আইপিওতে ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বেঙ্গল পলি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আইপিওতে ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বেঙ্গল পলি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেড। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসবে এই কোম্পানিটি। এর অংশ হিসেবে আজ রোববার রোড শোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের লেক শোর হোটেলে এই রোড শো অনুষ্ঠিত হয়।

bengal-poly

বেঙ্গল পলির রোড শো

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসই) অনুমতি পেলে প্রথমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করবে। পরে সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে। যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সে দামে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য যতগুলো শেয়ার বিক্রি করা প্রয়োজন, ততগুলো শেয়ার ইস্যু করবে কোম্পানিটি।

বেঙ্গল পলি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রায় ৬২ শতাংশ তথা ৩৪ কোটি টাকা ব্যয় করবে ব্যবসা সম্প্রসারণে। এই অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি তৃতীয় ইউনিট স্থাপন করবে, যেখানে জাম্বু সাইজ (বড় আকারের) পলি ব্যাগ উৎপাদন করবে। এই ইউনিট হবে শতভাগ রপ্তানিমুখী-রোড শোতে এমটিই জানানো হয়েছে।

কোম্পানিটি আইপিওর ৩২ শতাংশ অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবে, এর পরিমাণ ১৮ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের মধ্য থেকে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় করা হবে নতুন যন্ত্রপাতি আমদানিতে।  জমি ও কারখানা ভবনের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। গভীর নলকূপ স্থাপনে ১০ লাখ টাকা, বৈদ্যতিক তার ও লাইন স্থাপনে দেড় কোটি টাকা। সাব স্টেশন ও অন্যান্য বিষয়ে ২ কোটি টাকা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ১৮ কোটি  টাকা।

কোম্পানির ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে আইপিও প্রক্রিয়ার জন্য।

যেসব মেশিন কেনা হবে তার মধ্যে রয়েছে, টেপ লাইন ৯০০ কেজি, সিমেন্ট ব্যাগ তৈরিতে লুম নোভা-৬, সাদা ব্যাগ তৈরিতে নোভা-৬ এবং অটো কাটিং অ্যান্ড সুইমিং মেশিন। যা কোরিয়া, চীন, জাপান ও তাইওয়ান থেকে আমদানি করা হবে।

কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ২৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস (ওয়েটেড এভারেজ) হয়েছে ২ টাকা ৭১ পয়সা। যা আগের বছর এই ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৩৫ পয়সা।

আলোচ্য বছরে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সর্বশেষ সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৯৭ পয়সা। আর সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন বাদ দিলে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হয় ২২ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটি মূলত পলি ব্যাগ, সিমেন্ট ব্যাগ, সাদা ব্যাগ, মাছ ও মুরগীর খাবারের ব্যাগ ও এফআইবিসি বা জাম্বু ব্যাগ তৈরি করে। জাম্বু ব্যাগ শতভাগ রপ্তানিমুখী।

রোড শোতে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম বলেন, আমরা কোম্পানির ব্যবসাকে পরিশ্রম করে এগিয়ে নেব। এতে আমরা মুনাফা করতে পারবো পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরাও মুনাফার ভাগ পাবেন। আমি মনে করি সৎভাবে ব্যবসা করতে পারলে কোম্পানি তার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

কোম্পানির পরিচালক হুমায়ন কবির বাবলু বলেন, এখন কোম্পানিটি বার্ষিক ব্যাগ উৎপাদন করে ৬ কোটি পিস। আগামী ডিসেম্বরে এই উৎপাদন আরও বাড়বে। সরকার ঘোষিত পাটনীতির কারণে তাদের ব্যবসায় সামান্য ক্ষতি হয়েছিলো; তবে তা মুনাফাতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। জাম্বু ব্যাগ উৎপাদন পুরোপুরি চালু হলে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

নিয়ম অনুসারে, কোম্পানির কাছে কোনো কিছু জানার থাকলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এর ভিত্তিতে কোম্পানি তার প্রসপেক্টাসে সংশোধনের কিছু থাকলে তা বিবেচনা করবে।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান জসীমউদ্দিন পলি ব্যাগের চাহিদায় পাট নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের কোম্পানির উপর পাট নীতির তেমন বেশি প্রভাব পড়বে না।

সরকার পাট শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন খাতে পলিব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে। এতে পলিব্যাগের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কীভাবে করবে রোডশোতে পিএফআই ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন তা জানতে চান।

বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান জসীমউদ্দিন পলি ব্যাগের চাহিদায় পাট নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের কোম্পানির উপর পাট নীতির তেমন বেশি প্রভাব পড়বে না। যেসব পণ্যে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তারা সাধারণত তা উৎপাদন করেন না। তাদের প্রধান পণ্য হচ্ছে সিমেন্টের ব্যাগ। তাছাড়া সরকার সম্প্রতি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তার যে ঘোষণা দিয়েছে, তার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার খুবই কম। সবগুলো ব্যাংকেই বিপুল তারল্য রয়েছে। এমন অবস্থায় আইপিওর অর্থের এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যয় করা তেমন যৌক্তিক নয়।

এটি ক্যাপিটালের নাফিজ তারেক ঋণ পরিশোধের জন্য আইপিওতে অর্থ উত্তোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার খুবই কম। সবগুলো ব্যাংকেই বিপুল তারল্য রয়েছে। এমন অবস্থায় আইপিওর অর্থের এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যয় করা তেমন যৌক্তিক নয়। এই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা না হলে কোম্পানির মূলধন কম বাড়তো।

ওই প্রশ্নের উত্তরে বেঙ্গল পলির ইস্যু ম্যানেজার আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। সুদ হারের বিষয়টি সাময়িক। তাই এমন স্বল্প সময়ের ভাবনা তারা বিবেচনায় নেয়নি।

বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাককে বাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে পালন করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আর রেজিস্ট্রার টু দ্য ইস্যু হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

রোড শোতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ খান, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের পরিচালক জসিম উদ্দিন, শামসুল আলম, সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ