গরুর মাংসের কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গরুর মাংসের কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা

এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর কোনো বাজারে গরু-ছাগলের মাংসের সাজানো চিত্র দেখা যায়নি। চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট করেছিলেন মাংস ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহের ধর্মঘট শেষে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আবারও দোকান সাজিয়ে ব্যবসায় বসেছেন তারা। তবে ধর্মঘটের আগের এবং পরের বাজারে মাংসের দামের পার্থক্য অনেক বেশি। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিটি মাংসের দোকানেই থরে থরে সাজানো হয়েছে মাংস। বাড়তি দামের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি মাংসের বাজারে। দাম বেশি হলেও ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ী।

রাজধানীর একটি মাংসের দোকান- ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর একটি মাংসের দোকান- ছবি সংগৃহীত

তবে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানোকে অন্যায় দাবি করে ভোক্তারা বলেন, এক সপ্তাহ রাজধানীজুড়ে মাংস বিক্রি বন্ধ ছিল। তাই ওই সময়ে মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। কিন্তু পরিবারের ছোটদের কাছে এটা অসহ্যের। তাই দাম বেশি হলেও তাদের কথা চিন্তা করেই বাড়তি দামে মাংস কিনতে হচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আজকের বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; ধর্মঘটের আগে যা ৪২০ টাকা থেকে ৪৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে খাসির মাংসের দাম খুব বেশি বাড়েনি। ধর্মঘটের আগে খাসির মাংস কেজি প্রতি ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখনও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংসের দাম বাড়ার বিষয়ে রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ী রমযান বলেন, যে সব দাবি আদায়ে আমরা ধর্মঘট করেছিলাম- তা এখনও মেনে নেয়নি সরকার। বরং ধর্মঘটের পর গাবতলী হাটের ইজারাদারদের অত্যাচারের দৌরাত্ম আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা তো ব্যবসা করি। ধর্মঘটের পর ইজারাদারদের অত্যাচারের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচও বেড়েছে। খাজনাসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে গরুর মাংসের দাম আগের দামের চেয়ে কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। খরচ কমে গেলে আমরা দামও কমিয়ে দেব।

এদিকে মাংস কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। হাতিরপুল বাজারের কয়েকজন মাংস বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষির পর খালি হতে ফিরছিলেন জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, ধর্মঘটের পর আজকেই প্রথম বাজারে আসলাম। ভেবেছিলাম, ধর্মঘটের পর মাংসের দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু বাজারের চিত্র ভিন্ন; কমার পরিবর্তে দাম আরও বেড়েছে। এমন চলতে থাকলে মাংস খাওয়াই বাদ দিতে হবে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ১৮৫ টাকায়; দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মাছের বাজার অনেকটাই অপরিবর্তিত আছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা; সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা; কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা; সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা; চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা; টেংরা ৬০০ টাকা; মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়; ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ৮০০ টাকা এবং দেড়কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ ১৮০০ টাক থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর সবজি বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কমছে না নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্যের দাম। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামেই স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের সবজির দাম।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সাদা বেগুন ৫০ টাকা; কালো বেগুন ৪০ টাকা; কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা; শিম ৩৫-৪০ টাকা; টমেটো ৩৫-৪০ টাকা; শশা ৪০-৪৫ টাকা; গাজর ৪০ টাকা; পেঁয়াজের কালি ১০ টাকা; চাল কুমড়া ১৫ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; মূলা ২৫-৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি পটল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ টাকা, আলু ১৫ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা; লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা; আটি প্রতি পালং শাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মুদি পণ্য। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়; ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা; মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৬ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা; দেশি রসুন ১৯০ টাকা (পুরাতন); দেশি রসুন ১৪৫ টাকা (নতুন); ভারতীয় রসুন ২১০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৫০ টাকা; চীনের আদা ৭০ টাকা; করলা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা; পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা; মিনিকেট ভালো ৫০-৫৩ টাকা; মিনিকেট নরমাল ৪৮ টাকা; বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা; নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা; বাসমতি চাল ৫৬ টাকা; কাটারিভোগ চাল ৭৪-৭৬ টাকা; হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ