৭২ ঘণ্টা পর বাজারে আসছে ইলিশ
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৭২ ঘণ্টা পর বাজারে আসছে ইলিশ

গাজী শরীফ মাহমুদ। বেসরকারি চাকরিজীবী। অফিস শেষ করে প্রতিদিন বাসায় ফেরেন রাত ১০টার পর। কিন্তু ১১ অক্টোবর ফেরাটা ছিল একটু অন্যরকম। মনে মনে বলছিলেন, কাল ১২ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ। তাই এই রাতেই বেশি করে ইলিশ কিনে রাখি। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। রাত ১১টার পর অন্যদিনের মতো রাজধানীর অলিতে-গলিতে আর ইলিশের দেখা মেলেনি। ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে।

তার মতো রাজধানীর অনেকেই ওইদিন রাতে খালি হাতে ফিরেছিলেন। তবে আশাহত হননি। কারণ ২২ দিন পরই যে বাজারে মিলবে ইলিশ! সে ভাবনায় এখনই বসে আছেন শরীফরা।

ইলিশ- ছবি সংগৃহীত

ইলিশ- ছবি সংগৃহীত

সবশেষ শরীফদের প্রহর গোণার দিন শেষ হচ্ছে। আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা পর বাজারে মিলতে যাচ্ছে ইলিশ উৎসব। বাঙ্গালির উৎসব। ৩ নভেম্বর থেকে পুরোদমে বাজারে আবারও সস্তায় মিলতে পারে ইলিশ।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান,  মা ইলিশ রক্ষায় গত ১২ অক্টোবর থেকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।  ২ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে। এ সময় মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে প্রতিটি ইলিশ ১০ থেকে ১২ লাখ ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ বছর প্রায় ৩০ হাজার কোটি জাটকা উৎপন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতারা জানান, গতবার মা ইলিশ রক্ষায় কিছুদিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় এবছর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে জেলের জালে। ইলিশের প্রচুর আমদানিতে দাম ছিল সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এতে ক্রেতারা কম দামে প্রচুর ইলিশ কিনতে পেরেছে। অপরদিকে বিক্রি বেশি হওয়ায় বিক্রেতারাও ব্যাপক লাভবান হয়েছে। সরকারের এ বছরের উদ্যোগও সফল। আগামীতে আরও সস্তায় ইলিশ মিলবে আশা করা যাচ্ছে।

মালিবাগ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হাজি মো. হানিফ অর্থসূচককে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী,  ইলিশের বেচাবিক্রি এ কয়দিন বন্ধ ছিল। এই মার্কেটের কোনো ব্যবসায়ী ইলিশ বিক্রি করেনি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমরা কেউই ইলিশ বিক্রি করবো না।

সরকারি নির্দেশনাকে সমর্থন জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, বছরের এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। এসময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকলে অনেক বড় কাজে দিবে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ এবং বিনিময় কঠোরভাবে বন্ধ থাকলে এবার আমরা যে রকম সস্তায় ইলিশ খেয়েছি, আগামীতে আরও সস্তায় ইলিশ খেতে পারবো।

নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায় কোন প্রভাব পড়ছে না উল্লেখ করে মো. হানিফ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য ভালো। গতবার মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছিল। এতে বাজারে ইলিশের ব্যাপক আমদানিতে কমেছিল দামও। ফলে ক্রেতার প্রচুর ইলিশ কিনেছে। এতে করে আমাদের বিক্রি বেশি হওয়ায় লাভও বেশি হয়েছে।

মালিবাগ মাছ বাজারে কথা হয় ক্রেতা মসিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। ক্রেতা হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে। এসময় ইলিশ ধরা উচিত নয়। ক্রেতারা ইলিশ না কিনলে বাজারে এমনিতেই ইলিশের চাহিদা কমে যাবে, তাতে বিক্রেতারাও উৎসাহ হারাবে। এজন্য ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাহলে ইলিশের উৱপাদন বাড়বে। এতে পরবর্তীতে ক্রেতারাও কম দামে ইলিশ খেতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ