প্রগতি টাওয়ারের নির্মাণ ব্যয় দেখানো হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

প্রগতি টাওয়ারের নির্মাণ ব্যয় দেখানো হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি ১৪তলা ভবন নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ‘প্রগতি টাওয়ার’ নামে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত ওই ভবনের মোট আয়তন ২ লাখ ৬৪ হাজার বর্গফুট। অর্থাৎ প্রতি বর্গফুটের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৮২ টাকা। প্রস্তাবিত এই ব্যয় বর্তমান বাজার মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি।

গণপূর্ত ও সিটি কর্পোরেশনের একাধিক প্রকৌশলীর মতে, বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ব্যয় প্রতি বর্গফুটে ৩ হাজার টাকার বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রগতি নিজস্ব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া ভিত্তি ব্যয় প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৮০০ থেকে ১ হাজার মধ্যে হওয়ার কথা। তবে প্রগতি টাওয়ারের ক্ষেত্রে এ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ৬ হাজার ৪৫৬ টাকা; যা অস্বাভাবিক।

Progoti industries

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার প্রবেশ পথ।

প্রকল্প পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান অর্থসূচককে বলেন, ভবনটির বিভিন্ন তলায় অনেক গাড়ি রাখতে হবে। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরুত্বও বাড়াতে হবে। এজন্য ব্যয়ের হিসাব কিছুটা বেশি বলে মনে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সার্ভিসিং সেন্টার ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত আয়ের সুযোগ দেখিয়ে বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থে ভবন নির্মাণের ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের সার্ভিসিং সেন্টার থেকে প্রতিদিন ৮০০ যানবাহনের মেরামত ও অন্যান্য সেবা দেওয়া যাবে। তবে আয়তন অনুসারে এই সংখ্যা কোনোভাবেই ৩০ এর বেশি হবে না বলে দাবি করেছেন প্রগতির একাধিক কর্মকর্তা। অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বছরব্যাপী অতিরঞ্জিত মুনাফা আয়ের সুযোগ দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ড্রাস্ট্রিজের টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮৭ কোটি টাকা। পরে ব্যয় ৮ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকা কমিয়ে ১৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেখানো হয়। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কিছুটা কমিয়ে আনায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়কাল এক বছর বাড়িয়ে ২০২০ সাল নির্ধারণ করা হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের ‘প্রকল্প মনিটরিং কমিটি’ ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তবনা (ডিপিপি) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকল্পটির ৬৫ হাজার ৫৮৪ বর্গফুটের ভিত্তি ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা; ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪ বর্গফুটের মূল ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এছাড়া প্রকল্পের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যয় ১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপনে ৭ কোটি ২৮ লাখ ৪ হাজার টাকা; সীমানা দেওয়াল নির্মাণে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা; অগ্নি নির্বাপনের জন্য ৫১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে ৩২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সার্ভিসিং সেন্টার থেকে প্রতিদিন ৮০০ যানবাহনের সার্ভিসিং করানো সম্ভব হবে। প্রতিটি যানবাহনের সার্ভিসিং বাবদ ৭ হাজার টাকা হিসাবে বছরে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার যানবাহন থেকে প্রগতির গড়ে ১৬৮ কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক জায়গা ভাড়া দিয়ে বছরে আয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাণিজ্যিকভাবে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭ বর্গফুট মাসিক হিসাবে ৭৫ টাকা হারে ভাড়া আদায় করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রগতির এক প্রকৌশলী জানান, প্রতি বছর প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ যানবাহন বিক্রি করে প্রগতি। সরকারি প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি যানবাহন বিক্রি হয়। সারাদেশে এসব গাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফলে এ সার্ভিসিং সেন্টারে দৈনিক ৮০০ গাড়ি সার্ভিসিং কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতগুলো গাড়ির বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ভবনের আয়তন হবে খুবই ছোট। এই আয়তবে প্রতিদিন ৩০টির বেশি গাড়ির সেবা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, অস্বাভাবিক ব্যয়ে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করায় প্রগতি গাড়ি সংযোজন ছাড়াও অন্য প্রকল্প আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন প্রকল্প পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সার্ভিসিং সেন্টারের সুবিধা থাকায় প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা বেশি মনে হলেও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।

অর্থসূচক/সুমন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ