দ্বিতীয় দিনে জমজমাট জাতীয় ফার্নিচার মেলা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দ্বিতীয় দিনে জমজমাট জাতীয় ফার্নিচার মেলা

ইট-পাথরের শহরে সারা দিনের ক্লান্তি শেষে বিশ্রামের একমাত্র স্থান আপন ঘর। আর প্রিয় ঘরকে মনের মতো সাজাতে অর্থ ও সময় ব্যয়ে কার্পন্য করেন না কেউ। রাজধানীবাসীর ঘর সাজানোর কাজটাকে আরও সহজ ও সাবলীল করে দিতে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় জাতীয় ফার্নিচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারের (ডিটিসি) সহোযগিতায় বাংলাদেশে ফার্নিচার ইন্ডাজস্ট্রিজ ওনার্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে ১৩তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার স্লোগান, আমার দেশ আমার আশা; দেশীয় ফার্নিচারে সাজাবো বাসা। ২৫টি দেশীয় ব্র্যান্ড এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে।

মেলার দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণে পছন্দের ফার্নিচার কিনতে ভিড় করছেন রাজধানীবাসী। সকাল থেকেই বেশ জমে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুট থাকায় প্রথম দিনের তুলনায় আজ একটু বেশিই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, মেলায় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে।

furniture-fair

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় আয়োজিত ১৩তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার একাংশ। ছবি: মহুবার রহমান

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে দোকান মালিকরা বলছেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। দামের বাইরে বেশি বা কমে বিক্রির কোনো সুযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে কেউ কেউ মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় এবং পুরস্কার দিচ্ছেন।

মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে ছেলের বৌ এবং নাতিকে নিয়ে মেলায় এসেছেন ইসমত আরা বেগম। তিনি অর্থসূচককে বলেন, সাধারণ দোকানের তুলনায় মেলায় প্রতিটি পণ্যের দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। মেলায় বিক্রির জন্য রাখা একটি আলমিরা দেখিয়ে বলেন, ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় এমন আলমিরা পাওয়া গেলেও এখানে এর দাম ১৬ হাজার টাকা লেখা হয়েছে।

তবে দামের বিষয়ে সব ক্রেতাই এমন অভিযোগ করছেন না। স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাড্ডা থেকে মেলায় আসা আতাউল করিম বলেন, যেকোনো মেলায় পণ্যের দাম একটু বেশি থাকে। মেলার স্টলসহ সার্বিক খরচের জন্যই এমন হয়। মেলার উপকারিতা হলো, অনেকগুলো শো-রুম একসঙ্গে পাওয়া এবং যাচাই করে পণ্য কেনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, এমন মেলার উদ্যোগ দেশের জন্য ভালো। শুধু ঢাকাতে এমন আয়োজন না করে; ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও এমন আয়োজন করা উচিৎ।

furniture-fair2

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় আয়োজিত ১৩তম জাতীয় ফার্নিচার মেলার একাংশ। ছবি: মহুবার রহমান

হোম ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেলসের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ কবির অর্থসূচককে বলেন, উদ্যোগটা অনেক ভালো। মূলত বিভিন্ন জিনিস দেখতে এসেছি; পছন্দ হলে অবশ্যই কিনবো।

পারটেক্স ফার্নিচারের সেলস ম্যানেজার মাহবুব আল হাসান বলেন, দর্শনার্থী থাকলে তুলনামূলকভাবে ক্রেতা কম। এবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা শহরের অনেকটা একপ্রান্তে। শহরের অধিকাংশ মানুষ এদিকে আসতে চায় না বলেই বিক্রি কম।

দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী দাম রাখছি। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন পণ্যে মূল্যছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

বাংলাদেশে ফার্নিচার ইন্ডাজস্ট্রিজ ওনার্স এসোসিয়েশনের মেম্বার এবং হাইটেক ফার্নিচারের কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হোসেন বলেন, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে এবারই প্রথম আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে এ মেলা বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছিল। জায়গা পরিবর্তন হওয়ায় ক্রেতা কমেছে। এখানে সব শ্রেণির ক্রেতা আসছেন না। রাজধানীবাসীর মধ্যে যাদের ব্যক্তিগত পরিবহন আছে, তাদের উপস্থিতি এখানে বেশি।

দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিক্রয় কেন্দ্র এবং মেলায় পণ্যের দামে কোনো পার্থক্য নেই। মেলা উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি স্টলে মূল্যছাড় ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

নাজমুল হোসেন বলেন, পণ্য বিক্রি করা অমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য না। ফার্নিচার শিল্পকে গার্মেন্টস শিল্পের মতো প্রতিষ্ঠিত করা এবং পণ্যের কোয়ালিটি নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশীয় ফার্নিচারকে বিকশিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

অর্থসূচক/মুন্নাফ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ