মধ্যরাতেই বৈধ হচ্ছে ইলিশ
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মধ্যরাতেই বৈধ হচ্ছে ইলিশ

টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা ও পরিবহনসহ সব ধরণের প্রক্রিয়াজতকরণ এবং বেচাকেনা নিষিদ্ধ ছিল।আজ রাত ১২টার পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠতে যাচ্ছে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে বৈধ হচ্ছে ইলিশ। সরকার নির্ধারিত এ সময়ের পর আজ মধ্যরাত থেকে আবারো দেশের নদীগুলোতে ইলিশ মাছ ধরতে পারবে জেলেরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজারে ইলিশ আসতে এখনো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা অর্থসূচককে এসব কথা বলেন। কারওয়ান বাজারে টেকনাফ ফিস ভাণ্ডারের হিসাবরক্ষক এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম অর্থসূচককে বলেন, কাল থেকে ইলিশ ধরতে কোনো বাধা না থাকলেও বাজারে ইলিশ আসতে এখনো ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, কাল ভোর থেকে নদীতে মাছ ধরতে নামবে চাষীরা। ওই মাছ ঢাকায় আসতে পরদিন সন্ধ্যা। ফলে পুরোদমে ঢাকায় ইলিশ পাওয়া যাবে ২ দিন পর থেকে। নতুন ইলিশ বাজারে আসলে ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভিন্ন কথা শোনালেন ব্যবসায়ী হারুন মিয়া। তিনি বলেন, বাজারে ইলিশ আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ এখন নিষিদ্ধ থাকাতে কোনো ব্যবসায়ী বাজারে ইলিশ আনছে না। কিন্তু নিষাধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার দিন সকাল থেকেই বাজারে পাওয়া যাবে ইলিশ।

তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী অছেন যারা ইলিশ মজুদ করে রেখেছেন। যখন ইলিশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে তখন মজুদ করা ইলিশ নিয়ে তারা বাজারে হাজির হবে। এছাড়া চোরাইভাবে যেসব ইলিশ ধরা হয়েছে সেগুলোও বাজারে আনবে তারা। ফলে নদী থেকে ইলিশ আসার আগে প্রচণ্ড দাম হাকিয়ে তারা ব্যবসা করে নিবে।

অন্য এক আড়তের সহকারি ম্যানেজার আখতারুজ্জামান মনে করেন, ২২ দিন মাছ না ধরায় নদীতে বেশি মাছ পাওয়া যাবে। ফলে আড়তে মাছের দামও কম থাকবে। বন্ধের আগে যে ইলিশ হালি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকায়, তা এখন পাওয়া যাবে ১ হাজার টাকার মধ্যে। যখন ইলিশের সরবরাহ কমে যাবে তখন আবার ইলিশের দাম বাড়তে শুরু করবে।

এদিকে সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের ব্যবসায়ী বাদল রাজ বংশি বলেন, সরকারের এ ধরণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নিষিদ্ধ হওয়া ওই সময়ে আমরা ইলিশ বিক্রি থেকে বিরত ছিলাম। অন্য মাছ বিক্রি করেছি। তবে কাল থেকে ইলিশ বাজারে আসলে আমাদের ব্যবসা অনেকটা চাঙ্গা হবে। কারণ অন্য মাছ বিক্রি করলে যে লাভ হয়; ইলিশ বিক্রি করলে তার থেকে দ্বিগুণ লাভ হয়।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইলিশ না ধরায় নদীতে প্রচুরসংখ্যক ইলিশ বিচরণ করছে। কারণ এসময়ে মা ইলিশ সুস্থ্যভাবে ডিম ছাড়তে সক্ষম হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।

মৎস্য অধিদপ্তরের জাটকা সংরক্ষণ ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক এ.বি.এম জাহিদ হাবিব অর্থসূচককে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ নদীতে এসেছে বলে পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে। ফলে জেলেরা প্রচুর ইলিশ ধরতে পারবে।

তিনি বলেন, গতবার ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল ১৫ দিন; এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২২ দিন। ফলে এবারের ইলিশের আকারও বড় হবে। ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রতিবছরের মতো এ বছরও ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর থেকে আজ ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নির্ধারিত এই ২২ দিন ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত মোট ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকসহ সারা দেশের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা বলবত রাখা হয়।

অর্থসূচক/মুন্নাফ

এই বিভাগের আরো সংবাদ