কুবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সর্বশেষ

কুবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্ম দিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষেরই কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্চিত হয়েছেন বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের আইনুল-জিয়া অংশ পরিষদের নন্দী-কামাল  অংশের এবং অফিসার্স এসোসিয়েশনের ফুলের ডালা তছনছ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্ম দিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

উপাচার্য এবং শিক্ষক সমিতি শ্রদ্ধা জানানোর পরই বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরিষদের আইনুল-জিয়া অংশ ফুল দেয়ার পরই ফুল দিতে আসে নন্দী-কামাল অংশ। এ সময়  আইনুল-জিয়া অংশ নন্দী-কামাল অংশকে ফুল দিতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার তৈরি হয়। তখন ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

উত্তেজনার সময় এ সময় পাশে থাকা অফিসার্স এসোসিয়েশনের ফুলের ডালা ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি জিনাত আমান।

তবে এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের (আইনুল-জিয়া) সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল হক। তিনি বলেন, সাধারণত নাম ঘোষণা করা হলেই আমরা ফুল দিতে যাই। ইতিপূর্বে এমনটাই হয়েছে। কিন্তু আজ সংগঠনের নাম ঘোষণা ছাড়াই তারা ফুল দিতে চায়। এবং আমাদেরকে বাধা দিয়ে নন্দী-কামাল অংশ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে আমরা বিব্রত। কোনো কারন ছাড়াই আমাদেরকে তারা বাধা দিয়েছে, লাঞ্চিত করেছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে তারা যা করছে তা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অন্যদিকে পরিষদের নন্দী-কামাল অংশের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ এখন আর আগের সেই আদর্শগত জায়গায় নেই। তাই আমরা প্রকৃত আদর্শ লালনকারীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করেছি। সকালে আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে চাইলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী কিছু শিক্ষক আমাদের ফুল দিতে বাধা দেয় এবং লাঞ্চিত করে। এ সময় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে আহত করে। আমি উপাচার্যের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার বিচার দাবি করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি কমিটি রয়েছে। এর বাইরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে সংগঠন করার অধিকার কারও নেই। তাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম দিয়ে অবৈধভাবে কেউ ফুল দিতে পারে না।

অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জিনাত আমান বলেন, জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে আমরা ফুলের ডালা এনেছিলাম। সেটিকে নষ্ট করা কোন ভাবেই মেনে নেয়ার মতো ঘটনা না। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অধিকার সবার আছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ একাধিক কমিটি করেছে বলে যে তারা শ্রদ্ধা জানাতে পারবেনা এমন নয়। এটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা জাতির পিতাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত তারাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হয়। তাই কাউকে শ্রদ্ধা জানাতে বাধা দেয়া কোন ভাবেই যুক্তি সংগত না।

অর্থসূচক/রাসেল/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ