পেঁয়াজের দর আকাশ ছোঁয়া, বিপাকে ক্রেতারা

পেঁয়াজ

Onion_2রাজনৈতিক অস্থিরতায় পেঁয়াজের দাম আবার লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায়  দেশের মানুষ হতাশ ও উদ্বিগ্ন। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কমায় মানুষের মনে আশার আলো ছড়ালেও এ সপ্তাহে এসে তা গত কয়েক মাস আগের দামকেও ছাড়িয়ে গেল।

রোববার রাজধানীর কয়েকটি পণ্যবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৪০ টাকা এবং আমদানি পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি দেশি পুরাতন পেঁয়াজ ১১০ টাকা, পুতন পেঁয়াজ ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা এবং আমদানি পেঁয়াজ ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ছিল ৬০ থেক ৬৫ টাকা এবং আমদানি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি।

চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে আমদানি করা পেঁয়াজ দর ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা তা এখন এসে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়।

এর আগে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। এখন আবার রাজনৈতিক অস্থিরতায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

রোববার রাজধানীর শ্যামবাজার ও খুচরাবাজার শান্তিনগর, ফকিরাপুল, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, কাপ্তানবাজার, ঠাটারীবাজার,  বৌবাজার, সায়েদাবাদ কাঁচাবাজার, কমলাপুর কাঁচাবাজার, কোনাপাড়া, মতিঝিল এজিবি কলোনী বাজারসহ রাজধানীর আশে পাশের বাজারগুলোতে  দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে সেঞ্চুরি পার হয়ে দ্বিগুণ সেঞ্চুরির পথে দৌড়াতে শুরু করছে।

পেঁয়াজ নিয়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। রীতিমতো এ পণ্যটির জন্য সারাদেশে হাহাকার পড়ে গেছে। এতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। কারণ পেঁয়াজের বিকল্প অন্য কোনো পণ্য এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে।

কিন্তু হরতাল-অবরোধে সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে এ পণ্যটির দাম। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেও রাজধানীসহ গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারেও পেঁয়াজের আকাল দেখা দিয়েছে।

শ্যামবাজারে নবীন ট্রেডার্সের পরিচালক নারায়ণ শাহা অর্থসূচককে বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম পোর্টে আমার ৭ লাখ টাকা পেঁয়াজে লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে তিনি দু-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম যেভাবে বেড়েছে ঠিক সেভাবে কমে যাবে বলে জানান।

মতিঝিলের সুমন চকিদার অর্থসূচককে বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম অবরোধের কারণে বাড়ছে। আমাদের কিছু করার নেই।

বাজার করতে আসা রুহুল আমিন বলেন, “যাদের কারণে আজ বাজারে এ অবস্থা তাদের তো আর সমস্যা নেই, সমস্যা যা সব আমাদের।”

“আমরা গরিব মানুষ, নুন আনতে পান্তা ফুরায়; পেঁয়াজের যে দাম তাতে পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে”।

তিনি বলেন, বড় লোকেরা দাম জিজ্ঞাসা না করেই পেঁয়াজ ৪ থেকে ৫ কেজি কিনে নিচ্ছে। তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তার ইনকাম অনেক বেশি।

বাজারে ক্রেতাদের একটাই দাবি খুব দ্রুত যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পেঁয়াজের দামসহ নিত্যপণ্যের দাম যেন গরিবের আওতার মধ্যে থাকে।

এসএস/এআর