‘দেশে অসম্প্রদায়িকতার ভুল ব্যাখ্যা হয়’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘দেশে অসম্প্রদায়িকতার ভুল ব্যাখ্যা হয়’

কখনও কখনও বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখিত অসম্প্রদায়িকতার মিথ্যা বা ভুল ব্যাখ্যা হয় বলে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তার মতে সংবিধানে উল্লেখিত অসম্প্রদায়িকতার মানে ধর্মহীনতা নয়, এটা ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা।

তাই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেওয়ার জোরালো দাবি থাকলেও তিনি মনে করেন সামরিক শাসনামলে সংবিধানে যোগ হওয়া রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে ইসলামকে বাতিল করার প্রয়োজন নেই।

moshiur-rahman2

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির ‘সপ্তম চাঁপাই উৎসবের’ উদ্বোধন করে মসিউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রনীতি ও ধর্ম বিশ্বাসের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ নেই, রাষ্ট্র ‘আলাদা ক্যাটাগরির জিনিস’।

তিনি বলেন, আমার ধর্ম আমি পালন করছি, রাষ্ট্র আলাদা অন্য ক্যাটাগরির একটা জিনিস। রাষ্ট্রের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে, রাষ্ট্রকেও আমি ভালবাসি, রাষ্ট্রকে আমি রক্ষা করব। কিন্তু রাষ্ট্রনীতি এবং আমার ধর্ম বিশ্বাস এই দুটোর ভেতরে কোনো দ্বন্দ্ব নাই, কোনো সংঘর্ষ নাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতার ‘মূল লক্ষ্য’ হল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা।

উল্লেখ, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছিল ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’। তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত‌্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিয়ে সেখানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা’র কথা বসান। এরপর আরেক সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ অষ্টম সংশোধনী এনে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যোগ করেন।

তবে ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রধর্মের বিধান বাদ দেওয়ার দাবি বিভিন্ন সময়ে উঠলেও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগও তাতে হাত দেয়নি। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীতে দলটি ১৯৭২ এর চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনলেও ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ আগের মতোই থেকে যায়।

ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন‌্যদের মধ‌্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক উজির আলী বক্তব্য দেন।

দিনব্যাপী এই উৎসবে বেশ কয়েকটি স্টলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনের পাশাপাশি সেগুলো বিক্রিও করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ