বেশি লাভ নিচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

meat

মাংসের দোকান।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর ও খাসির মাংসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার জন্য যথারীতি যোগানের সংকটের কথা বলছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। আর ভোক্তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং না থাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাজার মনিটরিং অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নগরীর ষোলশহর কর্ণফুলী বাজার, কাজীর দেউড়ি বাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি প্রতি হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৬০০ টাকা; হাড়সহ মাংস ৫০০ টাকা; কলিজা ৫৫০ টাকা; জিহ্বা ৪০০ টাকা; গরুর মাথা ৩ হাজার টাকা; চারটি পা ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে কেজি প্রতি ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হয়েছে এসব। একই সময়ের ব্যবধানে প্রতি কেজি খাসির মাংসের দামও ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ১৫ দিন আগে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া খাসির মাংস বর্তমান বাজারে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য যোগান কম বলে দাবি করছেন অধিকাংশ মাংস ব্যবসায়ী। তবে বহদ্দারহাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সৈয়দ আকবর জানান, প্রতি বছরে শীতকাল এবং এর পরবর্তী কয়েক মাসে বিয়ে, মেজবান, ওরশ ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের হিড়িক পড়ে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামে এখন ওরশের মৌসুম চলছে। ফলে গরু, মহিষ, ছাগলের দাম চাহিদা এবং দাম বেড়েছে। তাই মাংসের দামও বেড়েছে।

তবে গরু, মহিষ, ছাগলের দাম বাড়ানোর কথা অস্বীকার করছেন চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, তিন থেকে সাড়ে তিন মণ ওজনের প্রতিটি গরুর দাম ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, কর্মচারী খরচ ও আনুষাঙ্গিক খবর নিয়ে আরও ২ হাজার টাকা ব্যয় ধরলে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৩৭২ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। তবু প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৫০০ টাকার বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বিবিরহাটের গরু ব্যবসায়ী শাহ আলী অর্থসূচককে জানান, দেশের গরুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় গরুর সরবারহ ভালো। ফলে গত ৩ মাসে চাহিদা বাড়লেও বাজারে কোনো সংকট নেই; গরু, মহিষ, ছাগলের দাম বাড়েনি। ববং পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় গরু-মহিষের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নির্ধারিত মূল্য তালিকায় হাড় ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৪০০ টাকা; হাড় ছাড়া মহিসের মাংস ৫০০ টাকা; হাড়সহ মহিষের মাংস ৩৮০ টাকা; খাসির মাংস ৬০০ টাকা; ছাগীর মাংস ৫০০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস ৪৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ভোক্তারা জানান, মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে দিয়েই কাজ সেরেছে জেলা প্রশাসন। বাজার মনিটরিংও করছে না সংস্থাটি। ফলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব কিছুতেই বাড়তি দাম নিচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার মতো লোকবল জেলা প্রশাসনের নেই। মাঝে মাঝে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। মূল্য তালিকা না থাকা, ওজনে কম দেওয়া, মাংসে রং লাগানো, মাংসের সঙ্গে চর্বি দেওয়া, অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ নানা কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আগামীতেও জরিমানার পাশাপাশি শাস্তিও দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, গরুর মাংসের দাম বাড়ার কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ