ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে যেতে পারে এ্যাপোলোর এনওএফ প্রকল্প
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে যেতে পারে এ্যাপোলোর এনওএফ প্রকল্প

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে যেতে পারে এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের নন অক্সিডাইজিং ফার্নেস (এনওএফ) প্রকল্প। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত টাকা দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কোম্পানিটি। আইপিওতে ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, ‌এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ঢেউটিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে। এই কোম্পানির টিনের ব্র্যান্ড রাণী।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এনওএফ এমন এক প্রযুক্তি যেখানে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে টিন উৎপাদন করা হয়। এই ধরনের টিনে সহজে মরিচা ধরে না। ফলে এনওএফ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত টিনের স্থায়ীত্ব হয় অন্যান্য টিনের চেয়ে অনেক বেশি।

appollo-nof

এ্যাপোলো ইস্পাতের এনওএফ প্রকল্পের কারখানায় মেশিনারিজ স্থাপনের কাজ চলছে

এ্যাপোলো ইস্পাতের সিনিয়র মহা-ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহির হোসাইন (অব) অর্থসূচককে বলেন, সাধারণ প্রযুক্তির কারখানায় এসিড ব্যবহার করে টিনের কাঁচামাল  থেকে ধুলাবালি সরানো হয়। কিন্তু এনওএফ প্রকল্পে প্রচণ্ড তাপের মাধ্যমে ধুলাবালি ও ময়দা পরিষ্কার করা হবে। এনওএফ প্রযুক্তিতে সালফিউরিক এসিড, কস্টিক সোডা এবং লেড ব্যবহার না করেই ঢেউটিন উৎপাদন করা হয়। এ কারণে একদিকে প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে টিনের স্থায়ীত্ব হয় বেশি।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে এই প্রকল্প বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার মতো ঘটনার কারণে বিদেশি টেকনিশিয়ানরা কাজে আসেনি। ফলে সঠিক সময়ে উৎপাদনে যেতে পারেনি এই প্রকল্প।

জানা গেছে, এনওএফ প্রকল্পের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিকটন। তবে ৬০ হাজার মেট্রিকটন উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা রাজিব হাসান অর্থসূচককে বলেন, এনওএফ প্রকল্পে বার্ষিক বিক্রি হতে পারে প্রায় ৫১০ কোটি থেকে ৫২০ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে নিট আয় হতে পারে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নতুন কারখানার ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগেই। বেশিরভাগ মেশিন বসানোর কাজও প্রায় শেষ।

২০১৩ সালে এ্যাপোলো ইস্পাত পুঁজিবাজারে আসে। আইপিওতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারে ১২ টাকা করে প্রিমিয়াম নিয়ে ২২ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করা হয়।

২০১৪ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস এবং ২০১৫ সালে ১২ শতাংশ বোনাস ও ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। সর্বশেষ বছরে (২০১৫-১৬) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা। চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস হয় ৬৭ পয়সা।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ