বিশ্ব পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু কতটুকু?
রবিবার, ৩১শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিশ্ব পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু কতটুকু?

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য দেশের পুঁজিবাজারেও এখন বইছে সুবাতাস। সিএনএনের এক খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্ব পুঁজিবাজারে সম্প্রতি যে ধকল গেছে, সেখান থেকে তা এখন ২০ শতাংশ উত্থানে ফিরেছে। এর অর্থ বিশ্ব পুঁজিবাজারে এখন সুদিন ফিরছে।

চলতি বছরে বিশ্বের প্রধান প্রধান পুঁজিবাজারে কতটুকু ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে তার একটি চিত্র প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের কোথাও কোথাও  সূচক বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।

ওই চিত্রে দেখা যায়-

  • কানাডার টরেন্টোতে প্রধান সূচক টিএসএক্স চলতি বছরের জানুয়ারির পর বেড়েছে ৩১ শতাংশ;
  • যুক্তরাজ্যে এফটিএসই ১০০ সূচক ফেব্রুয়ারির পর বেড়েছে ২৩ শতাংশ;
  • চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর জার্মানির বাজারে ডিএএক্স সূচক বেড়েছে ২২ শতাংশ;
  • এ সময়ে নেদারল্যান্ডসের বাজারে ২০ শতাংশ বেড়েছে এইএক্স সূচক;
  • নরওয়েতে জানুয়ারি থেকে বাজারের সব সূচকই বেড়েছে ৩১ শতাংশ;
  • গ্রিসের পুজিবাজারে দেখা গেছে সূচকের উল্লম্ফন। ফেব্রুয়ারির পর অ্যাথেক্স কমপোজিট সূচক ৫০ শতাংশ বেড়েছে;
  • জানুয়ারির পর রাশিয়ার বাজারে মাইচেক্স সূচক ৩১ শতাংশ ও আরটিএস সূচক বেড়েছে ৬৭ শতাংশ;
  • আর্জেন্টিনায় মার্ভাল ইনডেক্স বেড়েছে ৮৭ শতাংশ;
  • ব্রাজিলের সাও পাউলো থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পর বোভেসপা সূচক বেড়েছে ৬৬ শতাংশ;
  • চলতি বছরে চীনের সাংহাই ও হংকংয়ে সূচক বেড়েছে যথাক্রমে ২৩ ও ৩১ শতাংশ;
  • জুনের পর জাপানের বাজারে নিক্কেই বেড়েছে ২২ শতাংশ;
  • ফেব্রুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার বাজারে এএসএক্স সূচক বেড়েছে ৪৩ শতাংশ;
  • সৌদি আরবে অক্টোবর মাসের পর সব ধরনের সূচক বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

 

এদিকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও এ সময়ে দেখা যায় ইতিবাচক ধারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজার সামনের দিনে আরও এগুবে। ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ছিল ৩৫০ কোটি টাকার কিছু উপরে। বর্তমানে সেটি ৬৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সূচকও।

ছবিটি প্রতীকী

ছবিটি প্রতীকী

সিএনএনের খবরে বলা হয়, প্রত্যেক স্টক মার্কেট ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসতে স্বতন্ত্রভাবে কিছু ফ্যাক্টর কাজ করেছে। যা বিশ্ব পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

তেল ইস্যু:

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দাম পড়ে যায় ২৬ ডলারে। যা বিশ্ব পুঁজিবাজারের সূচকগুলোতে আতঙ্ক তৈরি করে। একইসঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব ফেলায়।  অনেক মার্কিন কোম্পানি এসময় দেউলিয়ার দিকে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি কয়েক মাসে তেলের বাজার আবারও ঘুঁরে দাড়ায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল তেল বিক্রি হচ্ছে ৫০ ডলারের ওপরে। অবশ্য, সম্প্রতি ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেলের উৎপাদন সীমিত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসাার পরই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের আবারও বাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া ও নরওয়ের মতো দেশে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা গেছে।

চীন:

চলতি বছরের শুরুতে চীনের অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল চরমে। যা দেশটির পুঁজিবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু এখন বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা রিয়েল এস্টেট খাতের বাইরে বিনিয়োগ করার জায়গা খুঁজে পেয়েছে।

সরকার এখন অবকাঠামো খাতে অর্থ ঢালছে। আর এই টাকা ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ধার নিচ্ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাজারে।

বিজয়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প:

সম্প্রতি মার্কিন নির্বাচন ছিল বিশ্ব পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলার মতো এজেন্ডা। এসময়ে মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। কিন্তু নির্বাচনের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর কমানো ও অবকাঠামো খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে যায় পুঁজিবাজার। সম্প্রতি আগের সব রেকর্ডকে ভেঙ্গে ফেলেছে বাজার।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ