রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য: সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » শিক্ষা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য: সাবেক ভিসির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

rokea-universityক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পদোন্নতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া ও উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাত মাসের মাথায় দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া।

তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেটভুক্ত ২৬০ পদের বৈধ নিয়োগের বাইরে অনুমোদনবিহীন এবং বাজেট বহির্ভূতভাবে ৪১৪ জনকে অতিরিক্ত নিয়োগ দেন। দুদকের কাছে অভিযোগ আসার পর কমিশন অনুসন্ধান করে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে চরম অনিয়মের প্রমাণ পায় তার এবং তৎকালীন উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মণ্ডলের বিরুদ্ধে।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, এই উপাচার্যের বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে তিনি পীরগঞ্জী ইজমকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রংপুরে আসেন এবং তার দুই শ্যালিকা, দুই ভায়রা আর কন্যার মাধ্যমে একটি পারিবারিক নিয়োগ সিন্ডিকেট তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যান।

দুদক সূত্র আরও জানায় অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২৪ জন। এদের মধ্যে শিক্ষক ১২, কর্মকর্তা ২ এবং কর্মচারী ১০ জন। কিন্তু তিনি যোগদান করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। যার অধিকাংশই অনিয়ম এবং আত্মীয়তার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিবারের যেসব সদস্য এবং আত্মীয়দের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন তারা হলেন, মেয়ে রোমানা ফেরদৌসী জলিলকে ড.ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা কর্মকর্তা, ভাই মাহবুবুর রহমানকে  হিসাব শাখার কর্মকর্তা। ভায়রা গাজী মাজহারুল আনোয়ার এক বছর আগে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকলেও সহকারী থেকে রাতারাতি বনে যান সহযোগী অধ্যাপক।

অপর ভায়রা আশরাফুল আলমকে পূর্বভাগ স্নাতকোত্তর শেষে হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। অপর ভায়রার মেয়ে মনিরা খাতুনকে নিয়োগ দেন কম্পিউটার অপারেটর পদে। শর্ত না মেনেই ওই পদ থেকে সরাসরি তাকে সেকশন অফিসার গ্রেড-১ এ পদোন্নতি দেন। আরেক ভায়রার মেয়ে আরা তানজিয়াকে নেওয়া হয়েছে ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক পদে। আপন খালাতো ভায়রা শাহ রেজাউল করিমের অভিজ্ঞতা না থাকলেও এডহকে নিয়োগ দিয়েছিলেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে।

উপাচার্যের বড় ভাইয়ের মেয়ে সীমা খাতুন সংস্থাপন শাখার কম্পিউটার অপারেটর। নিকটাত্মীয় সুভেনির বেগম এবং তাহমিনা খাতুন লিপিকে দেওয়া হয়েছিল ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার অপারেটর পদে। অফিস সহকারী কম্পিউটার অপারেটর পদে আপন ভাগ্নে সোহেল রানা আর ভায়রা গাজী মাজহারুলের ভগ্নিপতি হুমায়ুন কবীরকে নেওয়া হয়েছে।
অনিয়মের মধ্য দিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়া শাহজাহান আলী মণ্ডলকে মূল পদের বাইরে রেজিস্ট্রার এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে তার অপকর্মের সহযোগী বানিয়েছিলেন উপাচার্য। তাই দুদক প্রাথমিকভাবে এ দু’জনকে দায়ী করে মামলার অনুমোদন দেয় বলে জানিয়েছে কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।  তবে তদন্ত শেষে আসামি সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

নয়ন/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ