গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত; বেড়েছে খাসির
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত; বেড়েছে খাসির

ফেব্রুয়ারি মাসে টানা ৬ দিন ধর্মঘটের পরও দাবি আদায়ে ব্যর্থ হন রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। অবশেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়তি দামে মাংস বিক্রি শুরু করেন তারা। এরপর প্রায় ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও গরুর মাংসের দাম কমানো  হয়নি। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস আগের বাড়তি দাম কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে। তবে ধর্মঘটের পর খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আজকের বাজারে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

meat

মাংসের দোকান।

মাংস ব্যবসায়ী সিরাজুল বলেন, বর্তমানে গরুর দাম বেশি; ফলে মাংসের দামও বেশি। এছাড়া যে কারণে আমরা ধর্মঘট করেছিলাম। তার সমাধান তো হয়নি বরং আগের চেয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে। গরু কিনতে আমাদের খরচ বেশি ফলে ভোক্তা পর্যায়েও আমরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছি।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর মাছের বাজারও রয়েছে অপরিবর্তিত।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছিল ব্রয়লার মুরগি। এছাড়া প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি  ১৮৫ টাকায়; দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা; সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা; কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা; সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা; চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা; টেংরা ৬০০ টাকা; মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়; ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ১২০০ টাকা এবং দেড়কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ ১৮০০ টাক থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কাঁচা পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা দাম বেড়েছে। সাদা বেগুন কেজিপ্রতি ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা; কালো বেগুন ৫০ টাকা; কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা; শিম ৫০ টাকা; টমেটো ৩৫-৪০ টাকা; শশা ৪০-৪৫ টাকা; গাজর ৪৫-৫০ টাকা; পেঁয়াজের কালি ২০ টাকা; চাল কুমড়া ১৫ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; মূলা ২৫-৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি পটল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ টাকা, আলু ১৫ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা; লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা; আটি প্রতি পালং শাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়; ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা; মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩০ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা; দেশি রসুন ১০০ টাকা; ভারতীয় রসুন ২০০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৩০ টাকা; চীনের আদা ৭০ টাকা; ক্যারালা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা; পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা; মিনিকেট ভালো ৫০-৫৩ টাকা; মিনিকেট নরমাল ৪৮ টাকা; বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা; নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা; বাসমতি চাল ৫৬ টাকা; কাটারিভোগ চাল ৭৪-৭৬ টাকা; হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ