স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন; জীবন বাঁচান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে জানুন; জীবন বাঁচান

প্রতিদিন আমরা যে সব মৃত্যুর খবর পাই, তার বড় অংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা বলা হয়। মূলত মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ কিংবা রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হওয়ার কারণেই স্ট্রোক হয়। আর এতে অকালে প্রাণ হারান অনেকেই।

তবে স্ট্রোক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু সবার মৃত্যু হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োগ হলে স্ট্রোক হওয়া ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। আর স্ট্রোক হওয়া রোগীকে চিকিৎসা দিতে এর উপসর্গ বা লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

strokeমস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া এই দুই অবস্থাই স্ট্রোকের আওতায় আসে। দুই অবস্থাতেই প্রায় একই ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দেয়। স্ট্রোকের কিছু উপসর্গ:

১) মাথা ঘুরানো, হাটতে অসুবিধা হওয়া; ২) ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া; ৩) কথা বলতে সমস্যা হওয়া, শরীরের একাংশ অবশ হওয়া ও দুর্বল ভাব এবং ৪) চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার বা বেশি দেখা।

কোনো ব্যক্তির স্ট্রোক হয়েছে- এমন সন্দেহ হলে তাকে জিহ্বা বের করতে বলুন। জিহ্বা ভাঁজ হলে অথবা বাঁকা হয়ে গেলে বুঝতে হবে- স্ট্রোক করেছেন তিনি।

এসব উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগীর অবস্থা কতটা খারাপ- তা নির্ণয় করতে না পারলে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। যেকোনো স্ট্রোকের রোগীকে স্ট্রোক হওয়ার ৩ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া যায়; তবে তার সুস্থ হয়ে ফেরার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই স্ট্রোকের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীকে শিগগির চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

stroke2স্ট্রোক শনাক্ত করার সহজ ৩টি ধাপ S T ও R সম্পর্কে ধারণা রাখুন।

মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ শনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি ভয়ানক কষ্ট পেলেও অনেক সময় পাশে থাকা প্রিয় মানুষটিও তা বুঝতে পারেন না। অজ্ঞতার কারণেই হারাতে হয় প্রিয় মানুষকে। তাই স্ট্রোক শনাক্ত করতে S T ও R সম্পর্কে ধারণা রাখুন। সন্দেহ হলেই ৩টি কাজ করতে বলুন।

S- Smile বা হাসতে বলুন; T- Talk বা কথা বলা (কয়েকটি বাক্য একইসঙ্গে বলতে বলুন) এবং R- Raise hands বা হাত উপরে তুলুন (একইসঙ্গে রোগীর দুই হাত উপরে তুলতে বলুন)।

এই ৩ ধাপের কোনো একটিতেও যদি সমস্যা বুঝতে পারেন বা তার কষ্ট হয়- তবে আর দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিন। চিকিৎসককে বিস্তারিত জানান।

স্ট্রোকের ঝুকি কমানোর কিছু উপায়:

১) স্বাস্থ্যসম্মত জীবন ব্যবস্থা; ২) নিয়মিত খাওয়া; ৩) ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা; ৪) ধুমপান থেকে বিরত থাকা; ৫) কোলেসটেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া; ৬) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা; ৭) নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো; ৮) দুশ্চিন্তা না করা; ৯) মাদক ও মদ্য পান থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।

অর্থসূচক/তাবাচ্ছুম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ