চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ১৮ হাজার ১৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর বিপরীতে ১৭ হাজার ১০৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় করেছে সংস্থাটি।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে চলতি অর্থবছরে। আর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ের তুলনায় এবারের রাজস্ব আদায় ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে। আগের অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

Chittagong Customs House

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এনবিআর চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ৩৩ হাজার ১২১ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছিল এনবিআর। কিন্তু ওই সময়ে ৩১ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ৩৯ হাজার ৬২২ কোটি ৭ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ২ হাজার ৩৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৩২৩ কোটি ৪৯ টাকা; যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। আগস্ট মাসে ২ হাজার ৯৬৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার কোটি ৯০ লাখ টাকা; যা ওই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের তৃতীয় মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায় অনেক কমেছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ২৮৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও আদায় হয়েছে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা; যা ওই মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮১১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম।

অক্টোবর মাসেও চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ওই মাসে ৩ হাজার ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৮২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা; যা ওই মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ কম।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। নভেম্বর মাসে ৩ হাজার ৮৩ কোটি ৮ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

ডিসেম্বর মাসে আবারও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এ সময়ে ৩ হাজার ৩৯৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আদায় হয়েছে ৩ হাজার ২২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৩ কোটি ৯০ লাখ বা ৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

ctg-portচট্টগ্রাম কাস্টমসের শুল্ক, ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক এই তিন খাতে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৬৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৬৩০ কোটি ৫১ লাখ টাকা; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।

ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪০৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ২০ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

সম্পূরক শুল্ক খাতে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৬০ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। অর্থাৎ এ খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ কম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া, চট্টগ্রাম বন্দরে মামলা জট, লোকবল সংকটসহ নানা কারণে এনবিআরের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। একইসঙ্গে লোকবল সংকটের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, লোকবল সংকটের কারণে কাস্টমসের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এআইআর শাখায় কাজের গতি বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং লোকবল সংকট দূর করতে পারলে কাস্টমস থেকে লক্ষ্যমাত্রা আদায় সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকে অনেকটা উচ্চাবিলাসী বলে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মতে, লক্ষ্যমাত্রা আদায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য কেউই একা দায়ী নন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার এ.এম.এফ. আব্দুল্লাহ খান অর্থসূচককে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে ব্যর্থ- এটা বলা উচিৎ হবে না। গত অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের এবার ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে পেরেছি আমরা।

তিনি বলেন, কাস্টমসের লোকবল বাড়ানো হলে এবং মামলা জটে আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হলে লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি থাকতো না। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা। অবশ্যই ভালো অবস্থার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস।

চলতি অর্থবছরের অর্ধেক সময়ের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় পরবর্তী ৬ মাসে এ ঘাটতি পূরণ এবং অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা। আগামীতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কাজের গতি বাড়ানো এবং লোকবল নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অর্থসূচক/দেবব্রত/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ