‘জনগণের নয়; কোম্পানির স্বার্থ দেখছে সরকার’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘জনগণের নয়; কোম্পানির স্বার্থ দেখছে সরকার’

রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানি ও সরকার এক হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জনগণের স্বার্থকে তুচ্ছ করে কোম্পানির স্বার্থই দেখছে সরকার। সুতরাং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবন রক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ আয়োজিত ‘সুন্দরবনের উপর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব’ শীর্ষক বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এসময় সরকারকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিকল্প চিন্তা করার পরামর্শ দেন বক্তারা। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণ এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনা করছে না বর্তমান সরকার। কোম্পানির স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে তারা।

rampal

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ আয়োজিত ‘সুন্দরবনের উপর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব’ শীর্ষক বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত সভা।

তিনি বলেন, সরকার ও তার অনুসারীরা টাকা এবং স্বার্থের লোভে বুদ্ধি-জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। এই প্রকল্পের পক্ষে তাদের কাছে উপযুক্ত কোনো যু্ক্তি নেই; আছে শুধু একঘেয়েমিতা। কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি উপাত্যই তাদেরকে খুশি করতে পারবে না।

আনু মোহাম্মদ বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ এবং সুন্দরবনে তা কতটুকু বিরূপ প্রভাব ফেলবে সে সম্পর্কে তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র উপলব্ধি নেই। তারা বিভিন্ন মনগড়া কথা বলে জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে।

জলবায়ুর ক্ষেত্রে সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সুন্দরবনের জন্যই মূলত উপকূলীয় অঞ্চল এখনও টিকে আছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকেও সুন্দরবন আমাদেরকে রক্ষা করে। কিন্তু রামপাল প্রকল্পের মাধ্যমে দেশ, দেশের সুনাম এবং জীববৈচিত্রকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সরকার।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের কিছু বিজ্ঞানী মুনাফার দাসত্বে পরিণত হয়েছেন। তারা অর্থের লোভে দায়িত্বহীনতা এবং কর্তব্যহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এ অধ্যাপক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এখন কয়লা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। আর আমাদের সরকার সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৎপর।

তিনি বলেন, কয়লা জাতীয় পদার্থের মাধ্যমেই পৃথিবীতে প্রথম অর্সেনিক রোগের আবির্ভাব ঘটে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হলে আর্সেনিকের পরিমাণ এবং বাতাসে কার্বনের পরিমাণ প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যাবে; এটা সুন্দরবন ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বাশার বলেন, বিজ্ঞানের কাজ হচ্ছে, সত্যের রহস্য উদঘাটন করা; প্রকৃত তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা। প্রকৃত তথ্য উপাত্তের পরিসংখ্যান না থাকলে কোনো প্রকল্পের গ্রহণযোগ্য হয় না।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ বন নেই। এমন ম্যানগ্রোভ বনের ইকোসিস্টেম, স্পিসিস এবং জেনেটিক নামের ৩টি বৈশিষ্ট রয়েছে। যাতে কোনো ধরনের আঘাত লাগলে তা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই ৩টি বৈশিষ্টের ওপর চরম আঘাত লাগবে।

জালানি বিশেষজ্ঞ বি.ডি. রহমতুল্লাহ বলেন, পরিবেশ এবং ভূ-প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হলে কয়লাভিত্তিক সব প্রকল্প পরিহার করতে হবে। রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু সুন্দরবনই ধংস হবে না; পুরো বাংলাদেশ ধ্বংসের মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, কয়লার কারণে বিশ্বজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। তাই উন্নত দেশগুলো এর বিকল্প পথ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। ভারত, চীন এবং অষ্ট্রেলিয়াসহ যে দেশগুলো কয়লার জন্য বেশি তৎপর ছিল তারাই এখন এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে আমরা সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, এই ধ্বংসমুখী প্রকল্পের পক্ষে সরকারের কাছে কোনো যুক্তি-উপাত্য নেই। সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তি কিংবা যু্ক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া- কোনোটিই গ্রহণ করছে না সরকার।

তিনি বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের জন্য ভারতীয় হাই-কমিশনারের মাধ্যমে আগামীকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি দেওয়া হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বসে কীভাবে এই প্রকল্প বন্ধ করা যায়- সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হবে এতে।

বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রহমনের সভাপতিত্বে এ মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদা রশিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল মতিন, পানি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের উপদেষ্টা রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ