অলটেক্সের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
২০ বছরে চারবার লভ্যাংশ

অলটেক্সের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ

হোম টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় প্রতি বছরই রপ্তানির জন্য ট্রফি পাচ্ছে। কিন্তু তাদের এই সাফল্যের ছিটেফোটা ভাগও পাচ্ছে না পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নানা কৌশলে বিনিয়োগকারীদেরকে ঠকিয়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Altex Industries

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ

১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্তির পর গত ২০ বছরে কোম্পানিটি মাত্র ৪ বার লভ্যাংশ দিয়েছে। এছাড়া কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার মূল্য কারসাজি করে অবৈধভাবে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারসাজির অংশ হিসেবে কোম্পানিটিকে ৩/৪ বছর টানা লোকসানী দেখানো হয়। এতে শেয়ারের দাম তলানীতে নেমে আসে। এ সময়ে কোম্পানির উদ্যোক্তারা বেনামে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন। পরে নানা গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়। ওই বছর কোম্পানি ‘হঠাৎ’ বিপুল মুনাফা করতে সক্ষম হয়। ভালো মানুষের মতো বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করেন উদ্যোক্তারা। ওই খবরকে সামনে রেখে তারা বেনামিতে কেনা সব শেয়ার চড়া দামে বিক্রি করেন বলে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে  আছে পিগমেন্ট ডাইড, পিগমেন্ট অ্যান্ড রিঅ্যাকটিভ প্রিন্ট, ডায়েড বেড সিট, ডুয়েট কভার, ফ্ল্যাট সিট, পিটেড সিট, প্ল্যাটফর্ম ব্যালেন্স, পর্দা, কুশন কভার, উইনডো ব্যালেন্স, পিলোকেসহ টেক্সটাইলের অন্যান্য আইটেম। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইডেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ প্রভৃত্তি দেশে পণ্য রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির স্পিনিং, ওয়েভিং, ফেব্রিক্স এবং ডাইংয়ে আরো ৪টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো অলটেক্স স্পিনিং মিলস, অলটেক্স ওয়েভিং, অলটেক্স ফেব্রিক্স এবং অলটেক্স ডাইং, ফিনিশিং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড।

দীর্ঘদিন লোকসান দেখানো কোম্পানিটি পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের জন্য হঠাৎ কোম্পানিটি বেশ ভালো অংকের মুনাফা দেখিয়ে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার আগে থেকেই বাজারে এ নিয়ে গুজব ও ফিসফিসানি চলতে থাকে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে শেয়ারের দাম। শেয়ারের দাম দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ১৭ টাকা থেকে ৩৫ টাকা উঠে।

কোম্পানিটি তার আর্থিক হিসাবে কারসাজি করলে তা ধরা পড়ে যায়। জানা যায়, কোম্পানিটি ১৭ কোটি টাকা ঋণের সুদ বকেয়া রেখে আয় বাড়িয়ে দেখায়। এতে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ২ টাকা ৫৬ পয়সা। অথচ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হলে শেয়ার প্রতি লোকসান হবার কথা ৩ টাকা ৬৪ পয়সা। এ নিয়ে অর্থসূচক একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনের কয়েকদিনের মধ্যে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বছর শেষে শেয়ার প্রতি ৩৮ পয়সা আয় দেখানো হয়। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’ ১৬) শেয়ার প্রতি লোকসান দেখানো হয় ৩৯ পয়সা। একই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৫) ইপিএস দেখানো হয় ৮৬ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৫) ইপিএস দেখানো হয় ৫০ পয়সা

পরবর্তীতে অলটেক্সের আর্থিক প্রতিবেদনের উপর বিশেষ নিরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। যদিও ওই নিরীক্ষার ফলাফল আর প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে পর পর দুই বছর লভ্যাংশ দেওয়ার পর আবার কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। বছর শেষে শেয়ার প্রতি ৩৮ পয়সা আয় দেখানো হয়। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’ ১৬) শেয়ার প্রতি লোকসান দেখানো হয় ৩৯ পয়সা। একই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৫) ইপিএস দেখানো হয় ৮৬ পয়সা। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৫) ইপিএস দেখানো হয় ৫০ পয়সা।

পর পর দুই প্রান্তিকে ভালো ইপিএস দেখিয়ে শেয়ারের দাম ১৭ টাকা থেকে ৩০ টাকায় উঠানো হয়। এরপর ওই দামে কোম্পানির দুই স্পন্সর বাস্তুশিল্পী লিমিটেড এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ৭ লাখ শেয়ার বিক্রি করে বাজারে। আর এই শেয়ার বিক্রির পরের প্রান্তিকগুলোতেই দেখানো হয় লোকসান।

তালিকাভুক্তির পরের ২০ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোম্পানিটি ১৯৯৭ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। এরপর ব্যবসা ভালো থাকলেও টানা ১০ বছরে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০০৮ সালে আড়াই শতাংশ ঘোষণা করে। এরপর পাঁচ বছর আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এরপর প্রথমবারের মতো পরপর দুই বছর (২০১৪ ও ১৫)১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দেয় অলটেক্স।

উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির আগে ইপিএস বাড়িয়ে দেখানো এবং বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার পর নাটকীয়ভাবে ইপিএসে ধস উদ্যোক্তাদের কারসাজির স্পষ্ট ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের মতে, অলটেক্সের ইতিহাস পুরোটাই অসঙ্গিতে পূর্ণ। বিশেষ করে উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির আগে ইপিএস বাড়িয়ে দেখানো এবং বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ার পর নাটকীয়ভাবে ইপিএসে ধস উদ্যোক্তাদের কারসাজির স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিএসইসির উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অলটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। পরে ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে ফোন ধরার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এরপরও তিনি ফোন ধরেননি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ