নির্ধারিত সময়ে ইটিপি স্থাপনে ব্যর্থ চট্টগ্রামের ১৮ প্রতিষ্ঠান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নির্ধারিত সময়ে ইটিপি স্থাপনে ব্যর্থ চট্টগ্রামের ১৮ প্রতিষ্ঠান

পরিবেশ অধিদপ্তরের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) বাস্তবায়ন করতে পারেনি চট্টগ্রামের ১৮ শিল্প-কারখানা। ৬ মাস আগে ২০ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদন্ড দেয়ার প্রেক্ষিতে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ইটিপি বাস্তবায়নে ব্যর্থ শিল্প-কারখানার বিরূদ্ধে মাসিক ভিত্তিতে জরিমানা আরোপ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) এর বাইরে মাত্র ৯৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি কার্যকর রয়েছে।

২০১৬ সালে অভিযানের মাধ্যমে ইপিটি বর্হিভুত ২০টি শিল্প কারখানার পরিবেশ দূষণের সত্যতা পাওয়া যায়। বিভিন্ন মেয়াদে অর্থ দন্ড ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানকে একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ইটিপি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান ইটিপি বাস্তবায়ন করলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ইটিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান্ম ইটিপি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান্ম ইটিপি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ছবি সংগৃহীত

নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত মাসিক ভিত্তিতে জরিমানা আদায় করার শর্ত আরোপ করেছে অধিদপ্তর। তিনটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়নি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্দেশনা কার্যকর করতে না পারলে এসব কারখানার উৎপাদন বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত  নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ইটিপি বাস্তবায়নে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ইতোমধ্যে মাসিক ভিত্তিতে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে বায়েজিদ বোস্তামি এলাকার ম্যাক পেপার এন্ড বোর্ড মিলসকে অধিদপ্তরের সদর দফতর থেকে মাসিক ১ লাখ টাকা হারে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও সাগরিকার কোষ্টাল সী ফুডসকে মাসিক ১ হাজার, আগ্রাবাদের লিমেক্স ওয়াশিং-কে ১ হাজার, অক্সিজেন এলাকার চিটাগাং ওয়াশকে ১ হাজার টাকা, পতেঙ্গা এলাকার বে-ফিশিং অয়েল রিফাইনারীকে  ১ হাজার ৬০০, ইলিয়াস ব্রাদার্স এডিবল অয়েলকে (ইউনিট-২) ৩ হাজার ৮৪০ এবং ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারীকে মাসিক ভিত্তিতে ৮০০ টাকা হারে জরিমানা প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মাসিক জরিমানার পাশাপাশি প্রতি মাসেই ইটিপি স্থাপনের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এদিকে অধিদপ্তরের অভিযানের পর মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কারখানার মালিক পক্ষ। এদের মধ্যে বায়েজিদ এলাকার মদিনা ট্যানারী, সাগরিকার এলাকার নূরজাহান অয়েল লিমিটেড, বায়েজিদের ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড, সাগরিকা শিল্প এলাকার অ্যাকোয়া ফুডস লিমিটেড উৎপাদনে যাওয়ার আগে ইটিপি বাস্তবায়নের কঠোর শর্ত আরোপ করায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে তারা।

খোলা অবস্থায় এসব তরল বর্জ্য ফেলার কারণে তা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ছবি সংগৃহীত

খোলা অবস্থায় এসব তরল বর্জ্য ফেলার কারণে তা পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ছবি সংগৃহীত

এর আগে ইটিপি না থাকায় এককালীন ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছিল বায়েজিদ এলাকার আল্লামা ওয়াশিং-কে ১ লাখ, সাগরিকা এলাকার কোস্টাল সী ফুডস লিমিটেডকে ১ লাখ ২০ হাজার, আগ্রাবাদের লিমেক্স ওয়াশিংকে ২৭ হাজার ৬০০, পূর্ব পতেঙ্গা এলাকার বে-ফিশিং ওয়েল রিফাইনারিকে ৫১ হাজার ৮৪০, উত্তর পতেঙ্গা এলাকার ইলিয়াছ ব্রাদাসকে (এডিবেল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২) ৩ লাখ ২০ হাজার, বায়েজিদ এলাকার ফেব্রিক্স কানেকশনকে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮০, কালুঘাট এলাকার মেঘনা সী ফুডকে ১৯ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছিল।

এছাড়া সরকারী প্রতিষ্ঠান পতেঙ্গা এলাকার টিএসপি কমপ্লেক্স, নাসিরাবাদ এলাকার এক্সপোর্ট প্যাক লিমিটেড ইটিপি প্রক্রিয়াধীন আছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক অর্থসূচককে জানান, ‘ইটিপি বহির্ভুত কারখানাগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইটিপি স্থাপন করতে পেরেছে। অন্যরা কাজ শুরু করলেও বিলম্বিত হওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে প্রতিমাসেই জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এরপরও ব্যর্থ হলে পরিবেশ অধিদপ্তর উৎপাদন বন্ধের মতো কঠোর অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অর্থসূচক/সুমন/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ