বিনিয়োগ করবেন কোন সঞ্চয়পত্রে?
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
কোন সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কতো

বিনিয়োগ করবেন কোন সঞ্চয়পত্রে?

ব্যাংক আমানতের সুদ হার কমেই চলেছে। বেশিরভাগ ব্যাংকে মেয়াদী আমানতের (Fixed Deposit Reciept-FDR) সুদ হার নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি। এর উপর আছে উৎসে আয়কর। এই কর কেটে নেওয়ার পর আমানতকারীর ভাগে পাঁচ শতাংশ মুনাফাও জোটে না। অথচ অনেকে পেনশনের টাকা, জমি বা সম্পদ বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তার সুদের টাকায় সংসার চালিয়ে থাকেন। ব্যাংক আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় এরা পড়েছেন মহাসংকটে।

ব্যাংকের বাইরে শেয়ারবাজার কিংবা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। এছাড়াও আছে পদে পদে ঝক্কি, লোকসান কিংবা প্রতারণার ঝুঁকি। অনেকেই এ ঝুঁকি নিতে চান না। মুনাফা কম হলেও হন্যে হয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র খোঁজেন। তাদের জন্য সঞ্চয়পত্র হতে পারে আদর্শ বিকল্প। আপনাদের জন্য দেওয়া হল সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কিছু তথ্য:

সঞ্চয়পত্রের প্রকার:

বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র; তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র,পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র।

এর বাইরে আছে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে বিনিয়োগ সুবিধা।

সঞ্চয়পত্রের বিক্রয় কেন্দ্র:

বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল শাখা অফিস, সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের অধীন ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো অফিস এবং সারাদেশে ডাকঘরে  সঞ্চয়পত্র কিনতে পাওয়া যায়।

যারা কিনতে পারেন :

প্রকল্পগুলোর মধ্যে শুধু পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবাই কিনতে পারেন। অন্য সঞ্চয়পত্রগুলো বিশেষ টার্গেট গ্রুপের জন্য নির্ধারিত।

এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র ১৮ বা তারচেয়ে বেশি বয়সী যে কোনো বাংলাদেশী মহিলা, যে কোনো বাংলাদেশী শারীরিক প্রতিবন্ধী (পুরুষ ও মহিলা) এবং ৬৫ ও তার বেশি বয়সের যে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক (পুরুষ/মহিলা) শুধু একক নামে কিনতে পারেন।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী,আধা-সরকারী,স্বায়ত্তশাসিত,আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী,সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং উল্লিখিত ক্যাটাগরিতে মৃত চাকুরীজীবীর পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী/স্ত্রী/সন্তান।

তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সকল শ্রেণী/পেশার বাংলাদেশী নাগরিক একক বা যুগ্ম নামে কিনতে পারেন।

সঞ্চয়পত্র কিনতে যেসব ডকুমেন্টস লাগে:

বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্রের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হয়। সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের জন্য ক্রেতার দুই কপি ছবি, তার জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রের ফটোকপি জমা দিতে হয়। ক্রেতা কোনো নমিনি বা উত্তরাধিকারী দিতে চাইলে তারও দুই কপি ছবি দিতে হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফরমে তার সই প্রয়োজন।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ফরম এর সাথে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুরণকৃত প্রাপ্ত আনুতোষিক ও ভবিষ্য তহবিলের সনদপত্র প্রদান করতে হয় ।

অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক বা শিশুর নামেও সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। চাইলে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে উত্তরাধিকারী মনোনীত করা যায়।

সঞ্চয়পত্র কেনার গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ:

চাইলেই যে কোনো পরিমাণ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায় না। বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্রের সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। এর মধ্যে তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে একক নামে ৩০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেবল একক নামে কেনা যায়। এই দুটি সঞ্চয়পত্রের অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা যথাক্রমে ৪৫ ও ৫০ লাখ টাকা।

সঞ্চয়পত্রের অন্যান্য সুবিধা:

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বেশ কিছু সুবিধা আছে। এটি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা যায়। হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা পুড়ে গেলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র সংগ্রহ করা যায়।  কোনো কারণে ক্রেতার মৃত্যু হলে তার নমিনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন। এটি মেয়াদ পূর্তির আগেও সম্ভব; আবার চাইলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার সুযোগও আছে।

৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

মূল্যমানঃ ১,০০,০০০ টাকা; ২,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা।

Savings-01Savings-02

৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

মূল্যমানঃ ১০ টাকা; ৫০ টাকা; ১০০ টাকা; ৫০০ টাকা; ১,০০০ টাকা; ৫,০০০ টাকা; ১০,০০০ টাকা; ২৫,০০০ টাকা; ৫০,০০০ টাকা; ১,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা।

saving-rate

পরিবার সঞ্চয়পত্র

মূল্যমানঃ ১০,০০০ টাকা; ২০,০০০ টাকা; ৫০,০০০ টাকা; ১,০০,০০০ টাকা; ২,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা।

 family-saving-01
family-saving-02

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

মূল্যমানঃ ৫০,০০০ টাকা; ১,০০,০০০ টাকা; ২,০০,০০০ টাকা; ৫,০০,০০০ টাকা এবং ১০,০০,০০০ টাকা

penshion-saving

penshion-saving-02

penshion-saving-03

ওয়েজ আর্নাার বন্ড:

এই বন্ডের মেয়াদ ৫ বছর। বার্ষিক সুদের হার ১২ শতাংশ। প্রতি ছয় মাস পর পর সুদ তুলে নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে বিনিয়োগকারী মেয়াদ পূর্তির আগে সুদ উত্তোলন না করলে তা মূল টাকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পাওয়ার সুযোগ আছে।

তবে চাইলেই সবাই ওয়েজ আর্নার বন্ড কিনতে পারেন না। সরকারি-বেসরকারিভাবে যেসব বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত তারা অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধির নামেই কেবল এই সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।

বিদেশ থেকে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা অথবা ওই মুদ্রা রূপান্তরের বিপরীতে প্রাপ্ত টাকায় ওয়েজ আর্নার বন্ড কেনা যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার ড্রাফট, টিটি ইত্যাদির মাধ্যমেও এই বন্ড কেনার সুযোগ রয়েছে।

এই বন্ড কেনার কোনো উর্ধসীমা নেই অর্থাৎ চাইলে যে কোনো পরিমাণ অর্থের বন্ড কেনা সম্ভব। উল্টো বেশি কিনলে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বাংলাদেশী ৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা তারচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থের বন্ড কিনলে সিআইপি মর্যাদা পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ