হাতে হাতে নতুন বইয়ের প্যাকেট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

হাতে হাতে নতুন বইয়ের প্যাকেট

একে কি বলে অভিহিত করা যায়; জনস্রোত, জনজোয়ার নাকি জনপ্লাবন! অমর একুশে বইমেলায় ছুটির দিনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম ছুটির দিনে ভিড়ের মাত্রাটা একটু বেশিই। যা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব দিনগুলোকে।

আজ শুক্রবার বই মেলার ১৭তম দিন। সকাল থেকেই মেলার দ্বার খুলে দেওয়া হলেও; পুরোপুরি জমে উঠতে শুরু করে পশ্চিমে সূর্য হেলে পড়ার সাথে সাথে। শুধুই যে ভিড় ছিল তা নয়; নতুন বইয়ের প্যাকেট নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে বইপ্রেমীদের।

শাহবাগ এবং দোয়েল চত্বর- দুই পাশ থেকেই সারিবদ্ধভাবে বইপ্রেমীরা মেলায় প্রবেশ করেন। বিকেলের রোদ হেলে পড়তেই গোটা একাডেমী প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে কানায় কানায় পূর্ণ।

ছুটির দিনে শিশুদের ভিড়টা একটু বেশিই দেখে গেছে। ছবি মহুবার রহমান

ছুটির দিনে শিশুদের ভিড়টা একটু বেশিই দেখে গেছে। ছবি মহুবার রহমান

শুক্রবার বড়দের বইয়ের পাশাপাশি জমে উঠেছিলো ছোটদের শিশু কর্নার। ছুটির দিনে বাবা-মায়ের হাত ধরে শিশুরা মেলায় আসছে এবং কিনে নিয়ে যায় তাদের পছন্দের সকল বই। শিশু কর্নারে শিশুদের উপস্থিতিতে ভিড় দেখা যায় প্রতিটি স্টলের সামনে। এখান থেকেই শিশুরা মজার মজার ছড়া, সিসিমপুর সিরিজ, কার্টুন, মীনা সিরিজ, ম্যাজিকসহ নানা ধরনের শিশুতোষ বই কিনে বাড়ি ফিরছে।

শিশুদের জন্য এবারের মেলায় অনেক বই আসলেও, তাতে মানসম্পন্ন বইয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অনেক অভিভাবকেরা। তেমনই একজন রাশেদ মামুন। মেয়েকে সাথে নিয়ে মেলায় এসেছেন এ ভদ্রলোক।

শিশুদের বইয়ের বিষয়ে তিনি বললেন, আমাদের দেশের জনপ্রিয় লেখকরা শিশুদের জন্য বই লেখতে পছন্দ করেন না। কারণ, এসব বইয়ের পাঠক কম। আর যেসব বই মেলায় এসেছে, তার বেশিরভাগেরই মান ভালো না। এ বিষয়ে প্রকাশকদের পাশাপাশি বাংলা একাডেমীকেও শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় ক্ষুদে পাঠক জান্নাতের সাথে। বাবার সাথে বই কিনতে এসেছে সে। বললো, আমার পছন্দ ‘ডোরেমন’। আমি ডোরেমনের দুইটা বই কিনেছি।

জান্নাতের বাবা নওশাদ রহমান বলেন, কর্মব্যস্ত দিনে বাচ্চাদের নিয়ে আসার জন্য সময় পাই না, তাই ছুটির দিনে বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় চলে আসলাম। কিন্তু এতো ভিড় যে কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না।

চলছে নতুন বই পছন্দ করা। ছবি মহুবার রহমান

চলছে নতুন বই পছন্দ করা। ছবি মহুবার রহমান

শুক্রবারের মেলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা। কথা হয় অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলামের সাথে। তিনি বললেন, এবারে প্রথম দিন থেকেই মেলা বেশ জমজমাট। প্রত্যেক দিনই উল্লেখ্যযোগ্য হারে এসেছেন পাঠকেরা। আর কিনেছেন প্রিয় লেখকের নতুন বই। আর আজ (শুক্রবার) তো আগের সব ভিড় ছাড়িয়ে গিয়েছিলো মেলায়। এদিন শুধু ভিড়ই ছিলো না। বিক্রিও হয়েছে বেশ।

প্রসঙ্গত, এবার বাংলা একাডেমি চত্বরে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বাংলা একাডেমিসহ ১৪টি প্রকাশনা সংস্থাকে মোট ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১৫টি প্যাভিলিয়ন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে একাডেমির দু্ইটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে ।

১০০ লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউসের দক্ষিণ পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় এবারই প্রথম গুগলমাপের সাহায্যে মেলার যে কোনো স্টল খুঁজে বের করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমী থেকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে এবারই প্রথমবারের মতো স্টলের উপরে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। শিশু কর্নারে মাতৃদুগ্ধ সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

পছন্দের বই দেখার ফেঁকে আরেকজনের বইয়ে উঁকি দিচ্ছে এক শিশু।

পছন্দের বই দেখার ফেঁকে আরেকজনের বইয়ে উঁকি দিচ্ছে এক শিশু।

গ্রন্থমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশ পথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের আটটি পথ রয়েছে। এবারই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের সুবিধার্থে একটি নতুন সুপ্রশস্ত গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকাজুড়ে ২৫০টি সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থারসমূহের নিরাপত্তাকর্মীবৃন্দ।

আয়োজকরা আরো জানান, গ্রন্থমেলা ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

মেলা ঘুরে নতুন বই কেনা। নতুন বই খুলে গন্ধ নেয়া, বইয়ের জন্য মানুষের এ আকুতি, এ ভালোবাসা- একুশের চেতনা থেকেই পাওয়া।

শুধু ছুটির দিন নয়, দিন দিন এ মননশীল পাঠকের এ স্রোত যেন বাড়ছেই।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ