বালিশও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বালিশও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়!

কর্মব্যস্ত দিনের শেষে হাতের নিচে বালিশ দিয়ে টিভি দেখা কিংবা চা খাওয়ার শান্তিটাই আলাদা। আড্ডার সময়ও অনেকে বালিশে ভর দিয়ে বসতে পছন্দ করেন। আবার মজার ঘুমের জন্য প্রিয় বালিশটাই খোঁজে নেন অনেকেই। তবে একটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, নির্দিষ্ট সময় পর অন্যান্য জিনিসের মতো বালিশের মেয়াদও শেষ হয়। আর মেয়াদোত্তীর্ণ বালিশ ব্যবহারে মাথা ও ঘাড় ব্যথাসহ শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ভালো ঘুমও হয় না।

Pillow

বালিশ।

আরামদায়ক ঘুমের জন্য বালিশ ব্যবহারে কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ।

১. আকৃতি:

আমরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের আকৃতির বালিশ বাছাই করি। বালিশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, বেশি বড় বা ছোট বালিশে ঘুম ভালো হয় না।

২. উচ্চতা

অতিরিক্ত উঁচু ও নিচু বালিশ ঘুম এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যেন ঘাড় বাঁকা করে শুতে না হয়। বিছানায় শোওয়ার পর কাঁধের সঙ্গে গলার উচ্চতা যতটুকু হয়- বালিশের উচ্চতা ততটুকুই হওয়া উচিত। আর চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে ঘাড় এবং বালিশের উচ্চতা সমান্তরালে থাকা উচিত।

৩. বালিশের কভার:

বালিশের কভার খুব বেশি খসখসে হওয়া উচিত না। কারুকাজ করা চাদরের সঙ্গে থাকা বালিশের কভারগুলো ঘুমানোর সময় ব্যবহার করা উচিত না। নরম সুতি কাপড়ের বা সার্টিন কাপড়ের কভার ব্যবহার করা ভালো।

বালিশ পরিবর্তনের লক্ষণ:

১। উপাদান:

বর্তমানে তুলা ছাড়া পালক, ফোম, সিনথেটিক ইত্যাদি উপাদান দিয়ে বালিশ তৈরি করা হয়। পাখির পালক বা সিনথেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি বালিশ ১৮ মাস পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকে। ফোমের তৈরি বালিশ ৩ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

২। ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন:

বালিশ আরামদায়ক হলে ভালো ঘুম হয়। ঘুমানোর সময় আরামদায়ক মনে না হলে বা হঠাৎ বালিশে মাথা রাখার স্থান বা ভঙ্গি পরিবর্তন করতে হলে বুঝতে হবে বালিশটি ব্যবহার উপযোগিতা হারিয়েছে।

৩। ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙ্গা:

বালিশ দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এর আকার পরিবর্তন হয়। সারারাত মেরুদণ্ড বাঁকা রেখে ঘুমালে সকালে ঘাড়, পিঠ ও কাঁধে ব্যথা হতে পারে। যা পরবর্তীতে কোমর ও হাঁটুতে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই প্রথম কয়েকদিন এমন ব্যথা হলে দেরি না করে শিগগির বালিশ পরিবর্তন করুন।

৪। সকালে সতেজ অনুভব না পেলে:

গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের তরঙ্গ ধীর গতির হয়, যা আপানার শরীরকে মেরামত ও পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করে। কিন্তু বালিশের কারণে সৃষ্ট ঘাড় ব্যথা গভীর ঘুমের ব্রেইনওয়েভে বাঁধা সৃষ্টি করে। বুঝতে হবে, এটাই বালিশ পরিবর্তনের উপযুক্ত সময়।

৫। নিয়মিত মাথা ব্যথা:

আপনার বালিশ ব্যবহার উপযোগিতা হারালে মাথা ও ঘাড় ব্যথাসহ শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। পর পর কয়েকদিন ঘুম ভাঙ্গার পর মাথা ব্যথা হলে তা বেড়ে যাওয়ার আগেই বালিশ পরিবর্তন করুন।

৬। ঘুম ভাঙ্গার পরপরই হাঁচি দেওয়া:

পুরনো বালিশ মানেই ধূলা ও পরজীবীদের প্রজননক্ষেত্র। এ ধরনের বালিশে ঘুমালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সমস্যা হয়। এতে ঘুম ভাঙ্গার পরপর কাশি, হাঁচি আসে। তাই বালিশ বেশি পুরনো হয়ে গেলেই তা পরিবর্তন করা উচিৎ।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ