প্রতিবেশিনীর বাচ্চা চুরি, শেষ রক্ষা হলো না!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

প্রতিবেশিনীর বাচ্চা চুরি, শেষ রক্ষা হলো না!

নিজের বাচ্চা না থাকায় অন্যের বাচ্চা চুরি করেছিলেন এক নারী। প্রতিবেশীদের ভুলভাল বুঝিয়ে খানিকটা বুঝিয়েও ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। কয়েকজন নারীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার কাছে হার মেনে গেলো মিথ্যাচার। মাত্র ৮ ঘন্টার মধ্যেই সদ্যপ্রসূত বাচ্চাটি আসল মায়ের কাছে ফিরে গেলো। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে তা জানা গেছে।

মুরারিপুকুর এলাকায় এক পাড়ায় থাকেন টিনা সাধুখাঁ, রেখা দাস, সোমা জানা, টুম্পা দাস, চিন্ময়ী ও সরস্বতী নস্কর। কিছুদিন ধরেই নাকি চিন্ময়ী বলছিলেন তিনি সন্তান সম্ভবা। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে।

চার নারীর বিচক্ষণতায় ৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হলো শিশুটি।

এদিকে  কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হন সরস্বতী, সাথে ছিলেন একমাত্র চিন্ময়ী ছাড়া সবাই। সরস্বতীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন অন্যরা। সেখানে এক এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরপরই তা চুরি হয়ে যাওয়ার খবর পান তারা।

হঠাৎ বিকেলের দিকে চিন্ময়ীকে দেখে যায় ছেলে কোলে। জিজ্ঞেস করলে চিন্ময়ী বলেন তার সন্তান। একদিনের মধ্যেই সন্তান প্রসব করে তেমন কোনো শারিরীক জটিলতা বা দুর্বলতা ছাড়াই স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ হয় অন্য নারীদের।

রেখা, সোমা আর টুম্পাকে নিয়ে চিন্ময়ীর বাড়িতে যান টিনা। সন্তান কোথায় হল, চার জনেই আলাদা করে চিন্ময়ী ও তার শাশুড়ি ভারতী বেজকে জিজ্ঞাসা করেন। এক-এক বার, এক-এক রকম উত্তর মেলে।

রেখা নামের এক প্রতিবেশী জানালেন, ওরা কখনও বলে, ট্যাক্সিতে বাচ্চা হয়েছে। কখনও বলে, বেলেঘাটা শিশু হাসপাতালে হয়েছে। কখনও বলে, হাসপাতালের সামনেই ছেলে হয়ে গিয়েছে। ফলে সন্দেহের মেঘটা বেশ কালো হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরা মা। সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে মা এবং সন্তানের শারীরিক অবস্থা কেমন থাকে, তা জানি। শিশুটিকে দেখে সে দিনই জন্মেছে বলে মনে হচ্ছিল না। চিন্ময়ী যে ভাবে হাঁটাচলা করছিল, তা দেখে আমাদের সন্দেহ বেড়ে যায়।

এদিকে তিনি ফোনে শিশু চুরির বিষয়টি বাড়িতে জানান সোমা নামের এক প্রতিবেশিনীর স্বামী। তখন তারা টিভিতে দেখেন যে মহিলা শিশু চুরি করেছে, তার ছবি টিভিতে দেখাচ্ছে।

সোমা জানালেন, আমরা টিভি দেখে সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ফের বেজ-বাড়িতে যাই। তখনই দেখি, চিন্ময়ীর আলনায় সবুজ রঙের শাড়িটা টাঙানো। তখনই সবাই বুঝতে পারেন এই বাচ্চাই সরস্বতীর। আর চুরি করেছে চিন্ময়ী।

প্রতিবেশিনীদের বিচক্ষণতায় মায়ের কোলে ফিরে গেলো শিশুটি।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ