আইপিওর রোড শো'তে পুঁজিবাজার চাঙা হওয়ার আভাস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আইপিওর রোড শো’তে পুঁজিবাজার চাঙা হওয়ার আভাস

অর্থসূচক সম্পাদক ও ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেছেন, যত বেশি আইপিও আসবে, অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান তত বাড়বে। তবে ওই আইপিওগুলো আসতে হবে যৌক্তিক মূল্যে, যাতে উদ্যোক্তারা শেয়ারের প্রকৃত মূল্য পান, আবার বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত না হন। আজ রোববার একুশে টেলিভিশনের একুশে বিজনেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি যখন বাজার থেকে মূলধন নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে, নতুন ইউনিট স্থাপন করে, তখন অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান বেড়ে যায়। কারণ এর মধ্য দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ে। রপ্তানির পরিমাণ বাড়ে। কোম্পানি থেকে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পায়।

নিশ্চয়ই কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের বর্তমান ধারা পর্যালোচনা করে সামনে অনেক সম্ভাবনা এবং সুন্দর সময় দেখছেন। আর এ কারণেই তারা বাজারে আসার জন্য এ সময়টিকে বেছে নিয়েছেন

আইপিওতে আসার জন্য সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কোম্পানির রোড শো’কে তিনি ইতিবাচক মনে করেন। এছাড়া এসব রোড শো পুঁজিবাজারের সম্ভাব্য গতিশীলতার আভাস দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে অর্থসূচক সম্পদক বলেন, নিশ্চয়ই কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তারা পুঁজিবাজারের বর্তমান ধারা পর্যালোচনা করে সামনে অনেক সম্ভাবনা এবং সুন্দর সময় দেখছেন। আর এ কারণেই তারা বাজারে আসার জন্য এ সময়টিকে বেছে নিয়েছেন। তারা ভালো করেই জানেন, খারাপ সময়ে বাজারে এলে ভালো কোম্পানির শেয়ারও উপযুক্ত দাম পায় না। আবার ভালো সময়ে এলে তুলনামূলক দূর্বল কোম্পানিও ভালো দাম পেয়ে যায়। মনস্তাত্ত্বিক কারণে এমনটি হয়, বাজার প্রবণার কারণে হয়।

উল্লেখ, কোনো কোম্পানি প্রিমিয়াম নিয়ে শেয়ার ছাড়তে চাইলে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওতে বাজারে আসতে হয়। আর এই পদ্ধতির শর্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে রোড শো নামের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে হয়। গত তিন মাসে ৭টি কোম্পানি রোড শো করেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হাসপাতাল), ঢাকা রিজেন্সি হোটেল, বসুন্ধরা পেপার মিল,  বেঙ্গল পলিমার, ইনডেক্স এগ্রো ও রানার অটোমোবাইলস। সোমবার পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রোড শো অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাপ্য মূল্য না পেলে আগামীতে কোনো উদ্যোক্তা বাজারে আসতে চাইবে না। আবার বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজার থেকে ছিটকে পড়বে। তখন শেয়ার বেচার পরিবেশই থাকবে না।

একুশে বিজনেস অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী উভয়কে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন,  এক সময় বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে নিলামে শেয়ার বিক্রির আগে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হতো। এই নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে অনেক কারসাজি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশক মূল্যের পর্বটি তুলে দেওয়আ হয়েছে। এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সরাসরি নিলামে অংশ নিয়ে দর প্রস্তাব করবেন। এ সময় তারা যেন যথেষ্ট গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে শেয়ারের যৌক্তিক মূল্যের (Fare Value) কাছাকাছি দর প্রস্তাব করেন; যাতে উদ্যোক্তারা শেয়ারের প্রাপ্য দাম পান, আবার বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হন। প্রাপ্য মূল্য না পেলে আগামীতে কোনো উদ্যোক্তা বাজারে আসতে চাইবে না। আবার বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজার থেকে ছিটকে পড়বে। তখন শেয়ার বেচার পরিবেশই থাকবে না।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে সন্তুষজনক মনে করেন এই বাজার বিশ্লেষক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বাজারের কিছু বিষয় বেশ লক্ষ্যণীয়।প্রথমত বাজারে লেনদেন বেড়ে পাঁচশ কোটি টাকায় স্থিতিশীল হয়েছে। এমনটি আর কিছুদিন চললে, লেনদেন হয়তো ৬/৭ শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেখানে গিয়ে স্থির হয়ে।

দ্বিতীয়ত গত কিছুদিনে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম এবং মূল্যসূচকও বেড়েছে। বাজারে সূচকের বড় ধরনের উঠা-নামা নেই। ধীরে ধীরে সূচক উর্ধমুখী হচ্ছে। বাজার অনেক যৌক্তিক আচরণ করছে। কোনো সেক্টরের শেয়ারের দাম কিছুটা বাড়ার পর সেখানে প্রফিট টেকিং হচ্ছে, মূল্য সংশোধন হচ্ছে। তথন হয়তো নতুন কোনো খাত ফের উর্ধমুখী হচ্ছে। এর ফলে বেশ অনেকদিন পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মুনাফার মুখ দেখছেন। কোনো বিনিয়োগকারী লোকসান দিলেও আশা বুক বাঁধতে পারছেন, বাজারে যেহেতু মুনাফা হচ্ছে, তাই কাল না হয় পরশু তিনিও হয়তো মুনাফা করতে পারবেন। এভাবে বাজার তার আকর্ষণ ফিরে পাচ্ছে।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে অর্থসূচক সম্পাদক বলেন, তিনি আশা করছেন শিগগীরই এই বিষয়ে আইনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা না হলে কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারে না। অথচ দেশে অনেক সম্ভাবনাময় কোম্পানি আছে, যাদের মূলধন কম বলে আইপিওতে আসতে পারছে না। আবার মূলধনের অভাবে তারা তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না, বিশেষ করে আইটি কোম্পানিগুলো।পুঁজিবাজার থেকে মূলধন পেলে হয়তো কোনো কোনো কোম্পানি অনেক দূর যাবে।

নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো। এতে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারহাউজ, অ্যাসেট ম্যানেজার, লিস্টেড কোম্পানিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার অংশ নেবে। বিনিয়োগের কলাকৌশলসহ অনেক বিষয়ে সেমিনার থাকবে। বিনিয়োগকারীরা এর মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন 

অর্থসূচক আয়োজিত ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৬ এ বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের নতুন ব্র্যান্ডিং ও সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারহাউজ, অ্যাসেট ম্যানেজার, লিস্টেড কোম্পানিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার অংশ নেবে। অনেকগুলো সেমিনার থাকবে এক্সপোতে, যার মধ্যে দুটি থা্কবে বিনিয়োগের কলাকৌশল সংক্রান্ত। এটি বিনিয়োগকারীদের কাজে আসতে পারে।

উল্লেখ, আগামী নভেম্বর মাসে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে তিনদিনব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ