‘কোম্পানির স্থায়িত্ব বাড়াতে পুঁজিবাজারে আসা উচিত’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘কোম্পানির স্থায়িত্ব বাড়াতে পুঁজিবাজারে আসা উচিত’

তানিয়া শারমিন দেশের অন্যতম শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডে ডেপুটি সিইও হিসেবে কাজ করেছেন। তারও আগে ছিলেন এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনসিসিবি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও হিসেবে। তার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও। দীর্ঘদিন তিনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) কাজ করেছেন। ২০১১ সালে তিনি বিএসইসি ছেড়ে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডে যোগ দেন। কাজ করেছেন হেড অব ইন্টারনাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে। সম্প্রতি অর্থসূচকের সঙ্গে সাক্ষাতকারে  পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অর্থসূচক: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

তানিয়া শারমিন: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে আমার বেশ ইতিবাচক মনে হয়। দেশের অর্থনীতির সব সূচক এখন ভালো অবস্থায় আছে। ফলে বাজার নিয়ে নেতিবাচক ভাবার কোনো কারণ নেই। পুঁজিবাজারের উন্নয়নের জন্য বিএসইসি অনেক আইন করেছে এবং সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছে। যার সুফল বিনিয়োগকারীরা পেতে শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে যদি রেগুলেটর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে আরেকটু সমন্বয় বাড়ানো যায় তাহলে বাজারকে আর পেছনের দিকে তাকাতে হবে না।

সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া শারমিন। ছবি তুলেছেন মহুবার রহমান

অর্থসূচক: এর আগে আপনি বিএসইসি, ডিএসই ও ব্রোকারহাউজে কাজ করেছেন। এখন করছেন মার্চেন্ট ব্যাংকে। কেমন লাগছে?

তানিয়া শারমিন: বিএসইসি ও ডিএসইতে কাজ করেছি রেগুলেটর হিসেবে। এরপর ব্রোকারেজে কাজ করেছি কম্প্লায়েন্স ও কমিশন নিয়ে। এখন কাজ করছি ক্যাপিটাল ইস্যু, আন্ডার রাইটিং, পোর্টফোলিও এবং অ্যাডভাইজরি নিয়ে। আমার মনে হয় আমি প্রতিনিয়তই শিখছি। একেকটা জায়গার কাজের ধরণ একেক রকম। তবে সব মিলিয়ে ভালো লাগছে। আশা করছি আগামী দিনে সবার সহযোগিতা নিয়ে পুঁজিবাজারে জন্য ভালো কিছু করতে পারবো। যেসময় পুঁজিবাজারেকে কিছু দিতে পারবো, তখন মনে হয় আসল মজাটা পাবো।

অর্থসূচক: বিনিয়োগকারীরা বলছেন বাজারে ভালো ইস্যু আসছে না? ভালো ইস্যু আনার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান কী করবে?

তানিয়া শারমিন: পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আসছে না- এমন কথার সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করতে পারছি না। তবে সব কোম্পানি যে ভালো সেটিও বলছি না। পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে বেশি বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। যত বেশি কোম্পানি বাজারে আসবে, বাজার ততো বড় হবে। বাজারে যাতে ভালো কিছু কোম্পানি নিয়ে আসতে পারি সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। আর এটি করতে পারলেই মার্চেন্ট ব্যাংকে কাজ করার বিষয়টি স্বার্থকতা পাবে।

সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া শারমিন। ছবি তুলেছেন মহুবার রহমান

অর্থসূচক: দীর্ঘ দিন কোনো বহুজাতিক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। কিভাবে তাদের বাজারমুখী করা যেতে পারে?

তানিয়া শারমিন: আমাদের পুঁজিবাজারে বেসরকারি কোম্পানির অন্তর্ভুক্তির জন্য ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আর সরকারি কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আসে। আইপিওসহ নানা জটিলতা থেকে মুক্তি দিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দেওয়া উচিৎ। আমি মনে করি, এতে দেশের বাজারে বিদেশি কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। এছাড়া পুঁজিবাজারের রেগুলেটর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের সমন্বয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতেও দেশের বাজারে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাড়বে। একইসঙ্গে সরকার তাদের ট্যাক্স সুবিধা দিলে এ সুযোগ তারা লুফে নেবে।

অর্থসূচক: একটি পারিবারিক কোম্পানি ভালো ব্যবসা করছে। তারপরও কেন তারা পুঁজিবাজারে আসবে?

সাক্ষাতকার নিচ্ছেন অর্থসূচকের নিজস্ব প্রতিবেদক গিয়াস উদ্দিন। ছবি তুলেছেন মহুবার রহমান

তানিয়া শারমিন: বেশ কিছু কারণে একটি কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসা প্রয়োজন। প্রথমত পুঁজিবাজার হচ্ছে শিল্পায়নের পুঁজি জোগানোর জন্য একটি সাশ্রয়ী উৎস। একটি কোম্পানি চাইলে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে অনেক বড় করতে পারবে। অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে তারা পুঁজিবাজারে আসতে পারে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিগুলো শত বছর টিকে থাকতে পারবে। প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর ওই কোম্পানির অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়বে না। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানির করপোরেট কালচার আরও ভালো হয়। বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়। মূল উদ্যোক্তার মৃত্যু হলে শেয়ারহোল্ডাররা নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে পারেন, যিনি ওই কোম্পানির হাল ধরে সেটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে কিন্তু এমন অসংখ্য উদাহরণ পাওয়া যায়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে শত বছরের বেশি পুরনো অনেক কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি যে কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বাড়িয়ে দেয়।

অর্থসূচক: মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে আপনি কাজ করছেন। এ বিষয়ে আপনার অনূভুতি কী?

তানিয়া শারমিন: দেখেন বিএসইসিতে কাজ করার সময় স্টেকহোল্ডাররা সমস্যা নিয়ে যেত, আমরা আইনকানুন ঘেটে সেটির সমাধান বের করে দিতাম। আর ব্রোকারহাউজে সিইও হিসেবে কাজ করার সময় ক্লায়েন্টদের কাছে গিয়েছি আবার তারা এসেছে। আর এখনকার জগতটা আবার অন্য রকম। সব মিলিয়ে এই জগতটাকে ভালোই লাগছে। সত্যিকারের ভালো ওই সময় লাগবে, যখন পুঁজিবাজারে সিএপিএমের মাধ্যমে ভালো কিছু কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসতে পারবো।

অর্থসূচক: সিএপিএমকে আপনি কোন জায়গায় নিতে চান?

তানিয়া শারমিন: আমি সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেডেকে প্রথম সারির মার্চেন্ট ব্যাংক হিসাবে দেখতে চাই। সেভাবেই কাজ করছি। আমার পর্ষদ সভার সদস্যদের পরামর্শ, সহকর্মীদের সহযোগিতা এখন পর্যন্ত সেভাবে পাচ্ছি। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি প্রতিষ্ঠানটিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ