আরএন স্পিনিংয়ের মামলা তুলে নিল বিএসইসি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আরএন স্পিনিংয়ের মামলা তুলে নিল বিএসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর আগে বিএসইসির বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় কোম্পানিটি।

আরএন স্পিনিং এর পর বিএসইসিও মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ‌আয়োজনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বেঞ্চে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে এই মামলা প্রত্যাহারের পর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বিএসইসির আর কোনো মামলা রইল না।

রাইট শেয়ার নিয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগে ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক ও উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এ নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালের ১৬ই জুন আদালতে ৪৩৮৩ নং রিট আবেদন করে কোম্পানির পরিচালকরা।

তবে এই আবেদনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়েক করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসময় কমিশন কোম্পানির বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করে। উভয় পক্ষের এই পাল্টা-পাল্টি মামলার শুনানি দীর্ঘ দিন আটকে থাকে। এই মামলার কারণে কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠান এবং লভ্যাংশও ঘোষণা করেনি।

তবে কয়েক বছরের অচলাবস্থার পর গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিএসইসির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় কোম্পানির পরিচালকরা। এরপর আর আজ বুধবার বিএসইসির করা মামলা প্রত্যাহার করা হলো।

 ২০১১ সালে আরএন স্পিনিং ১:১ হিসেবে রাইট শেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ টাকা প্রিমিয়ামসহ রাইট শেয়ারের দর প্রস্তাব করা হয় ২০ টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বিএসইসি কোম্পানির রাইট প্রস্তাব অনুমোদন করে। নির্ধারিত সময়ে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা রাইট শেয়ারের টাকা জমা দিয়ে তাদের প্রাপ্য শেয়ার কিনে নিলেও এ বিষয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেয় কোম্পানির উদ্যোক্তারা পরিচালকরা। তারা কোনো টাকা জমা না দিয়েই ব্যাংকের জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে বিএসইসিকে জানায়, তারা ওই শেয়ার কিনেছে।

এই জালিয়াতি ধরা পড়ে গেলে বিএসইসি ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক ও উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর একে কেন্দ্র করেই শুরু হয় মামলা-পাল্টা মামলা।

মামলার কারণে ২০১২ সাল থেকে আরএন স্পিনিং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। একই কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)।

‘জেড’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০১০ সালে আইপিওতে আসে। শতভাগ রফতানিমুখী আরএন স্পিনিং মূলত ১৬ ধরনের অ্যাক্রিলিক ও দুই ধরনের কটন সুতা উত্পাদন করে।

কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার।

এই বিভাগের আরো সংবাদ