ভৈরবে সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আত্মসাৎ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সর্বশেষ

ভৈরবে সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আত্মসাৎ

ভৈরবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে শতাধিক অসহায় নারীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। আর এই প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের নাম ব্যবহার করেছে ওই প্রতারক। বলেছে, তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা সংসদ সদস্য পাপনের কাছে দেওয়া হয়েছে। ভাতার কার্ড তাদের নিশ্চিত। টাকা দেওয়ার প্রায় এক বছর কেটে যাওয়ায় এখন ওইসব নারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

Bhairab_1ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর আবাসন ও আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করেন ৯০টি পরিবার। ওখানের ৪০নং ঘরের বাসিন্দা জয়নাল মিয়া (৪৫)। তিনি প্রায় এক বছর আগে আবাসন-আশ্রয়ন প্রকল্পসহ নবীপুর গ্রামের অন্যান্য দরিদ্র পরিবারের নারীদের কাছ থেকে এক থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার কার্ড করে দিবেন তাদের নামে। আর ওই কার্ড পেলে প্রতি মাসে পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। শুধু তাই নয়, তাদের মৃত্যুর পর কার্ডধারী নাতী-নাতনীরাও ওই সুবিধা পেয়ে যাবেন। এমনর মিথ্যা প্রচারনার সময় তিনি সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের ছবি দেখিয়ে বলেন, টাকাগুলো ‘এমপিসাবের’ হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি তো গরীবের টাকা খাবেন না।

এতে লোভে পড়ে অনেকে টাকা নিয়ে ধর্ণা দেয় জয়নালের কাছে। এই সুযোগে জয়নাল হাতিয়ে নেয় কয়েক লাখ টাকা। বর্তমানে কার্ড না পেয়ে জয়নালের কাছে প্রতিদিন ভীড় করছে টাকা প্রদানকারী নারীরা। আশ্রয়য়-আবাসনের ১৮নং ঘরের বাসিন্দা হাসেনা বেগম ৬ হাজার,  ৪নং ঘরের আমেনা বেগম ৬ হাজার ৫শ, ১৩ নং ঘরের মোমেনা বেগম ৪ হাজার এবং নবীপুর গ্রামের একশতআলী ৫ হাজার, মমতা বেগম ৮ হাজার, হাসেনা ৫ হাজার ৭০০, হেলেনা ৫ হাজার, পাঞ্জাতন বিবি ৫ হাজার, শিউলি বেগম ৬ হাজার, আয়মন বিবি ৫ হাজার টাকা জয়নালের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানান। এখন তারা জয়নালের কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে গাল-মন্দ এবং হুমকি-ধামকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করলেও নারীদের উপস্থিতির কারণে স্বীকার করতে বাধ্য হয় জয়নাল। তবে সে কখনো মহিলাদের কাছ থেকে ধার নিয়েছে, কখনো বা কাজ না হলে টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়ার কথা জানান।

এদিকে স্থানীয় সমাজকর্মী আক্কাছ আলী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা করে অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া খুবই দুঃখজনক। তিনি অবিলম্বে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষ প্রতারক জয়নালের বিচারসহ অসহায় নারীদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, বিষয়টি তার জানা ছিলো না। তিনি যেহেতু অবগত হয়েছেন, অবশ্যই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে পদক্ষেপ দেবেন দ্রুত।

তিনি বলেন, আশ্রয়ন-আবাসন প্রকল্প হলো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। এখানে কোনো লোক যদি প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ