বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

রাজধানীর সবজি বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি প্রচুর সরবরাহ থাকার পরও গত কয়েক সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। শীতের শেষ সময় বলে দাম বেশি বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। আর ভোক্তাদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণেই কমছে না সবজির দাম।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। প্রায় সব পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দর

Bazar

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে ছবিটি তুলেছেন মহুবার রহমান

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কালো বেগুন ৬০ টাকা; সাদা বেগুন ৬০ টাকা; শিম ৪০-৫০ টাকা; টেমেটো (ইন্ডিয়ান এলসি) ৫০ টাকা; শশা ৪০-৪৫ টাকা; গাজর ৪০ টাকা; পেঁয়াজের কালি ১৫ টাকা; চাল কুমড়া ১৫ টাকা; কচুর লতি ৬০ টাকা; মূলা ৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি পটল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, করলা ৫৫-৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ টাকা, আলু ২০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা; লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা; আটি প্রতি পালং শাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী সবুজ অর্থসূচককে বলেন, এখন শীতের শেষ সময়; মাঠ পর্যায়ে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে; ফলে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। তাই সবজির দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্যের দাম উঠবে-নামবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অযৌক্তিক দাম বাড়ানো মেনে নেওয়া যায় না। এর জন্য মূলত সিন্ডিকেটই দায়ী।

হাতিরপুল বাজারে সবজি কিনতে হাজির হওয়া উজ্জল দাস বলেন, শীতের মাঝামাঝি সময়ে সবজির দাম কিছুটা কমেছিল। এখন আবার দাম বাড়ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন পর্যায়ের কৃষকরা ১ টাকা বাড়ালে পাইকারি পর্যায়ে ৫ টাকা ও খুচরা বিক্রেতারা বাড়ায় ১০ টাকা। সুতরাং অস্বাভাবিকহারে এই মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।

মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই মুদি পণ্য। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১০৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্র্যান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা; মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৫ টাকা; ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা; দেশি রসুন ১১৫ টাকা; ভারতীয় রসুন ২১০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১৫০ টাকা; চীনের আদা ৮০ টাকা; ক্যারালা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম অপরিবর্তিতই রয়েছে। স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা; পারিজা চাল ৪০-৪১ টাকা; মিনিকেট ভালো ৫০-৫৩ টাকা; মিনিকেট নরমল ৪৮ টাকা; বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা; নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা; বাসমতি চাল ৫৬ টাকা; কাটারিভোগ চাল ৭৪-৭৬ টাকা; হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা; লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা; সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা; কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা; সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা; চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা; টেংরা ৬০০ টাকা; মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়; ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ১৪০০ টাকা এবং দেড়কেজি ওজনের প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ