রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে পাঠাবেন না: এইচআরডব্লিউ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গার চরে পাঠাবেন না: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচর নামে একটি দ্বীপে পুনর্বাসনের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

নিউইয়র্ক থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি জারি করা বিবৃতিতে ওই দ্বীপটিকে অনুন্নত উপকূলীয় বন্যা-প্রবণ দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করে- রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্ন করে সেখানে না পাঠানোর আহ্বান তুলে ধরা হয়।

কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পাঠানো হলে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকা, খাবার এবং শিক্ষার সুযোগ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কার কথা উঠে আসে বিবৃতিতে।

এইচআরডব্লিউর লোগো

এইচআরডব্লিউর লোগো

বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস এর উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের সরকার হাস্যকরভাবে এমন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবন-যাপন নিশ্চিত হবে বলে দাবি করছে যেখানে কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই এবং জোয়ারের সময় ও বর্ষাকালে তা তলিয়ে যায়।”

বিবৃতিতে সংস্থাটি বলে, ১৯৯০ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে আসা তিন লাখ থেকে ৫ লাখের মত মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে। যাদের বেশিরভাগই অ-নিবন্ধিত।

বার্মিজ সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের পর প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বার্মার রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । এসব নির্যাতনের মধ্যে ছিল বিচার-বহির্ভূত হত্যা, যৌন হামলা এবং পাইকারিভাবে গ্রাম ধ্বংস করার ঘটনাও।

সংস্থাটির মতে “এই প্রস্তাবনা একইসঙ্গে নিষ্ঠুর এবং অকার্যকর এবং এটা ত্যাগ করতে হবে।”

এ মাসের শুরুতেই সরকার ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা পুনরায় তুলে ধরে।

thengarcharবিবৃতিতে বলা হয়, জানুয়ারি মাসে মন্ত্রিসভায় একটি নির্দেশনা পাশ হয়। কিন্তু সকল রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়া হবে নাকি শুধু নতুন আসা ব্যক্তিদের তা পরিষ্কার নয়।

তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি বলেছেন, “রোহিঙ্গারা সাময়িকভাবে ঠেঙ্গার চরে পুনর্বাসিত হবেন। আমরা প্রত্যাশা করি মিয়ানমারের সরকার যত শিগগির সম্ভব তাদের ফিরিয়ে নেবে।”

এই বিভাগের আরো সংবাদ