মরিচের দাম আরও কমেছে
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মরিচের দাম আরও কমেছে

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কমেছে। তবে বাজার পরিপূর্ণ হলেও কমেনি শীতকালীন সবজির দাম।chile

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হাতিরপুল, শান্তিনগরসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলকফি, বাঁধাকফি, মূলা, বেগুন, ঢেঁড়স, পটল, বরবটি, কচুর লতি, করলা, কচুর মুখীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উর্ধ্বমুখী। তবে কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে। তবে আলু ও পেঁপে ছাড়া অন্য সব সবজি ও তরকারি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

সবজিতে বাজার পরিপূর্ণ থাকলেও বিক্রেতাদের অভিযোগ চাহিদা বেশি সরবারাহ কম। তাই সবজির দাম বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও নানা অজুহাতে দাম কমাচ্ছে না বিক্রেতারা।

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, এখন শীতকালীন নতুন সবজি আসায় দাম বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কিছু কিছু পণ্যের দাম কমেছে। পুরোপুরি শীত আসলে আরো কমবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজধানীতে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। যেদিন শহরে সবজি বেশি আসে সেদিন দাম একটু কমে।

এদিকে ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সবসময়ই থাকে; তবে চাহিদা বেশি থাকার ফলে ব্যবসায়ীরা দাম কমায় না।

ধানমন্ডির বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, রাজধানীতে সবজির দাম সবসময় উর্ধ্বমুখীই থাকে। কমলে সর্বনিম্ন ৫ থকে ১০ টাকা। তবে এখন মৌসুমি সবজির সাথে সাথে সকল সবজির দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা।

বাজারে দেখা গেছে, শিম প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা; বেগুন (কালো) ৮০ টাকা ও (সাদা) ৬০ টাকা; গাজর ৮০ টাকা; ঢেঁড়স ৮০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাকরোল ৬০ টাকা; শশা ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা; বাঁধাকপি ৪০ টাকা; টমেটো ৯০ থেকে ৮০ টাকা; মূলা ৫০ টাকা; জালি ৫০ টাকা এবং লাউ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে।

কচুর লতি ৬০ টাকা; কচুরমুখী ৫০ টাকা; পটল ৪০ টাকা; বরবটি ১০০ টাকা; কাঁচাকলা ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা; শালগম ৫০ থেকে ৬০ টাকা; পুরান আলু ২৬ থেকে ৩০ টাকা; নতুন আলু ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া লেবু হালিপ্রতি ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শাঁকের মধ্যে আঁটিপ্রতি পালং শাক ২০ টাকা; লালশাক ১৫ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা; লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা থেকে ৩৫ টাকা। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এছাড়া আদা (দেশি) ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা এবং আদা (বিদেশি) ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুন দেশি ১৫০ টাকা, ভারতীয় ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১০২ টাকা; কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৯৫ টাকা; মুগ ডাল ১১০ টাকা; মাসকলাই ১৬০ টাক; ছোলা ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আজকের বাজারে ১৪৫ টাকায়; লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৩৮০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৪৫০ টাকা; কাতলা ৩০০-৫০০ টাকা; তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা; সিলভার কার্প ১৬০-২০০ টাকা; পাঙ্গাস ১২০-১৮০ টাকা; টেংরা ৮০০ টাকা; চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকা ও দেশি মাগুর ৬০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রকার ভেদে চিংড়ি ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ইলিশ প্রতিজোড়া (মাঝারি) ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা; বড় ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা; পারিজা চাল ৪০-৪২ টাকা; মিনিকেট ৪০-৪৮ টাকা; বিআর আটাশ ৪০-৪৪ টাকা; নাজিরশাইল ৫০ টাকা; বাসমতি ৫২-৫৫ টাকা এবং পোলাও চাল মানভেদে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/মুন্নাফ

এই বিভাগের আরো সংবাদ