নতুন বছরে ব্রোকারেজ হাউজমুখী চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নতুন বছরে ব্রোকারেজ হাউজমুখী চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা

বছরের শেষ দিকের পুঁজিবাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখীতার ধারা অব্যাহত রয়েছে নতুন বছরেও।  ২০১৭ এর শুরুতে পুঁজিবাজারের এই অবস্থান চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার। ২০১৭ সালের চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম সপ্তাহের বাজারের অবস্থান বাজার কে দিয়েছে নতুন প্রাণ। তাই বিনিয়োগকারী বাজারে আসতে শুরু করায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের ব্রোকারেজ হাউজগুলো।

চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বছরের শুরুতে বাজারের এই অবস্থান দেখে নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া পুরোনো ও হারিয়ে যাওয়া বিনিয়োগকারীরা আসছেন। সব মিলিয়ে ২০১৭ সাল দেশের পুঁজিবাজারের মুনাফার বাজার হবে বলে আশা প্রকাশ  করছেন তারা। তবে কোন ধরনের কারসাজির উপরও বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকখানি নির্ভর করছে। অতীতের মতো কিছু হলে বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা।

মোঃ ফোরকান নামের একজন বিনিয়োগকারী অর্থসূচককে বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই সে ধারা অব্যাহত রেখেছে যা বিনিয়োগকারীদের নতুন ভাবে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ২০১০ সালের হারিয়ে ফেলা গতি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে তা খুঁজে পেতে যাচ্ছে বলে দেখা গেছে। লেনদেন আর কোম্পানির দাম বাড়ার দিক থেকে ২০১৬ সালে নতুন রেকর্ড করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে। আশাকরি স্থিতিশীল একটি বছর এবং স্থিতিশীল একটি পুঁজিবাজার পাবো আমরা।

বিনিয়োগকারী বাজারে আসতে শুরু করায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের ব্রোকারেজ হাউজগুলো।

বিনিয়োগকারী বাজারে আসতে শুরু করায় প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের ব্রোকারেজ হাউজগুলো।

এনামুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কিছু সিদ্ধান্ত বর্তমান পুঁজিবাজারে কাজে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক নমনীয় হয়েছে। ব্যাংক আমানতের উপর মুনাফা বা সুদ প্রদান হার কমিয়ে দেওয়ার কারনে মানুষ ব্যাংকে টাকা না জমিয়ে ভালো মৌলভিত্তি সম্পূর্ণ শেয়ারে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করছে। ফলে বাজারে নতুন মূলধন সৃষ্টি হচ্ছে এবং শেয়ারের চাহিদা সৃষ্টির সাথে দাম বাড়ছে।

যা বাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জলতর হওয়ার লক্ষণ। আশা করি চলতি বছরে পুঁজিবাজার মানুষের আস্থার কর্মস্থলে পরিণত হবে।

চট্টগ্রাম ইনভেস্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল আনিস মুন্না বলেন, আমি চাই নতুন বছরে বাজারের অবস্থান সুগঠিত হোক। যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারে তাদের মূলধন কাজে লাগিয়ে কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। এ জন্য কর্তাব্যক্তিদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ খুবই জরুরী।

তবে বাজারের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে দ্রুত পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম বাড়ছে সেটা নিয়ে আমি আশংকা প্রকাশ করছি। দেখা গেল পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা বাজারে আবার বিনিয়োগ করলো। পরে দেখা গেল বাজার আবার হটাৎ ২০১০ এর অবস্থায় ফিরে গেছে। এতে করে বাজারে পরবর্তীতে আর বিনিয়োগকারী ফিরে আসবে না। এজন্য বাজার আস্তে আস্তে বেড়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল পর্যায়ে যাক। এতে বিনিয়োগকারীরা বাজারে থেকে যাবেন এবং দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিনিয়োগকারী সমীর রঞ্জন দত্ত বলেন, শেয়ারবাজার বর্তমানে আমি মনে করি তার নির্দিষ্ট গতিতে চলছে। কিছু কোম্পানির আর্থিক বিবরনী প্রকাশের পর বা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পর তার চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে আর কিছু কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে শেয়ারের দামের সংশোধন হচ্ছে আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন হওয়াটা একটা স্বাভাবিক গতিশীল বাজারের মূল লক্ষণ। আশাকরি এই গতি অব্যাহত থাকবে আর আমাদের শেয়ারবাজার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কিছু সিদ্ধান্ত বর্তমান পুঁজিবাজারে কাজে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমালোচকরা।

বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কিছু সিদ্ধান্ত বর্তমান পুঁজিবাজারে কাজে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমালোচকরা।

টি.কে. শেয়ার এন্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার কাজী মাঝারুল ইসলাম অর্থসূচককে জানান, নতুন বছরের শুরুতে বাজারে শেয়ার দাম বৃদ্ধি দেখে আমাদের পুরানো বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে আসতে শুরু করেছেন। আগে যেখানে আমাদের বিনিয়োগকারীদের চেয়ারগুলো খালি পড়ে ছিল সেগুলো ক্রমেই কমতে শুরু করেছে। আশা করছি এভাবে মাসখানেক শেয়ার বাজার চলতে থাকলে আবারো জমজমাট হয়ে উঠবে হাউজগুলো। তবে বিনিয়োগকারীরা বাজারে না আসলেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ট্রেড করছেন। যেটা বাজারের জন্য বড় একটি প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।

আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম অর্থসূচককে বলেন, নতুন বছরে বাজার বেশ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় আছে। বাজারের এমন আস্থাশীল পরিবেশ দেখে ব্রোকারেজ মুখী হয়েছেন চট্টগ্রামের বিনিয়োগকারীরা। এমন ভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের হারানো সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরে সরকারী প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসবে। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে আসার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। এখন বাজারে যে প্রতিষ্ঠান গুলো আসতে চাচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিইসি, সিইসি কিংবা ডিইসিকে ভালো করে বিচার বিশ্লেষণ করে বাজারে আসার ছাড়পত্র দেওয়া উচিত। বাজারে যেন আজে বাজে প্রতিষ্ঠান না আসতে পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত। কারণ এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বাজারে অবস্থানকে নষ্ট করে দেয়।

তারা আরও জানান, বিনিয়োগকারী ছাড়া বাজার মূল্যহীন। ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো খুলে দেওয়া হলে বাজারের টার্নওভার ক্রমান্বয়ে বাড়বে। নতুন ও পুরনো বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগ করলে আবারও পুঁজিবাজারের সুদিন ফিরবে।

এজন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ইতিবাচক মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ।

দেবব্রত/কাঙাল মিঠুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ