টানা অবরোধে রেলের সিডিউল বিপর্যয়: যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

rail১৮ দলীয় জোটের টানা অবরোধের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রেন চালাতে গিয়ে দেশের পূর্বাঞ্চলের রেলপথে ট্রেন চলাচলে সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। কমানো হয়েছে ট্রেনের গাতিবেগ। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের কোনো ট্রেনই যথাসময়ে পৌঁছতে পারছে না নির্ধারিত স্টেশনে। প্রতিটি ট্রেনই গন্তব্যস্থলে অন্তত ৮-১০ ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে ট্রেন যাত্রীরা। অনেক কমে গেছে ট্রেনগুলোতে যাত্রী সংখ্যাও। জিআরপি পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন চলাচলে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাঁচটি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) অথাৎ শাটলট্রেন। শুধু তাই নয় রেলে নাশকতারোধে জন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও শুরু করেছে পুলিশ।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানাগেছে পূর্বাঞ্চল রেল রুটে চলাচলকারী কোনো ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে স্টেশগুলোতে পৌঁছতে পারছে না। একদিনের ট্রেন পরদিন আসার ঘটনাও রয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল ১১টার চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এখানো ঢাকা ছাড়েনি। বিকেল ২টার সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এখানো ঢাকাই পৌছতে পারেনি।ঢাকাগামী উপকুল এক্সপ্রেস সকাল পৌনে ১০টায় আখাউড়া আসার কথা থাকলেও নোয়াখালী থেকে ছেড়েছে বিকেল ৩টায়। ঢাকাগামী সূবর্ণ এক্সপ্রেস ৪ ঘন্টা বিলম্বে বিকাল ৩টায় আশুগঞ্জ অতিক্রম করেছে।এই রুটে চলাচলকারী সব অন্তনগর ট্রেনেরই মারাত্মক সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। যাত্রীদেরকে ট্রেনের জন্য দিনরাত স্টেশনে অপেক্ষা করার পাশাপাশি ট্রেনে উঠেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০/১২ ঘণ্টা পরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে হচ্ছে।এতে করে ট্রেন যাত্রীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

রেলওয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রেললাইন উপড়ে ফেলা, ফিশপ্লেট খুলে ফেলাসহ ট্রেনকে বিভিন্ন নাশকতা থেকে বাঁচাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখিত রেলপথে এখন পাঁচটি শাটল ট্রেন (লোকোমোটিভের সঙ্গে একটি বগি যুক্ত ট্রেন) ব্যবহার করা হচ্ছে নিরাপত্তার জন্য। এসব ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা থাকেন। শাটল ট্রেন যাত্রীবাহী ট্রেনের আগে চলাচল করে। শাটল ট্রেনে থাকা লোকজন রেললাইনের অবস্থা সম্পর্কে জানানোর পর যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়। কৌশল হিসেবে একটি ট্র্রেনের সাথে আরেকটি খুব কম দূরত্ব রাখা হয়। চট্টগ্রাম, লাকসাম, আখাউড়া, ঢাকা ও সিলেট থেকে এসব শাটল ট্রেন চলাচল করে। অনেক তদারকির পরও নাশকতার আশঙ্কা পিছু ছাড়ছে না। যে কারণে ট্রেনের গতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল মোতালেব ও আশুগঞ্জ স্টেশন মাস্টার আব্দুল্লাহ ফারুক জানান কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে প্রতিটি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে এবং পূর্বাঞ্চল রেলপথে ট্রেন চলাচলে সিডিল বিপর্যয় হয়েছে।বর্তমানে রেলপথের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে গতিবেগ ৬০-৭০ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৩০-৪০ কিলোমিটার গতিতে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত শাটল ট্রেন চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে।এভাবে টানা অবরোধ চলতে থাকলে সহসা ট্রেন চলাচলের সিডিউল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না। এতে করে প্রতিটি স্টেশনের আয়ও অর্ধেকের নীচে নেমে আসবে।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান এই থানাধীন ১০২ কিলোমিটার আপ এবং ডাউন লাইনের নিরাপত্তার জন্য ৩৮টি পয়েন্টে আনসার, প্রতিটি স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রেলওয়ের পাশাপাশি থানা পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আছেন। এছাড়া ২টি টহলটীম রাতদিন ১০২ কিলোমিটার রেলপথ প্রহরা দিচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে পুলিশের বিভিন্ন তৎপরতায় গত আট দিনে বড় ধরনের কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।

এআর